police lathicharge in malbazar
মালবাজারে পুলিশের লাঠিচার্জ।

ওয়েবডেস্ক: সত্যি হল বিরোধীদের আশঙ্কা। পঞ্চায়েত নির্বাচনে মনোনয়ন নেওয়ার নতুন দিনেও ছবিটা বিশেষ পালটাল না। বরং বিরোধীদের ওপরে শাসকের সন্ত্রাসের পরিমাণ আরও বেড়ে গেল।

হাইকোর্টের নির্দেশে সোমবার নতুন করে মনোনয়ন জমা নেওয়া চললেও রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তেই বিরোধীদের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বীরভূমে একজনের নিহত হওয়ার খবরও পাওয়া গিয়েছে। সব ক্ষেত্রেই অভিযোগের তীর তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে।

সোমবার সব থেকে রক্তাক্ত ঘটনাটির খবর এসেছে বীরভূমের সিউড়ি থেকে। সেখানে তৃণমূল এবং বিজেপির সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন শেখ দিলদার নামক এক রাজনৈতিক কর্মী। তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে তরজা শুরু হয়েছে। বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্যের দাবি, মৃত ব্যক্তি বিজেপির সংখ্যালঘু সেলের নেতা, অন্য দিকে তৃণমূলের অনুব্রত মণ্ডলের দাবি, মৃত ব্যক্তি তাদের কর্মী।

বাঁকুড়া শহরেও এদিন তৃণমূল এবং বিজেপির মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। শহরের নুতনগঞ্জ এলাকায় বিজেপির জেলা পার্টি অফিসে ব্যাপক ব্যাপক ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ভাঙচুরের অভিযোগ তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। ভাঙচুরের পাশাপাশি বিজেপির কর্মী, সমর্থক এবং নেতাদেরও মারধর করা হয়ে বলে অভিযোগ। বিজেপির সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে জেলার তৃণমূল নেতা অরুপ চক্রবর্তী বলেন, তৃণমূল কর্মীরা ওই ঘটনায় যুক্ত নন। বিজেপির গোষ্ঠী সংঘর্ষে এই ঘটনা বলেও দাবি করেন তিনি।

মুর্শিদাবাদের সামসেরগঞ্জে কংগ্রেস সাংসদ আবু হাসেম খান চৌধুরীর গাড়িতে হামলা হয়। কংগ্রেস অফিসে ঢোকার মুখে তাঁর গাড়ি লক্ষ করে ইট-বৃষ্টি, বোমা ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। অন্য দিকে মুর্শিদাবাদেই আক্রান্ত হয়েছেন কংগ্রেস বিধায়ক মনোজ চক্রবর্তী।

আসানসোলে বিজেপি সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়রও আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে। এ ছাড়াও রাজ্যের একাধিক জায়গায় আক্রান্ত হয়েছেন সিপিআইএম প্রার্থীরা। দক্ষিণ ২৪ পরগণা এবং পশ্চিম বর্ধমানে সিপিআইএমের পার্টি অফিস ভাঙচুরের খবর এসেছে।

জলপাইগুড়ির মালবাজারে বিডিও অফিসে মনোনয়নপত্র জমা দিতে গেলে বিজেপি প্রার্থীদের ওপর তৃণমূল কর্মীরা আক্রমণ করে বলে অভিযোগ উঠেছে। মনোনয়নপত্র কেড়ে নেওয়ার পাশাপাশি মারধোর করা হয় বিজেপি কর্মীদের। একই অভিযোগ তুলেছে সিপিএমও।

জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জেও বিজেপি কর্মীদের মারধর করার অভিযোগ ওঠে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। মনোনয়নপত্র জমা দিতে আসা বিজেপি কর্মীদের দু’টি গাড়ি ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ। জমা দিতে দেওয়া হয়নি মনোনয়নপত্রও। সর্বত্রই পুলসিহ নিষ্ক্রিয় ছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ছাড়াও যে অভিযোগ সব থেকে বেশি করা হচ্ছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে সেটা হল বিডিও অফিস নিজেদের দখলে নিয়ে নেওয়া। উত্তরের জলপাইগুড়ি হোক, কী দক্ষিণের হুগলি, একাধিক জায়গাতেই বিডিও অফিস দখলে রাখা হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হচ্ছে। বিডিও অফিস দখল করে নেওয়ার অভিযোগে জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানায় বিক্ষোভ দেখায় বিজেপি। তৃণমূল অবশ্য সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

এ দিকে এই বেলাগাম সন্ত্রাসের অভিযোগে ফের হাইকোর্টের দারস্থ হয়েছে বিরোধীরা। সোমবার সকালেই বিচারপতি সুব্রত তালুকদারের কাছে কমিশনের বিরুদ্ধে নালিশ জানিয়ে মামলা করার অনুমতি চায় কংগ্রেস। দলের তরফে ঋজু ঘোষাল অভিযোগ করেন, কমিশন শীর্ষ আদালত ও সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশ মানছে না।

কমিশনের বিরুদ্ধে আদালতের নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগে বিচারপতি তালুকদারের কাছে মামলার অনুমতি চাইলে, ঋজুর সঙ্গে যোগ দেন বিজেপি, পিডিএস, সিপিআই এবং সিপিএমের প্রতিনিধিরা। তাঁরাও একই অভিযোগ তুলে আলাদা আলাদা আবেদন জানান। বিচারপতি সবার বক্তব্য শুনে মামলার অনুমতি দেন। মূল পঞ্চায়েত মামলার সঙ্গেই যুক্ত করা হবে এই আবেদনগুলিকে। মঙ্গলবার সকালেই সেই মামলা শুনবেন বিচারপতি।

আইনজীবীদের ধারণা, সোমবার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়াকে ঘিরে রাজ্য জুড়ে যে অশান্তির ছবি দেখা গেল, তা মঙ্গলবার আদালতে বিরোধীদেরই হাত শক্ত করবে। কারণ, আদালত কমিশনকেই দায়িত্ব দিয়েছিল যাতে সবাই বিনা বাধায় মনোনয়নপত্র দাখিল করতে পারেন। কিন্তু বাস্তবে সোমবারের চিত্র দেখা গেল সম্পূর্ণ উল্টো।

তথ্য সহায়তা: ইন্দ্রাণী সেন, তিতাস পাল।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here