মোর্চার বন্‌ধে অশান্তি, পথে নামলেন মুখ্যমন্ত্রী

0
380

দার্জিলিং: শুক্রবারও শান্ত থাকল না পাহাড়। মোর্চার ডাকা ১২ ঘণ্টার বন্‌ধে ছড়াল বিক্ষিপ্ত অশান্তি। পথে নামলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে।

অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির জেরে বৃহস্পতিবারই পাহাড়ের দখল নিয়েছিল সেনাবাহিনী। শুক্রবার সারা দিন চলল তাদের নজরদারি। সঙ্গে ছিল সশস্ত্র রাজ্য পুলিশও। তার মধ্যেই দার্জিলিং, কালিম্পং, কার্শিয়ং-এ পিকেটিং চালাল মোর্চা সর্মথকেরা। অভিযোগ, অনেক জায়গাতে জোর করে দোকান-বাজার বন্ধ করে দেওয়া হয়। বেশ কয়েকটি গাড়িও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে। মংপুর নির্মীয়মাণ আইটিআই ভবনে আগুন লাগানোর অভিযোগ উঠেছে মোর্চা সমর্থকদের বিরুদ্ধে। সেটি সম্পুর্ণ পুড়ে গিয়েছে। সেখানকার শ্রমিকদের মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ।

দার্জিলিং-এর রাস্তায় সেনা টহল।

বৃহস্পতিবার গণ্ডগোলের পর দার্জিলিং-এর জন্য দু’ কলম সেনা তলব করেন মুখ্যমন্ত্রী। শুক্রবার আরও ছয় কলম বাড়তি সেনা তলব করা হয়। দার্জিলিং শহরে তিন কলম, কারশিয়াং-এ এক কলম এবং পার্শ্ববর্তী কালিম্পং জেলায় চার কলম সেনা নামানো হয়।

শিলিগুড়িতে ফিরছেন পর্যটকেরা।

এই বন্‌ধ মানা হবে না বলে কালই হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। শুক্রবার পরিস্থিতি দেখতে তিনি নিজেই পথে নামেন। কথা বলেন পর্যটকদের সঙ্গে। বৃহস্পতিবার রাত থেকেই অনেক পর্যটক পাহাড় ছাড়তে শুরু করেন। শুক্রবার সকালে পর্যটকদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে পুলিশি পাহারায় বিশেষ বাসের ব্যবস্থা করা হয় পর্যটকদের সমতলে পৌঁছে দিতে। যাঁরা কলকাতায় ফিরতে চান তাঁদের জন্যও বিনা ভাড়ায় বাসের ব্যবস্থা ছিল। পরিস্থিতি বিচার করে বাগডোগরা বিমানবন্দরের লাউঞ্জ সকাল ৬টাতেই খুলে দেওয়া হয়। ফিরে আসতে পারলেও দু’দিনের এই চরম ভোগান্তি ভুলতে পারছেন না পর্যটকেরা। এর পর পাহাড়ে আসার আগে ভাবতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন অনেকেই। গত কাল যে সব পুলিশ কর্মী আহত হয়েছিলেন তাঁদের মধ্যে কয়েক জনকে চিকিৎসার জন্য কলকাতায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ভরা পর্যটন মরশুমে এই পরিস্থিতি মেনে নিতে পারেননি রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। শুক্রবার কখনও হেঁটে কখনও আবার গাড়িতে করে নিজেই নজরদারি চালান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মাইক হাতে তুলে নিয়ে সাধারণ মানুষ ও পর্যটকদের নির্ভয়ে থাকার কথা বলেন তিনি। এক ফাঁকে রিচমন্ড হিলে প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। তাঁর নির্দেশে শুক্রবারই পাহাড়ে পৌঁছেছেন রাজ্যের তিনি অভিজ্ঞ আইপিএস অফিসার সিদ্ধিনাথ গুপ্তা, জাভেদ শামিম এবং অজয় নন্দা। তাঁদের নিয়ে একটি কমিটি তৈরি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁরা বৃহস্পতিবারের ঘটনার কার্যকারণ তদন্ত করবেন।

শুক্রবারের বনধ নিয়ে কলকাতা উচ্চ আদালতে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়েছে, সেখানে এই বন্‌ধকে অসাংবিধানিক বলা হয়েছে। সূত্রের খবর, পাহাড়ের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠিও।

এ দিকে ভানু ভবন আগামী দু’মাসের জন্য সিল করে দিয়েছে দার্জিলিং জেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার এখান থেকেই ছড়িয়েছিল অশান্তি। প্রায় হাজার দুয়েক মোর্চা সমর্থক ছিলেন এই ভানু ভবনে। অভিযোগ, অশান্তি পাকানোর জন্য প্রচুর অস্ত্র এখানেই মজুত করা হয়েছিল। তা ছাড়া এখানেই রয়েছে বিমল গুরুং-এর নিজস্ব দফতরও। শুক্রবার জানানো হয়েছে, আগামী দু’ মাস কেউ এখানে প্রবেশ করতে পারবে না। আইন ভাঙলে ১০০০ টাকা জরিমানা-সহ ৬ মাসের জেল হতে পারে বলে নোটিসে জানানো হয়েছে। যদিও এর বিরোধিতা করেছেন বিমল গুরুং। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, প্রয়োজনে জোর করে সেখানে ঢুকবেন। বৃহস্পতিবারের অশান্তির দায় এড়াতে তাঁর অভিযোগ, পরিকল্পনা করে তৃণমূল কর্মীরাই গণ্ডগোল পাকিয়েছিল।

যদিও এই সব হুঁশিয়ারিতে আর পিছু হটতে রাজি নন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি  স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, পাহাড়ের বিষয়ে রাজ্য এবং কেন্দ্র যথেষ্ট আপস করেছে। কিন্তু তার একটা সীমা থাকা দরকার। গুরুংকে চাপে ফেলতে জিটিএ-র আর্থিক খতিয়ান প্রকাশ্যে আনার উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। এখনও পর্যন্ত কেন্দ্র এবং রাজ্য মিলিয়ে প্রায় ২০০০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে জিটিএ-কে। অনেক আগেই অভিযোগ উঠেছিল এর মধ্যে কয়েকশো কোটি টাকা নয়ছয় করেছে জিটিএ। তার তদন্ত করতে এই অশান্ত পরিস্থিতিতেই ৬ সদস্যের একটি স্পেশাল অডিট টিম  শুক্রবার পাহাড়ে পৌঁছেছে। জিটিএ গঠনের পর থেকে গত আর্থিক বর্ষের সমস্ত হিসেব খতিয়ে দেখবে তারা। সেই সমস্ত তথ্য চাওয়া হয়েছে জিটিএ-র কাছে।

এক দিকে অশান্ত পরিস্থিতি, অন্য দিকে আর্থিক তছরুপের অভিযোগ। তার মধ্যে রয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের দাবি এবং পাহাড়ে তৃণমূলের রাজনৈতিক ক্ষমতা বৃদ্ধি। সব মিলিয়ে চাপে পড়া বিমল গুরুং বৃহস্পতিবার ফের নতুন করে আলাদা গোর্খ্যাল্যাণ্ডের দাবি তুলেছেন। এই বিষয়ে আন্দোলনের পরবর্তী রূপরেখা তৈরি করতে শনিবার মোর্চার কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠক ডেকেছেন। সব মিলিয়ে পাহাড় পরিস্থিতি এখন কোন দিকে যায় সেটাই দেখার।

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here