খবর অনলাইন ডেস্ক: আগামী ১৮মে বিকেল ৪টেয় যে আলোচনাসভা হওয়ার কথা ছিল। তার বিষয় ছিল, ‘বিজেপি কেন পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভোটে জিততে পারল না’। বিতর্কের মুখে সেই সেমিনার বাতিল হল।

উপাচার্যর নামে ভার্চুয়াল সেমিনারের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয় বিশ্বভারতীর ওয়েবসাইটে। যা নিয়ে শুরু হয় তুমুল বিতর্ক। সমালোচনার আঙুল ওঠে উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর দিকে। বিতর্কের মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত ওই আলোচনাসভা বাতিল করলেন বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ।

Loading videos...

ঘটনায় প্রকাশ, সেমিনারের বক্তা ছিলেন কেন্দ্রীয় সরকারের নীতি আয়োগের যুগ্ম পরামর্শদাতা অধ্যাপক সঞ্জয় কুমার। বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে ভার্চুয়াল মাধ্যমেই সকলকে আলোচনায় অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। প্রশ্ন ওঠে, কী ভাবে বিশ্বভারতীর মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজ্যের বিধানসভা ভোটে ‘বাংলায় বিজেপির ভরাডুবি’ বিষয়ে সেমিনার হতে পারে!

এমনিতে বছরভর আলোচনাসভা চলে বিশ্বভারতীতে। কিন্তু কোনো রাজনৈতিক দলের হারের খুঁজতে এ ধরনের সেমিনার এই প্রথম। বিষয়বস্তু নিয়ে নিন্দায় সরব হন আশ্রমিক, পড়ুয়াদের একাংশ। নিন্দা করেন বোলপুরের সাধারণ মানুষও।

এই ধরনের দলীয় আলোচনা রবীন্দ্র-ঐতিহ্য বহনকারী বিশ্বভারতীর মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করছে বলে মন্তব্য করেছেন অনেকেই। তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল প্রশ্ন তুলেছেন, “বিজেপির হারের কারণ পর্যালোচনা করবে তাদের দিল্লি নেতৃত্ব, বিশ্বভারতীর সেমিনারে এ বিষয়ে কেন আলোচনা হবে?” পাশাপাশি তিনি উপাচার্যকে ‘পাগল’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, “এ থাকলে পড়াশোনা সব ডকে উঠে যাবে। একে অবিলম্বে সরানো উচিত”।

ছাত্র-ছাত্রীদের অভিযোগ, বিশ্বভারতীকে ব্যবহার করে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থপূরণের চেষ্টা চলছে। বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে নিন্দার ঝড় ওঠার পর বিজ্ঞপ্তিগুলো ওয়েবসাইট থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়তে পারেন: কোভিডের কারণে পোলিং অফিসারের মৃত্যু হলে কমপক্ষে এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ, পর্যবেক্ষণ হাইকোর্টের

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.