“মাংস-ভাত দিয়ে বলত, আমাকে ভোট দিবি! ইবার আর ভোট কাকেও দিব নাঁঞ”

0

সমীর মাহাত: জঙ্গল মহলের নিচু তলার একাংশে এ বারে ভোট দানে অনীহা স্পষ্ট হয়ে ধরা পড়ছে। এক অন্ধ লোধা শবর মেয়ের কথায় উঠে এল, সেই অনীহার বিচ্ছিন্ন কারণ।

সর্বত্রই ভোট প্রচারে যখন হুলস্থুল, সেই সময় একমাত্র অবলম্বন মাকে নিয়ে ভিক্ষাবৃত্তিতে বেরিয়ে পড়েন এই লোধা শবর মেয়েটি। সামনেই যে ভোট আসছে! উত্তরে মেয়েটি বলেন, “ইবার আর ভোট কাকেও দিব নাঁঞ। ভোটের দিন মা-বিটি বনে চলে যাব”।

Loading videos...

এই চিত্র ধরা পড়েছে ঝাড়গ্রাম লোকসভা কেন্দ্রর ঝাড়গ্রাম ব্লকের পূর্বশোল গ্রামে। এই গ্রামের অন্ধ লোধা শবর মেয়ে আরতি মল্লিক, তাঁর মা বুদরিকে সঙ্গে নিয়ে রোজ পাশের গ্রামগুলিতে ভিক্ষে করতে বেরিয়ে পড়েন। রেশনে সপ্তাহে দু’জনের ৪ কেজি চাল পান। তাতে দিন চলে না। তাঁদের কথামতো, ভোটে অনীহার অন্যতম ক্ষোভ, মেয়েটি মাসে ৬০০ টাকা হিসেবে প্রতিবন্ধী ভাতা পেতেন। টানা চার মাস তা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এতকাল ভোটবাবুরা কিছু “খানাপিনা”র বিনিময়ে ভোট চাইত এঁদের কাছে।

আরতির কথায়, “মাংস-ভাত দিয়ে বলত, আমাকে ভোট দিবি। ভোট ফুরালে কানা, ল্যাংড়া- কাকেও দেখার কেউ নাই। এই বারে কেউ খরায় মরুক, আর তাতিয়ে (জ্বর) মরুক, কেউ ঘুরে ভালে নাই।” এরই পাশাপাশি সবাই যাতে অবাধে নিজের ভোট নিজে দিতে পারে প্রশাসন প্রচারের ব্যবস্থা করেছে।

পাশাপাশি, রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, নিচু তলার এই ধরনের বিক্ষিপ্ত ক্ষোভ-বিক্ষোভগুলি ও ভোটের সময় প্রভাব ফেলে। কেন না, গত লোকসভা নির্বাচনে ঝাড়গ্রাম কেন্দ্রে ‘নোটা’তেই ভোট পড়ে ছিল ২২ হাজার ৯৩৫টি ভোট। যা বিভিন্ন নির্দল প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোটের তুলনায় অনেক বেশি।

এ ব্যাপারে, এই এলাকার উপপ্রধান মহাশিস মাহাতো বলেন, “এই ধরনের ভাতাগুলি এককালীন ৩-৪ মাস অন্তর পায় বলে জানি, হয়তো তাঁরা পেয়ে যাবেন। তবে কেন্দ্র সরকারের আর্থ সামাজিক সমীক্ষার পর বহু বিপিএল মানুষ সমস্যায় পড়েছিলেন। ঝাড়গ্রাম ব্লকেরই সাড়ে তিনশো ভাতা প্রাপক সমস্যায় পড়ে ছিলেন। রাজ্য সরকার বহু প্রচেষ্টা চালিয়ে এই সমস্যার সুরাহা করে”।

এ ব্যাপারে এই এলাকার অঞ্চল প্রধান কল্যাণী মুদি বলেন, “প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকের কাছে খোঁজ নিয়ে দেখব কেন ভাতা আটকে রয়েছে”।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.