civic combat force, jalpaiguri

নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি: নির্বাচন এলেই অনেক নতুন ভাবনাচিন্তার উদ্ভাবন হয়। এ বছরের নির্বাচনে তার নবতম সংযোজন ‘সিভিক কমব্যাট ফোর্স’। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির কথায় ‘বহুরূপী বাহিনী’।

জলপাইগুড়ির বাহাদুর গ্রাম পঞ্চায়েত। বুধবার দুপুরে গ্রামের রাস্তায় খাকি উর্দিধারী পুলিশকে দেখা যায় টহল দিতে। ছিলেন কোতোয়ালি থানার আইসি বিশ্বাশ্রয় সরকার। সঙ্গে কালো পোশাক পরিহিত, মাথায় কালো ফেট্টি পরা, মুখ কালো কাপড়ে ঢাকা বাহিনী। মুখেমুখে রটে যায় গ্রামে কেন্দ্রের ‘কমান্ডো বাহিনী’ এসেছে। খবর শুনে বিভিন্ন দলের নেতারাও আসেন ব্যাপার কী দেখতে। তবে সামনে যাওয়ার সাহস হয়নি। দূর থেকেই তাঁরা কমান্ডো বাহিনীর কাণ্ডকারখানা দেখতে থাকেন। অনেকেই বলাবলি করেন, নির্বাচনের আগে কেন্দ্রীয় বাহিনী, কমান্ডো ফোর্স আসবে এ আর বড় কথা কী। তবে যাঁরা একটু দেশ-দুনিয়ার খবর রাখেন, তাঁদের কাছে বিষয়টি অদ্ভুত ঠেকে। কারণ নির্বাচনে কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়োগ হবে এমন কোনো নির্দেশ এখনও হয়নি।তবে? এরা কারা? কোথা থেকে এল?

শুধু বাহাদুর নয়, গড়ালবাড়ি, খড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েত সহ ডুয়ার্সের বিভিন্ন গ্রামে বুধবার এই কালো কাপড় বাহিনী রুট মার্চ করেছে। তাদের সঙ্গে ছিল পুলিশও।

অনেক খোঁজখবরের পর রহস্য উদঘাটন হয়। কেন্দ্রীয় বাহিনীও নয়, নয় কমান্ডোও। এমনকি পুলিশও নয়। এরা সিভিক  ভলান্টিয়ার। উত্তর পাওয়ার পর ফের প্রশ্ন, তা এদের এমন সাজপোশাক কেন?

উত্তর পাওয়া গিয়েছে জলপাইগুড়ির পুলিশ সুপার অমিতাভ মাইতির কাছে। তিনি জানিয়েছেন, জেলার প্রতিটি থানার ২৫ বা ১৫ জন সিভিক ভলান্টিয়ারকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়ে এই বাহিনী তৈরি করা হয়েছে। নাম দেওয়া হয়েছে ‘সিভিক কমব্যাট ফোর্স’।

এদের কাজ? নির্বাচনের সময় গ্রামাঞ্চলে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখা, জানিয়েছেন পুলিশ সুপার। নির্বাচন শেষ হওয়া পর্যন্ত গ্রামে গ্রামে রুট মার্চ করবে এই ফোর্স। নজরদারি চালাবে পঞ্চায়েত এলাকায়।

বিরোধীরা কিন্তু ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে এই সিভিক কমব্যাট ফোর্স নিয়ে। আদৌ এই ভাবে এই ধরনের পোশাক পরিয়ে সিভিক ভলান্টিয়ারদের দিয়ে কাজ করানো যায় কি, প্রশ্ন সিপিএমের জেলা সম্পাদক সলিল আচার্যের। তাঁর বক্তব্য, সিভিকদের কাজের এক্তিয়ার সীমিত। সলিলবাবুর অভিযোগ, এক দিকে কেন্দ্রীয় বাহিনীর মতো পোশাক পরিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে, আবার মুখে কাপড় বেঁধে টহল দিয়ে গ্রামের মানুষদের আতঙ্কিত করা হচ্ছে। শাসক দলের নির্দেশেই পুলিশ এই কাজ করেছে বলে অভিযোগ তাঁর।

আরও একধাপ এগিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলেছে বিজেপি। জেলা বিজেপি সভাপতি দেবাশিস চক্রবর্তীর দাবি, “বেছে বেছে তৃণমূল কর্মীদের সিভিক ভলান্টিয়ার হিসেবে নিয়োগ করেছে রাজ্য সরকার। এখন নির্বাচনের সময় তাদেরই প্রশিক্ষণ দিয়ে গ্রামাঞ্চলে সন্ত্রাসের বাতাবরণ তৈরি করতে এই ভাবে কাজে লাগানো হচ্ছে। সিভিক ভলান্টিয়ারদের এই ভাবে ব্যবহার করা বেআইনি বলে অভিযোগ জানিয়ে বিজেপি সভাপতির হুঁশিয়ারি, এর বিরুদ্ধে আদালতে যাবেন তাঁরা।

বলাই বাহুল্য, এর মধ্যে এত বিতর্কের কিছু দেখছে না শাসক দল বা পুলিশ-প্রশাসন। তৃণমূলের জেলা সভাপতি সৌরভ চক্রবর্তী জানিয়েছেন, নির্বাচনে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখাই প্রধান কাজ।তাতে সিভিকদের কী পোশাক পরানো হল তা বড় ব্যাপার নয়। শুধু জলপাইগুড়ি নয়, রাজ্যের অনেক জেলাতেই সিভিক ভলান্টিয়ারদের এই ভাবে ব্যাবহার করা হচ্ছে। এতে বেআইনি বা বিতর্কের কিছু নেই বলে দাবি পুলিশ প্রশাসনের।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here