মাঝেমধ্যে সূর্য উঁকি দিলেও উলম্ব মেঘের কারসাজিতে এখনই ইতি নয়!

0
কলকাতার আকাশ।

নিজস্ব প্রতিবেদন: রবিবারেও কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের দুর্যোগ চলবে বলে জানায় আলিপুর আবহাওয়া দফতর। নিম্নচাপ অক্ষরেখা ও বজ্রগর্ভ উলম্ব মেঘের প্রভাবে,  কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের ছয় জেলায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর।

এ দিন কলকাতা, হাওড়া-সহ চারটি জেলায় দেড়শো থেকে দু’শো মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে বলে অনুমান আবহাওয়াবিদদের। জোয়ার থাকায় কলকাতা বানভাসি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

শুক্রবার রাত থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন কলকাতার বিস্তীর্ণ এলাকা। বেশ কিছু জায়গায় ছাদ ও গাছ ভেঙে পড়ায় আরও বিপত্তি বেড়েছে। জল জমার কারণে ইতিমধ্যে জমা জলে বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে মেটিয়াবুরুজে একজনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

আবহাওয়া দফতর জানায়, “শনিবার থেকে রবিবার ভোর পর্যন্ত, ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস ছিল। কলকাতার উপর উলম্ব মেঘ রয়েছে, যার গভীরতা প্রায় ১০-১২ কিলোমিটার‌। এর প্রভাবে শনিবার সন্ধ্যার পর থেকে বজ্রপাত-সহ অতি ভারী বৃষ্টি হয়েছে বেশ কয়েকটি এলাকায়। কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুরে এর প্রভাব পড়েছে। একই সঙ্গে এর প্রভাবে কলকাতা-সহ এই পাঁচটি জেলায় আগামী সোমবার থেকে ২০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে”।

দক্ষিণবঙ্গে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকলেও, উত্তরবঙ্গে শনিবার বৃষ্টির পরিমাণ কম থাকবে। রবিবার দুপুরের পর থেকে উত্তরবঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে বলে জানিয়েছে হাওয়া-অফিস। তবে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনাই রয়েছে। এ দিকে রবিবার দুপুরের পর থেকে কিছুটা হলেও উন্নত হবে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া । তবে মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে আগামী ২৪ ঘণ্টা দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে বৃষ্টিপাত চলবে বলে জানিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর।

আলিপুর আবহাওয়া দফতরের ভারপ্রাপ্ত অধিকর্তা জি কে দাশ জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গ থেকে বাংলাদেশ পর্যন্ত একটি নিম্নচাপ অক্ষরেখা বিস্তৃত রয়েছে। যার ফলে আগামী রবিবারেও বৃষ্টিপাত চলবে। ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে আগামী ২৪ ঘণ্টা।  পাশাপাশি ২৪ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বইতে পারে।

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছে,  এই ধরনের উলম্ব মেঘ কলকাতার উপর সম্প্রতি তৈরি হয়নি। বহু বছর আগে ৪-৫ কিলো মিটার গভীরতা বিশিষ্ট এই ধরনের মেঘের সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু এত গভীরতার মেঘ সৃষ্টি নজিরবিহীন। যে কারণে এই বজ্রপাত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here