ঝড়বৃষ্টি-তুষারপাতের জের, মার্চ শেষেও আবহাওয়ার ভেলকি রাজ্যে

0
কোথাও তুষারপাত (সান্দাকফু) তো কোথাও শিলাবৃষ্টি (আসানসোল)।

ওয়েবডেস্ক: উত্তরবঙ্গের প্রবল ঝড়বৃষ্টি-তুষারপাতের পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হালকা ঝড়বৃষ্টি হয়েছে দক্ষিণবঙ্গের বেশ কিছু অঞ্চলে। এর জেরে বুধবার সকালে গোটা রাজ্যেই সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় চরম ভেলকি।

বুধবার সকালে শিলিগুড়ির সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে সাড়ে ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ফলে এপ্রিলের ঠিক মুখেই আবার শীত ফিরে এসেছে উত্তরবঙ্গে। পাশাপাশি জলপাইগুড়ি এবং কোচবিহারেও ঠান্ডার আমেজ বেশ ভালোই। এ দিন সকালে কোচবিহারে পারদ রেকর্ড করা হয়েছে ১৪.৬ ডিগ্রি এবং জলপাইগুড়িতে সাড়ে ১৬ ডিগ্রি।

মঙ্গলবারের প্রবল ঝড়বৃষ্টির জন্যই উত্তরবঙ্গের তাপমাত্রার এত বড়ো রকমের পতন। সে দিন সকাল সাড়ে আটটা থেকে শিলিগুড়ির আকাশ কালো করে প্রবল দুর্যোগ শুরু হয়। নেপাল থেকে সেই ঝড় শিলিগুড়ি ঢুকে ধীরে ধীরে কোচবিহার হয়ে অসমের দিকে চলে যায়। তবে তার আগে বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে দিয়ে যায়। শিলিগুড়ি-সহ উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে গাছ পড়ে যায়, চাল উড়ে যায়।

ঝড়ে গাছ উপড়ে পড়েছে শিলিগুড়িতে।

সমতলের যখন প্রবল ঝড়বৃষ্টি, পাহাড়ে তখন তুষারপাত। ঘণ্টাখানেক প্রবল তুষারপাতে পুরোপুরি সাদা হয়ে যায় সান্দাকফু। তুষারপাতের জেরে আটকে পড়েন পর্যটকরা। বরফ পড়ে সিকিম এবং ভুটানের বেশ কিছু জায়গাতেও। এই তুষারপাতের পরে ঠান্ডা হাওয়ার জেরেই উত্তরবঙ্গের পারদে এতটা পতন হয়েছে।

আরও পড়ুন ‘ন্যায়’ প্রকল্প নিয়ে বিরূপ মন্তব্য, নীতি আয়োগের ভাইস চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা কমিশনের

উত্তরবঙ্গের আবহাওয়ার জখন এ রকম ভেলকি দেখিয়েছে, তখন পিছিয়ে নেই দক্ষিণবঙ্গও। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বর্ধমান, বাঁকুড়া, বীরভূম, দুই মেদিনীপুর, হুগলিতে ঝড়বৃষ্টি হয়েছে। শিলাবৃষ্টি হয় পশ্চিম বর্ধমানের কিছু অঞ্চলে। তার জেরেই বুধবার সকালে এক ধাক্কায় অনেকটাই নেমে গিয়েছে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।

এ দিন সকালে দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে সব থেকে কম পারদ রেকর্ড করা হয়েছে কৃষ্ণনগরে। সেখানে তাপমাত্রা ছিল ১৭ ডিগ্রি। এর পরেই রয়েছে পুরুলিয়া (১৭.৪ ডিগ্রি)। শ্রীনিকেতন এবং পানাগড়ে তাপমাত্রা ছিল যথাক্রমে ১৮.৪ এবং ১৮.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাঁকুড়া এবং বর্ধমানে পারদ ছিল ১৮.২ এবং ১৮.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যদিও কলকাতার পারদ এ দিন রেকর্ড করা হয়েছে ২২ ডিগ্রি, কিন্তু উপকণ্ঠের ব্যারাকপুরে তাপমাত্রা ছিল ১৮.৭ ডিগ্রি।

বুধবার সকালেও দক্ষিণবঙ্গে বিক্ষিপ্ত ভাবে ঝড়বৃষ্টির খবর পাওয়া যাচ্ছে। তবে বিকেলের পর আবহাওয়া পরিষ্কার হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা। আগামী কয়েক দিন আবহাওয়া মূলত পরিষ্কার থাকলেও, মার্চের শেষ এবং এপ্রিলের শুরুতে ফের দফায় দফায় দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া থাকতে পারে গোটা রাজ্যে। ঝড়, শিলাবৃষ্টি, বজ্রপাত, সব কিছুই হতে পারে। সান্দাকফুতে আবার তুষারপাত হলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.