উপনির্বাচনের গণনা কেন্দ্রে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা, কার বৃহস্পতি তুঙ্গে?

karimpur

ওয়েবডেস্ক: রাজ্যের তিন বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা আগামী বৃহস্পতিবার। ভোটগণনার দিন যে কোনো ধরনের অবাঞ্ছনীয় ঘটনা এড়াতে গণনাকেন্দ্রগুলিতে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। উপনির্বাচন হলেও লোকসভা ভোটের পর টানটান উত্তেজনা ঘিরে রয়েছে এই তিন কেন্দ্রের ফলাফলকে।

২০২১ সালের রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল ও বিজেপির পক্ষে বাংলার তিনটি বিধানসভা আসনে উপনির্বাচন কার্যত ‘লিটমাস টেস্ট’-এর সমান। অন্য দিকে কংগ্রেস এবং বামফ্রন্ট একত্রিত হয়ে রাজ্যে রাজনীতিতে কতটা প্রাসঙ্গিক থাকবে, সেই প্রশ্নেরও উত্তর মিলতে পারে আগামী কালের ফলাফলে।

ভোটগ্রহণ শেষে নির্বাচন কমিশন জানায়, তিনটি কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হয়েছে। তবে করিমপুরে বিজেপি প্রার্থী জয়প্রকাশ মজুমদারের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা নিয়ে সাময়িক বিতর্কের সৃষ্টি হয়। নিজের কেন্দ্রেই শারীরিক হেনস্থার মুখোমুখি হতে হয় তাঁকে। লাথিও মারা হয়। যে ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় বহুল প্রচারিত হয়।

এ প্রসঙ্গেই নির্বাচন কমিশনকে চিঠি লিখেছেন বিজেপি নেতা মুকুল রায়। ওই চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেছেন, “জনা পঞ্চাশেক তৃণমূলি গুন্ডা বিজেপি প্রার্থী জয়প্রকাশ মজুমদারকেকে ধাক্কা ও লাথি মারে। আমরা এসপি এবং অতিরিক্ত এসপির অপসারণ দাবি করছি”।

তবে এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তৃণমূল মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছিলেন, দেখতে হবে লাথিটা কার? এহেন মন্তব্য নিয়েও বিতর্কের সৃষ্টি হয়। স্বাভাবিক ভাবেই ভোটগণনার দিন অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সামাল দিতে আগেভাগেই কোমর বেঁধে নামছে কমিশন।

বিজেপি প্রার্থী জয়প্রকাশ মজুমদারকে বেধড়ক মার, লাথি মেরে ফেলা হল ঝোপে। বিজেপির অভিযোগ তৃণমূলের দিকে, তৃণমূলের দাবি, বিজেপির নাটক। জানা যায়, এই কেন্দ্রে নির্বাচনের দিন ২৩২টি অভিযোগ জমা পড়ে।
করিমপুরের হোগলবেরিয়ার ১৯৪ নম্বর বুথে বিজেপির বিরুদ্ধে ভোটারকে নিগ্রহের অভিযোগ ওঠে।। বিজেপি কর্মীরা বুথের বাইরে ছিল এবং তাদের দলের পক্ষে ওই ভোটারকে আক্রমণ করা হয় বলে অভিযোগ।

তিনটি কেন্দ্রে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন ১৮ জন প্রার্থী। তবে আলোচনায় রয়েছেন তৃণমূল , বিজেপি এবং বামফ্রন্ট-কংগ্রেস জোট প্রার্থীই।

কালিয়াগঞ্জে বামফ্রন্ট-কংগ্রেস জোটের ভোটপ্রচার

কালিয়াগঞ্জে বামফ্রন্ট সমর্থিত কংগ্রেস প্রার্থী ধীতশ্রী রায়, তৃণমূলের তপন দেব সিনহা এবং বিজেপির কমল চন্দ্র সরকার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই কেন্দ্রের কংগ্রেস বিধায়ক প্রমথনাথ রায়ের মৃত্যু হওয়ায় উপনির্বাচন হয়েছে।

করিমপুরে তৃণমূলের ভোটপ্রচার

করিমপুরে কংগ্রেস সমর্থিত সিপিএম প্রার্থী গোলাম রাব্বি, বিজেপির জয়প্রকাশ মজুমদার ও তৃণমূলের বিমলেন্দু সিংহ রায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই কেন্দ্রের প্রাক্তন বিধায়ক মহুয়া মৈত্র বর্তমানে কৃষ্ণনগর লোকসভা কেন্দ্রে সাংসদ।

খড়গপুর সদরে বিজেপির ভোটপ্রচার

খড়গপুর সদরে বিজেপির প্রেমচন্দ্র ঝা, কংগ্রেস-বামফ্রন্ট জোটের প্রার্থী চিত্তরঞ্জন মণ্ডল এবং তৃণমূলের প্রদীপ সরকারকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিজেপির রাজ্য সভাপতি এই আসনের প্রাক্তন বিধায়ক। তিনি এখন মেদিনীপুর লোকসভার সাংসদ।

ওই দিন বিকেল ৫টা পর্যন্ত হিসাবে জানা যায়, করিমপুরে ভোট পড়েছে ৮১.২৩ শতাংশ, কালিয়াগঞ্জে ভোট পড়েছে ৭৭.১৭ শতাংশ ও খড়গপুর সদরে ভোট পড়েছে ৬৭.৬২ শতাংশ। চূড়ান্ত ভোটের হার আরও বেশি।

[ আরও পড়ুন: বাইরে নেই, করিমপুরে না কি ‘ভিতরে’ রয়েছে সিপিএম! ]

প্রসঙ্গত, গত ২০১৬ সালে নদিয়ার করিমপুর, পশ্চিম মেদিনীপুরের খড়গপুর এবং উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জ যথাক্রমে ছিল তৃণমূল, বিজেপি এবং কংগ্রেসের দখলে। এ বারেও তার পুনরাবৃত্তি ঘটার সম্ভাবনা বেশি বলেই ধারণা করছে রাজনৈতিক মহল। তবে ফলাফল স্পষ্ট হতে শুরু করবে আগামী বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকেই!

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*


This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.