leopard alipurduar

আলিপুরদুয়ার: একটি ‘মানুষখেকো’ চিতাবাঘকে প্রয়োজনে মেরে ফেলার নির্দেশ দিয়ে বিতর্কে রাজ্য বন দফতর। এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতায় স্বয়ং বনমন্ত্রী বিনয়কৃষ্ণ বর্মন।

মাদারিহাট ব্লকের ধুমচিপাড়া, গ্যারগেন্ডা, রামঝোরা এবং তুলসীপাড়া— মূলত এই চার চা-বাগানে গত কয়েক মাস ধরে পরের পর হামলা হচ্ছে সাধারণ বাসিন্দাদের উপরে। সকলেরই দাবি, এর পিছনে কারসাজি একটি চিতাবাঘের। রাজ্য সরকারের তরফ থেকে চিতাবাঘটি মেরে ফেলার জন্য একটি ফরমান জারি হয়েছে বলে সম্প্রতি বন দফতরের একটি সূত্র থেকে জানা গিয়েছে।

এই প্রসঙ্গে রাজ্যের চিফ ওয়াইল্ডলাইফ ওয়ার্ডেন রবিকান্ত সিন্‌হা মিলেনিয়াম পোস্টকে বলেন, “আমরা জেনেছি একটি চিতাবাঘ গত এক কয়েক মাসে খুব হিংস্র হয়ে উঠেছে। তার হামলায় তিনটে শিশু মারা গিয়েছে, আহত হয়েছে বেশ কয়েক জন। একটা চিতাবাঘই এতগুলি ঘটনার পেছনে দায়ী। তাই ওই চিতাবাঘকে লোকালয় থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য চরমপন্থা নিয়েছি আমরা।”

তবে এই নির্দেশের মধ্যে দিয়ে প্রথমে ওই চিতাবাঘকে ধরার চেষ্টাই করবে বন দফতরের কর্মীরা। কিন্তু তার পরেও যদি তাকে বাগে আনতে না পারে, তা হলে তাকে গুলি করে মেরে দেওয়ার ক্ষমতা কর্মীদের দেওয়া হয়েছে।

এই প্রথম রাজ্যে কোনো চিতাবাঘকে মেরে ফেলার ক্ষমতা দেওয়া হল। বছর তিনেক আগে বর্ধমানে একটি উন্মত্ত হাতিকে বাগে আনার জন্য মেরে ফেলা হয়েছিল।

গত বছর ১২ এবং ২৩ ডিসেম্বর এবং এ বছর ১৬ জানুয়ারি, চিতাবাঘের হামলায় তিন শিশুর আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে ১৬ তারিখের হামলায় মায়ের কোল থেকে শিশুকন্যাকে কেড়ে নিয়ে যায় চিতাবাঘ। এর পরেই ওই চিতাবাঘকে মেরে ফেলার জন্য দরবার করতে থাকেন গ্রামবাসীরা।

আরও পড়ুন আলিপুরদুয়ারে চিতাবাঘের হামলা রুখতে সক্রিয় বন দফতর

কিন্তু বন দফতরের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন বনমন্ত্রী স্বয়ং। তিনি আনন্দবাজার পত্রিকাকে বলেন, “‘আমি প্রাণীহত্যার বিরোধী। মেরে ফেলার নির্দেশ দেওয়া ও কার্যকর করার আগে আমি দশ বার ভাবতে চাই।’’ একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘কোন চিতাবাঘ মানুষখেকো, আর কোনটি নয়— সেটিও সুস্পষ্ট হওয়া জরুরি। এগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতেই কলকাতায় যাচ্ছি।”

বন দফতরের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন একাধিক পশুপ্রেমী সংগঠন। অনেকেরই দাবি, গুলি করারই যখন সিদ্ধান্ত হয়েছে তা হলে ঘুমপাড়ানি গুলি কেন চালানো হবে না।

সব মিলিয়ে এই চিতাবাঘ-বিতর্কে স্বস্তিতে নেই বনদফতর। চিতাবাঘটিকে গুলি করে মারা হলে বিতর্ক যে আরও বাড়বে তা বলাই বাহুল্য। সে ক্ষেত্রে আরও এক ‘অবনী’ দেখবে দেশ।

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন