বন্ধ লোকাল ট্রেন, কঠিন পরিস্থিতির মুখে বড়ো অংশের সাধারণ মানুষ

    আরও পড়ুন

    খবরঅনলাইন ডেস্ক: আশঙ্কাই সত্যি হল। কোভিড-১৯ মোকাবিলায় সব লোকাল ট্রেন বাতিলের পদক্ষেপ নিয়েছিল রাজ্য সরকার। এ বার লোকাল ট্রেন চালুর দাবিতে অবরোধ-বিক্ষোভে নামছেন সাধারণ মানুষ।

    ভারতে করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ ছড়িয়ে পড়তেই দেশের বিভিন্ন রাজ্য কড়াকড়ি নিয়ন্ত্রণবিধি জারি করে। পশ্চিমবঙ্গেও কার্যত লকডাউন জারি হয়েছিল। তবে সংক্রমণের হার নেমে যাওয়ার সঙ্গেই ধাপে ধাপে নিয়ন্ত্রণবিধি শিথিল করেছে রাজ্য সরকার। কিন্তু সাধারণের জন্য লোকাল ট্রেন নিয়ে কোনো পদক্ষেপের দেখা মেলেনি এখনও। তবে স্পেশাল লোকাল ট্রেনগুলি এখন চলছে।

    Loading videos...

    শিশুসুলভ সিদ্ধান্ত, বলছে একাংশ

    এ ব্যাপারে দক্ষিণ ২৪ পরগনার এক নিত্যযাত্রী জানান, “কোভিড মোকাবিলার নামে আচমকাই সাধারণ মানুষের লাইফলাইন বন্ধ করে দেওয়া হল। এতে কলকাতায় যাওয়া নিত্যযাত্রীদের দু’-তিনগুণ বাড়তি টাকা খরচ করে গন্তব্যে পৌঁছোতে হবে। কোভিড মোকাবিলায় অন্য অনেক কিছুতেই কোভিড বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল। এখন আবার নতুন করে খুলে দেওয়া হয়েছে। ফলে অসংগঠিত ক্ষেত্রের কর্মীদের তো শহরে যেতেই হবে”।

    - Advertisement -

    এর আগে করোনাভাইরাস লকডাউনে বন্ধ থাকা লোকাল ট্রেন পরিষেবা প্রায় সাড়ে সাত মাস বন্ধ ছিল। গত বছরের ১১ নভেম্বর ফের লোকাল ট্রেনের চাকা গড়ায় রাজ্যে। কিন্তু বর্তমানে যে ভাবে করোনা সংক্রমণ ফের বেড়ে গিয়েছিল, একই সঙ্গে তৃতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কা রয়েছে, সেখানে বিকল্প পদক্ষেপ আর কী-ই বা হতে পারে?

    এমন প্রশ্নের উত্তরে মানবাধিকার সংগঠন এপিডিআর-এর সহ-সম্পাদক আলতাফ আহমেদ বলেন, “লকডাউন দিয়ে কি কোভিড আটকানো যায়। না কি লোকাল ট্রেন বন্ধ করলেই করোনা আটকানো যাবে? এটা এক ধরনের সস্তার পদক্ষেপ। কেন্দ্র-রাজ্য সরকার হাতে এত দিন সময় পেল, অথচ স্বাস্থ্য পরিকাঠামো নিয়ে মাথা ঘামানো হল না। এটা শিশুসুলভ সিদ্ধান্ত, মানুষকে বিপদে ফেলবে”।

    তিনি আরও বলেন, “লোকাল ট্রেন বন্ধ থাকলে বিভিন্ন ধরনের মানুষই বিপাকে পড়বেন। নিত্যযাত্রী তো রয়েছেনই, পাশাপাশি যাঁদের আত্মীয়-পরিজন কোভিড আক্রান্ত হয়ে শহরে চিকিৎসাধীন, তাঁরাই বা কী ভাবে যাতায়াত করবেন? আগের লকডাউনের সময় মানুষ যেমন দুর্দশায় পড়েছিলেন, ঠিক একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। অথচ এত দিন হয়ে গেল, সরকার স্বাস্থ্য পরিকাঠামো উন্নয়নে কোনো পদক্ষেপই নিল না। এখন বলা হচ্ছে, হাসপাতালের বেড বাড়ানো হচ্ছে”।

    এপিডিআর-এর জয়নগর শাখার সম্পাদক মিঠুন মণ্ডল বলেন, “এটা একটা তুঘলকি সিদ্ধান্ত। শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে ট্রেন চালানো হোক। এই সিদ্ধান্ত মানুষকে আগে থেকে জানানো দরকার ছিল। দিন আনতে, দিন খাওয়া মানুষের বিরুদ্ধে এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা করছি আমরা। আমাদের দাবি, বিভিন্ন পরিবহণ ব্যবস্থাকেও সঠিক ভাবে পরিচালনা করা হোক”।

    লোকাল ট্রেনের দাবিতে অবরোধ

    বুধবার লোকাল ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর দাবিতে সোনারপুরে রেল অবরোধ করলেন নিত্য যাত্রীরা। এ দিন সকাল থেকে অবরোধের ফলে ব্যহত হয়েছে স্পেশাল লোকাল ট্রেনগুলির চলাচল।

    এ ব্যাপারে আলতাফ আলতাফ আহমেদ বলেন, “অবিলম্বে লকডাউন প্রত্যাহার করে মানুষের রুজি-রুটি রক্ষার স্বার্থে রাজ্য সরকারকে ট্রেন চলানোর ও হকার-সহ সমস্ত যাত্রীদের ট্রেনে চড়ার অনুমতি দিতে হবে। গণপরিবহণ ও জনস্বার্থে অবিলম্বে চালু করতে হবে। নইলে এই প্রতিবাদ চলবে”।

    আরও পড়তে পারেন: চলছে শুধু স্পেশাল ট্রেন, সোনারপুরে রেল অবরোধ করলেন ক্ষুব্ধ নিত্যযাত্রীরা

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here

    This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

    - Advertisement -

    আপডেট খবর