সান্দাকফুতে তুষারপাত

ওয়েবডেস্ক: কাশ্মীর, হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, সিকিমের পর কি এ বার আগাম তুষারপাত পেতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ? সে রকমই কিছু পূর্বাভাস করেছে বেসরকারি আবহাওয়া সংস্থা ওয়েদার আল্টিমা। সব কিছু ঠিকঠাক চললে হয়তো আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই মরশুমের প্রথম তুষারপাত পেতে চলেছে রাজ্য। বরফ পড়তে পারে সান্দাকফুতে।

নভেম্বরে পশ্চিমবঙ্গে তুষারপাত খুবই বিরল ঘটনা। রাজ্যের সর্বোচ্চ বিন্দু সান্দাকফুতে প্রতি বছরই তুষারপাত হলেও, জানুয়ারির শেষ সপ্তাহের আগে বরফ পড়ে না। কিন্তু এ বার সব পরিস্থিতি বিচার করে ওয়েদার আল্টিমা জানাচ্ছে ২৯ এবং ৩০ নভেম্বরে বরফ পড়তে পারে সান্দাকফু এবং ফালুটে।

ওয়েদার আল্টিমার কর্ণধার রবীন্দ্র গোয়েঙ্কা বলেন, “দার্জিলিং জেলায় তুষারপাত ঘটানোর জন্য যে অনুঘটকের দরকার হয়, সেটা উপস্থিত।” তাঁর কথায় এই মুহূর্তে উত্তর ভারতে একটি জোরাল পশ্চিমী ঝঞ্ঝা রয়েছে। ক্রমে সেটি পূর্ব হিমালয় অর্থাৎ সিকিম এবং সন্নিহিত পার্বত্য পশ্চিমবঙ্গের দিকে চলে আসবে। অন্য দিকে আরব সাগর থেকে জলীয় বাষ্পও পৌঁছে যাবে এই সব অঞ্চলে। পাশাপাশি অসমের ওপরে অবস্থিত একটি ঘূর্ণাবর্ত সেই পশ্চিমী ঝঞ্ঝাকে এখনই দুর্বল করে দেবে না। এই সবের প্রভাবেই তুষারপাত হতে পারে এই সব অঞ্চলে।

আরও পড়ুন হাওড়াগামী কালকা মেলের কামরায় আগুন, ট্রেন চালকের উপস্থিত বুদ্ধিতে বড়ো দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা

রবীন্দ্রবাবুর কথায়, সান্দাকফুতে তুষারপাতের সম্ভাবনা ৬০ শতাংশ। তবে তুষারপাত হলেও, তা বেশি স্থায়ী হবে না। তবে সিকিম এবং পূর্ব নেপালে ভালো তুষারপাতের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন তিনি। অন্য দিকে দার্জিলিং জেলার বাকি অঞ্চলে শিলাবৃষ্টি হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। তবে সেই সঙ্গে ওয়েদার আল্টিমা এটাও জানাতে ভোলেনি, যে বর্তমান পরিস্থিতি বিচার করেই এই পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া খামখেয়ালিপনায় শেষ মুহূর্তে কোনো ভোলবদল ঘটে যায় কি না, সেটাই দেখার।

এ দিকে ওই পশ্চিমী ঝঞ্ঝা এবং বঙ্গোপসাগরে বিপরীত ঘূর্ণাবর্তের প্রভাবে শীত শীত ভাব অনেকটাই কমে গিয়েছে দক্ষিণবঙ্গে। মঙ্গলবার কলকাতার পারদ ছিল ১৮.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঠান্ডা কিছুটা কমেছে পশ্চিমাঞ্চলেও। তবে আগামী ৭২ ঘণ্টা পর থেকে ঠান্ডা ফের বাড়বে বলে জানিয়েছে ওয়েদার আল্টিমা। এই পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাব কেটে গেলেই কমতে শুরু করবে পারদ।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here