ছিঃ! একই দিনে আগুনে পুড়ে ছাই তিন গৃহবধূ, বছরে দুই শতাংশ বাড়ছে মৃত্যুর হার!

0

২০১৫ সালে ১৪,৬০২ জন মহিলার মৃত্যুর ঘটনা জানা যাচ্ছে। হয় তা অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা অথবা সরাসরি হত্যা! এর মধ্যে কলকাতার মৃত্যুর সংখ্যা ৩৩৯! এই রাজ্য শনিবার আরও এক গৃহবধূর পুড়ে মরার ঘটনার সাক্ষী থেকেছে। এই ঘটনাটি মালদহের। শুক্লা বিশ্বাস তাঁর স্বামীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে বচসার পর গায়ে আগুন দিয়েছেন- এমনটাই অভিযোগ উঠেছে। বলা হচ্ছে, এখানেও পণের জন্য অত্যাচার ছিল সাধারণ সূত্র। এ ছাড়া ছিল স্বামীকর্তৃক অবহেলার প্রসঙ্গটিও। শুক্লার স্বামী কর্মসূত্রে অন্য রাজ্যে থাকতেন। ইদানিং তিনি আর স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে চাইতেন- তেমনটাই দাবি করা হয়েছে। গৃহবধূদের মৃত্যুর হার যে ক্রমাগতই বাড়ছে এই রাজ্যে, ইতিমধ্যেই তা স্বীকার করেছে সরকারি সমীক্ষাও। ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর ২০১৫ সালের সমীক্ষা বলছে, পশ্চিমবঙ্গের প্রতি দুজন মহিলার মৃত্যুর মধ্যে একটি হয় আত্মহত্যা, নয় তো হত্যা। কারণ হিসাবে দর্শানো হচ্ছে শ্বশুরবাড়ির অত্যাচার। এই অত্যাচারও ঘুরে-ফিরে দুই কারণে- পণের দাবি বা কন্যাসন্তানের জন্ম দেওয়া। হিসাব আরও বলছে, এ ভাবে ২০১৫ সালে ১৪,৬০২ জন মহিলার মৃত্যুর ঘটনা জানা যাচ্ছে। হয় তা অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা অথবা সরাসরি হত্যা! এর মধ্যে কলকাতার মৃত্যুর সংখ্যা ৩৩৯! ২০১৪ সালে রাজ্যে এই সংখ্যাটা ছিল ১৪,৩১০। অর্থাৎ, বছরে সংখ্যাটা ২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বলতে অসুবিধা নেই, এ ভাবে প্রতি বছরেই ধাপে ধাপে তা বেড়ে চলেছে। মহিলাদের উপর অত্যাচার এবং পরিণামে তাঁদের হত্যা বা আত্মহত্যার ঘটনা যে বাড়ছে, তার সঙ্গে সহমত রাজ্য মহিলা কমিশনের প্রাক্তন চেয়ারপার্সন সুনন্দা মুখোপাধ্যায়ও। সমাজ যে অবক্ষয়ের মধ্যেই আকণ্ঠ নিমজ্জিত হয়ে আছে, তা স্বীকার করতে দ্বিধা করছেন না তিনি। তাঁর দাবি, পুরুষরা নারীদের মানুষ হিসাবে গণ্য করে না বলেই এমন ঘটনা বেড়ে চলেছে। এ ব্যাপারে সমাজ ক্রমশই ডুবে যাচ্ছে লিঙ্গবিদ্বেষের অন্ধকারে। অন্য দিকে মনোবিদদের দাবি, সমাজ এখনও নারীদের বোঝা হিসাবেই দেখে। সেই জন্যেই মেয়েদের বিয়ে দিতে হলে টাকা খরচ হবে, পরেও তার জের চলবে- এই সব আতঙ্ক থেকেই বাড়ছে কন্যাসন্তান হত্যার ঘটনা। পরিণামে যিনি কন্যাসন্তানের জন্ম দিচ্ছেন, তাঁর উপরেও নেমে আসছে অত্যাচারের কোপ।]]>

উত্তর দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here