west bengal drought
প্রতীকী ছবি

ওয়েবডেস্ক: পরিস্থিতির যদি এখনই বদল না হয়, তা হলে আট বছরের মধ্যে সব থেকে বেশি ঘাটতি দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে যাত্রা শেষ করবে বর্ষা। ২০১০-এ শেষ বার ঘাটতিতে শেষ করেছিল বর্ষা, খরা ঘোষণা হয়েছিল দক্ষিণবঙ্গের অনেক জেলায়। এ বার খরা ঘোষণা করা হবে কী না, বলা যাচ্ছে না, তবে পরিস্থিতি অনেকটা সে রকমই।

সাধারণত স্বাভাবিকের ৮১ শতাংশ (১৯ শতাংশ কম) থেকে ১১৯ শতাংশ (১৯ শতাংশ বেশি) পর্যন্ত বৃষ্টি হলে সেটাকে স্বাভাবিকের মাপকাঠিতেই ফেলে আবহাওয়া দফতর। বৃষ্টির পরিমাণ যদি কুড়ি শতাংশ বা তার বেশি কমে যায়, তা হলে তখন ঘাটতির পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

২০১০-এ শেষ বার ঘাটতির মুখ দেখেছিল দক্ষিণবঙ্গ। সে বার ৩৩ শতাংশ ঘাটতিতে শেষ করেছিল বর্ষা। স্বাভাবিক পরিমাণের মাত্র ৬৭ শতাংশ বৃষ্টি হয়েছিল সে বার। অন্য দিকে উত্তরবঙ্গে শেষ বার বর্ষার ঘাটতি দেখা দিয়েছিল ২০০৯ সালে। ২০১০-এ অবশ্য ১৪ শতাংশ বাড়তি ছিল উত্তরবঙ্গের বৃষ্টি।

আরও পড়ুন ঘণ্টাখানেকের প্রবল বৃষ্টিতে জলমগ্ন কলকাতার বিস্তীর্ণ অঞ্চল

কিন্তু এ বার বৃষ্টির পরিস্থিতি রাজ্যের দুই অঞ্চলের জন্যই খুবই করুণ। গত দু’ বছর যেমন দুই অঞ্চলেই স্বাভাবিক ছিল বর্ষা, এ বার গোটা রাজ্যই ঘাটতির সম্মুখীন। মঙ্গলবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির ঘাটতি রয়েছে ১৫ শতাংশে, অন্য দিকে উত্তরবঙ্গে ঘাটতি রয়েছে ১৯ শতাংশে। আবহাওয়ার মাপকাঠিতে দু’টো সংখ্যা স্বাভাবিকের পর্যায়ে থাকলেও বৃষ্টির সে ভাবে দেখা না মিললে ২০১০-এর এ বারই ঘাটতিতে রাজ্যে শেষ করবে বর্ষা।

অবশ্য  পশ্চিমবঙ্গের এই ছবিতে যেটা বোঝা যাচ্ছে না সেটা হল এ বার বর্ষা রাজ্যে ঠিক কতটা খামখেয়ালি। কিছু কিছু জেলায় বৃষ্টি বাড়তি, কিছু জেলায় রয়েছে অল্প ঘাটতি। আবার কোনো কোনো জেলায় তো প্রায় অনাবৃষ্টির চেহারা।

সব থেকে খারাপ অবস্থা কোচবিহার, দক্ষিণ দিনাজপুরের। সেখানে বৃষ্টির ঘাটতি ৫৫ শতাংশ। মালদা এবং মুর্শিদাবাদে বর্ষার ঘাটতি রয়েছে ৪৪ শতাংশে। বীরভূম এবং উত্তর দিনাজপুরে বৃষ্টির ঘাটতি রয়েছে ৩৩ শতাংশে। দার্জিলিং ও কালিম্পং, হাওড়া এবং হুগলিতে বৃষ্টির ঘাটতি যথাক্রমে ২৩, ২৬ এবং ২৭ শতাংশ।

এ ছাড়াও বৃষ্টির ঘাটতি রয়েছে পুরুলিয়া (১৭ শতাংশ), নদিয়া (১৭ শতাংশ), পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রাম (১৭ শতাংশ), বর্ধমান (১৪ শতাংশ), দক্ষিণ ২৪ পরগণা (১২ শতাংশ), জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ার (১২ শতাংশ) এবং পূর্ব মেদিনীপুরে (১০ শতাংশ)। বৃষ্টি কিছুটা বাড়তি রয়েছে কলকাতা (১ শতাংশ)। উত্তর ২৪ পরগণা (১ শতাংশ) এবং বাঁকুড়ায় (৪ শতাংশ)।

এই পরিস্থিতি কি বদলানোর কোনো সম্ভাবনা রয়েছে?

এই মুহূর্তে আবহাওয়ার যা পরিস্থিতি তাতে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে যদি ভালো বৃষ্টি না হয় তা হলে পরিস্থিতি খুব একটা বদলের সম্ভাবনা দেখছেন না বেসরকারি আবহাওয়া সংস্থা ওয়েদার আল্টিমার কর্ণধার রবীন্দ্র গোয়েঙ্কা।

আরও পড়ুন বজ্রপাতের সময় কী ভাবে রক্ষা করবেন নিজেকে? নজর রাখুন এই তথ্যগুলিতে

বর্তমানে দক্ষিণবঙ্গের ওপর দিয়ে মৌসুমি অক্ষরেখা বিস্তার করছে। এর প্রভাবেই মঙ্গলবার দুপুরে কলকাতায় প্রবল বৃষ্টি হয়েছে। আগামী দু’দিন এই অক্ষরেখা দক্ষিণবঙ্গের ওপরেই থাকবে। ফলে বিক্ষিপ্ত ভাবে ভারী বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা থাকছে বলে জানিয়েছেন তিনি। কিন্তু ৪৮ ঘণ্টা পর থেকে অক্ষরেখাটি মধ্য ভারতের দিকে সরে যাবে, ফলে বৃষ্টির পরিমাণ কমতে থাকবে। অন্য দিকে উত্তরবঙ্গে এখনই ঘাটতি মোকাবিলার বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই বলেই জানিয়েছেন রবীন্দ্রবাবু।

এ দিকে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বঙ্গোপসাগরে একটি নিম্নচাপের সৃষ্টি হওয়ার কথা জানিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। রবীন্দ্রবাবুর ধারণা নতুন এই নিম্নচাপটিও আগেরগুলোর মতোই ওড়িশার পথ ধরবে, ফলে পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলি ছাড়া খুব বেশি বৃষ্টির আশা কোথাও নেই।

এখন আবার সমস্যা অন্য। ঘাটতি মেটানোর জন্য যে পরিমাণ বৃষ্টি দরকার, সেই বৃষ্টি হলে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিতে পারে। এই আবহে সে রকম বৃষ্টির আশা না করাই ভালো। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি বিশেষ না বদলালে ২০১০-এর পর ফের একবার ঘাটতিতে যেতে চলেছে গোটা রাজ্যের বর্ষা।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন