ছাত্রছাত্রীদের শুধু সাইকেল দেওয়াই নয়, এখন থেকে অন্তত পক্ষে সাইকেল মেরামত করে তারা যাতে সংসার চালাতে পারে তারও ব্যবস্থা করছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। বুধবার শিলিগুড়িতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে এ কথা ঘোষণা করেন। মুখ্যমন্ত্রী যেমন একদিকে   আইনস্টাইন, শেকসপিয়ার ও জগদীশচন্দ্র বসুর মতো বড়ো হয়ে ওঠার স্বপ্ন দেখান ছাত্রছাত্রীদের, তেমনই অন্য দিকে সংসার চালানোর জন্য বিকল্প কর্মসংস্থান কীভাবে হতে পারে তারও পথ বাতলান। তিনি জানান, প্রতি বছর তিন হাজার পড়ুয়াকে সাইকেল মেরামতির প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। সাইকেল মেরামতির জন্য যে দক্ষতার প্রয়োজন সেই দক্ষতা যাতে তারা অর্জন করতে পারে তার ব্যবস্থা করা হবে।

সাইকেল শিল্প করতে কেউ যদি এগিয়ে আসেন তাঁকেও স্বাগত জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। কারণ প্রতি বছর কয়েক লক্ষ সাইকেল তৈরি করার প্রয়োজন শুধুমাত্র পড়ুয়াদের বিতরণ করার জন্য। তাই এ রাজ্যে যে সাইকেল শিল্প গড়ার প্রয়োজন আছে তা তিনি মনে করিয়ে দেন।

মুখ্যমন্ত্রী এ দিন বিকেলে কলকাতা থেকে বাগডোগরা বিমানবন্দরে নেমে সোজা চলে যান শিলিগুড়ির মার্গারেট সিস্টার নিবেদিতা হাইস্কুলের খেলার মাঠে। সেখানেই একটি মঞ্চ করে সাইকেল বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মঞ্চ থেকেই মুখ্যমন্ত্রী মার্গারেট স্কুল, শ্রীগুরু বিদ্যামন্দির ও বাঘাযতীন বিদ্যাপীঠ পড়ুয়াদের সাইকেল দেন। মুখ্যমন্ত্রীর সবুজ সাথী প্রকল্পে এবছর রাজ্যের নবম, দশম, একাদশ, দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়াদের সাইকেল দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পর্যাপ্ত সাইকেল তৈরি না হওয়ায় নবম শ্রেণির পড়ুয়াদের তা দেওয়া হয়নি। যেহেতু এ বছরই সকলকে সাইকেল দেওয়ার কথা তিনি ঘোষণা করেছেন তাই বছর শেষ হওয়ার আগেই বুধবার তাঁর প্রতিশ্রুতি রাখতে পড়ুয়াদের সাইকেল বিতরণ করেন। বুধবার ছিল বিশ্ব শান্তি দিবস। সেই কথা স্মরণ করিয়ে দয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বাংলা যে পথ আজ দেখায় সেই পথ আগামীতে সারা পৃথিবী দেখবে এবং সেটা তৈরি করবে আমাদের ছাত্রছাত্রীরা।”    

শিলিগুড়িতে সবুজ সাথী প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের সুচনা করার পর এদিনই মুখ্যমন্ত্রী কালিম্পং-এর চলে যান। সেখানে আগামী কাল ও পরশু লেপচা ডেভেলপমেন্ট বোর্ড ও তামাং ডেভেলপমেন্ট বোর্ডের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে ২৪শে সেপ্টেম্বর তাঁর কলকাতা ফেরার কথা।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here