অ্যান্টনি ফিরিঙ্গির শ্যুটিং করতে উত্তমকুমার এসেছিলেন পশ্চিম মেদিনীপুরের জাড়া রাজবাড়িতে

0
Durga Idol at Jara Rajbari

শুভদীপ রায় চৌধুরী

ইতিহাস এবং ঐতিহ্য যেন কথা বলে বঙ্গের বিভিন্ন ঠাকুরদালানে। এই ঠাকুরদালানগুলো আর বনেদিবাড়ি ঘুরে দেখলে বোঝা যায়, কোনো কোনো ঠাকুরদালানের বয়স ৩০০ বছরের কাছাকাছি, কোনো কোনোটা ৩০০ বছরেরও বেশি। এই বঙ্গে রয়েছে বেশ কিছু রাজবাড়ি, যে রাজবাড়ির ঠাকুরদালান, বাহিরমহল, নাটমন্দির-সহ বিভিন্ন প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখলে আজও যেন মনে হয় কত প্রাচীন সে সব।

Loading videos...

আজ এমন একটি রাজবাড়ির কথা আলোচনা করা হবে, যে রাজবাড়িতে এক সময় এসেছিলেন মহানায়ক উত্তমকুমার তাঁর ছায়াছবির শ্যুটিং করতে। ছবির নাম ‘অ্যান্টনি ফিরিঙ্গি’। সেই রাজবাড়ি হল পশ্চিম মেদিনীপুরের জাড়া রাজবাড়ি। যে রাজবাড়ির ইতিহাস এবং ঐতিহ্য যা আজও বঙ্গের সংস্কৃতিকে গৌরবান্বিত করে। বঙ্গের প্রাচীন ইতিহাসে এই জাড়াগ্রামের রায় বংশের কথা সুঅক্ষরে রচিত রয়েছে। এই বংশের আদি পদবি গঙ্গোপাধ্যায়, পরবর্তী কালে ‘রায়’ উপাধি পেয়েছিলেন পরিবারের পূর্বপুরুষরা।

এই বংশের সুসন্তান রামগোপাল রায়ের সুপুত্র রাজীবলোচন রায় জাড়া বংশের গৌরবকে আরও মহিমান্বিত করে। শিক্ষিত এবং সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান রাজীবলোচন রায়ের সে সময়ে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৪ লক্ষ টাকা। এই রাজীবলোচন রায় পরবর্তীকালে ‘রাজা’ উপাধি পেয়েছিলেন এবং তাঁর হাত ধরেই দুর্গাপুজোর সূচনা হয় জাড়া রাজবাড়িতে।

জাড়া রাজবাড়ির দুর্গাপুজো প্রায় ২২০ বছরের পুরোনো। সেই প্রথম দিন থেকে আজও রায় পরিবারে প্রাচীন রীতিনীতি মেনেই পুজো হয় দেবীর। এই রাজবাড়ির পুজো হয় বিশুদ্ধসিদ্ধান্ত পঞ্জিকা মতে এবং এখানে বলিদানের কোনো প্রথা নেই।  দুর্গাপুজোর মহাষ্টমীর দিন ব্রাহ্মণভোজন এবং দরিদ্রনারায়ণ সেবার আয়োজন করেন রাজবাড়ির সদস্যরা। মহানবমীর দিন পরিবারের সকল সদস্য একসঙ্গে মিলে খাওয়াদাওয়া করেন। পুজোর সময় রাজা রামমোহন রায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মতো বিশিষ্ট মানুষজন আসতেন রাজবাড়িতে। অতীতে পুজোর সময় যাত্রা অনুষ্ঠিত হত, তবে এখন আর হয় না।

মায়ের মুখ, জাড়া রাজবাড়ি।

এই বাড়িতে পুজোর সময় প্রায় পঁচিশ রকমের রান্নার পদ হয় – খিচুড়ি, সাদাভাত, নানা রকমের ভাজা, তরকারি, পায়েস, চাটনি ইত্যাদি। সন্ধিপূজায় সিঁদুরখেলা হয় রাজবাড়িতে যা দেখতে দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসেন অগণিত দর্শনার্থী।

দশমীর দিন প্রতিমা বিসর্জনের পর পরিবারের সকল সদস্য বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘যাসনে মা ফিরে, যাসনে জননী’ গানটি গাইতে গাইতে বাড়ি ফেরেন। সে যেন এক বিষাদময় পরিবেশ। বাড়ির মেয়ে শ্বশুরবাড়িতে ফিরে গিয়েছে, আবার একটা বছরের অপেক্ষা।

খবরঅনলাইনে আরও পড়তে পারেন

পশ্চিম বর্ধমানের খান্দরার বকশিবাড়ি বৈষ্ণবধারার হলেও পুজোয় বলিদান হয় দেবীরই আদেশে

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন