খড়গপুর সদরের হাওয়া ঘুরবে? তৃণমূলের নজরে বিজেপির তিন ‘কাঁটা’

0
BJP TMC Congress CPIM

ওয়েবডেস্ক: রাজনীতির জটিল অঙ্ক যে কোনো মুহূর্তে সমীকরণ বদলে দিতে পারে! বর্তমানে বিজেপির শক্তঘাঁটি হিসাবে পরিচিত খড়গপুর সদর নিয়ে তেমনটাই আশা করছে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস।

১৯৮২ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত খড়গপুরে জয়ী হয়ে এসেছেন কংগ্রেসের জ্ঞান সিং সোহনপাল। তবে তিনি আচমকা ধাক্কা পান ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে। সে বার বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের কাছে পরাজিত হন রাজ্য-রাজনীতির পরিচিত মুখ প্রয়াত ‘চাচা’। নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক সফরে এই কেন্দ্রে তিনি হেলায় হারিয়ে এসেছিলেন এক সময়ের দোর্দণ্ডপ্রতাপ সিপিএমকেও। উল্টো দিকে সে অর্থে তৃণমূলের তেমন কোনো প্রভাব চোখে পড়েনি ভোটের বাক্সে। কিন্তু এ বার সেই সমীকরণ বদলের প্রত্যাশায় রয়েছে শাসক শিবির। কী কারণে?

শাসক শিবিরের দাবি, প্রথমত, প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে উদ্গত জটিলতা খুব একটা সহজে সামাল দিতে পারছে না বিজেপি। দিলীপ মেদিনীপুর থেকে সাংসদ হয়ে যাওয়ার পর উপনির্বাচন হচ্ছে এই কেন্দ্রে। কিন্তু তাঁর মতো ‘হেভিওয়েট’-এর পরিবর্তে কাকে প্রার্থী করা হবে, সে নিয়েই ছিল জোরালো বিতর্ক। সেই বিতর্কেই ঘৃতাহুতি করেছে গেরুয়া শিবিরের প্রার্থী হিসাবে প্রেমচন্দ্র ঝায়ের নাম ঘোষণা। স্বাভাবিক ভাবেই তিনি গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের থাবা এড়াতে কতটা সফল হবেন, তা নিয়েই রয়েছে একাধিক প্রশ্ন।

দ্বিতীয়ত, বিজেপি প্রার্থীর আইনি জটিলতাও একটা ফ্যাক্টর বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এমনিতে প্রেমচন্দ্র লড়াকু এবং দলের দীর্ঘদিনের নেতা। গত ভোটেও তিনি দিলীপের নির্বাচনী এজেন্টের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এমনকী দিলীপ প্রার্থী হওয়ার আগে, গত ২০১১ সালের বিধানসভা ভোটে তিনিই ছিলেন ওই কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী। কিন্তু জমি সংক্রান্ত মামলায় জড়িয়ে পড়া এবং দলের মধ্যেই তাঁর আয়ের উৎস নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় অক্সিজেন পাচ্ছে ঘাস-ফুল শিবির।

তৃণমূল এবং বিজেপি প্রার্থী

তৃতীয় কারণ হিসাবে তৃণমূলের একাংশের যুক্তি, অতীতে এলাকায় বিজেপির তেমন কোনো সাংগঠনিক শক্তি ছিল না। লড়াইটা বরাবরই ছিল কংগ্রেস-সিপিএমের। দিলীপ প্রার্থী হওয়ার পরই দ্রুত উত্থান হয় গেরুয়া শিবিরের। উল্টো দিকে সিপিএম এবং কংগ্রেসের কিছুটা হলেও প্রভাব রয়েছে এলাকায়। এ বার উপনির্বাচনে ওই দুই দলের মধ্যে জোট হওয়ায় ত্রিমুখী লড়াইয়ের ভোট কাটাকাটির অঙ্কে বাড়তি সুবিধা পেতে পারে তৃণমূল।

তবে আদৌ হাত বদল হবে, না কি খড়গপুর সদরের কর্তৃত্ব ধরে রাখবে বিজেপি, তা জানার জন্য আগামী ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা চলবেই!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.