বিশেষ প্রতিনিধি, কলকাতা: বারুইপুর থেকে আমতলা যাওয়ার পথে ধোপাগাছিতে ১৭ একর জমির ওপর কেন্দ্রীয় সংশোধনাগার তৈরির প্রথম দফার কাজ শেষ। কারা দফতর সূত্রের খবর জুলাই মাসের প্রথম থেকেই আলিপুর সংশোধনাগার থেকে বন্দিদের ধাপে ধাপে বারুইপুরে নিয়ে আসা শুরু হবে। তার জন্য নিরাপত্তা সহ সব রকমের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে।

মূলত স্থান সংকুলানের সমস্যা ও অন্যান্য প্রশাসনিক সমস্যার জন্য আলিপুর কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারকে বারুইপুরে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল রাজ্য সরকার। সেইমতো ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে কাজ শুরু হয়। আলিপুর সংশোধনাগারে বর্তমানে ১৯৭১ জন বন্দি রয়েছেন। তার মধ্য থেকে প্রথম দফায় ৭০০ জনকে বারুইপুরে নিয়ে যাওয়া হবে। এদের মধ্যে ২০০জন শাস্তিপ্রাপ্ত, ৫০০ জন বিচারাধীন বন্দি। তবে আফতাব আনসারির মতো হেভিওয়েট বন্দি বা যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত বন্দিদের এখনই বারুইপুরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে না।

বিদেশি ধাঁচে, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি এই নয়া জেলে অনেকটাই মুক্ত পরিবেশের স্বাদ পাবেন বন্দিরা। থাকবে খেলার মাঠ, জিম, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের অডিটোরিয়াম, কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, অত্যাধুনিক ডাইনিং হল, ক্যানটিন, হাসপাতাল, আধিকারিক ও কর্মীদের থাকার জায়গা। থাকছে ফাঁসিঘরও।

প্রথম দফায় ইতিমধ্যেই বন্দিদের থাকার জন্য ১২টি সেলের কাজ শেষ, একেকটি সেলে প্রায় ৩০-৪০ জন বন্দি থাকতে পারবেন। মহিলা বন্দিদের জন্য রয়েছে আলাদা ভবন। এছাড়াও থাকছে ৬টি বিশেষ সেল। এগুলিতে ২০-২৫জন বন্দি থাকতে পারবেন। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তদের জন্য ৬টি সিঙ্গল রুমও থাকছে। দ্বিতীয় দফার কাজ শেষ হলে সাধারণ বন্দিদের জন্য মোট ৪২টি সেল থাকবে। এছাড়া থাকবে মহিলা বন্দি ও যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা।

বারুইপুর সংশোধনাগারের সেল

আঁটোসাটো হচ্ছে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও। কিছুদূর অন্তরই থাকবে ওয়াচ টাওয়ার, সিসিটিভি নজরদারি, থাকছে লেজার সেনসর টেকনোলজি। ১৫ ফুট ও ২৫ ফুট উঁচু দুটি পাঁচিল দিয়ে ঘেরা থাকবে গোটা এলাকা।

তবে নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তা রয়েছে কারা দফতরের। আলিপুর থেকে বারুইপুর অবধি নিয়ে যাওয়ার দীর্ঘ পথ তো রয়েছেই, পাশাপাশি রয়েছে অতদূর থেকে বন্দিদের নিয়মিত আদালতে নিয়ে আসার বিষয়টিও। ওরকম প্রত্যন্ত অঞ্চলে সংশোধনাগার হওয়ায় বন্দিদের সঙ্গে দেখা করতে সমস্যায় পড়বেন তাঁদের পরিবার-পরিজনরাও।

আলিপুর জেল স্থানান্তরের কাজ শুরু করার পাশাপাশি এবার প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগার সরানোরও প্রস্তুতি শুরু করেছে রাজ্য সরকার। বারুইপুর কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারের পাশে জমি চিহ্নিতকরণের কাজও হয়ে গিয়েছে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here