ওয়েবডেস্ক: বুধবার সকালে কলকাতার সর্বনিম্ন পারদ ২২ ডিগ্রির কোঠায় উঠে গিয়েছে। রাজ্যের সর্বত্রই সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বেড়েছে। বাড়িতে পাখাও চালাতে শুরু করে দিয়েছেন অনেকে।

কিন্তু এখনই শীত বিদায় নিচ্ছে না। বরং মার্চের শুরুতেও কলকাতা-সহ গোটা রাজ্যে যথেষ্ট শীত অনুভূত হতে পারে।

কলকাতা বা দক্ষিণবঙ্গের ক্ষেত্রে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকেই শীত পাততাড়ি গোটাতে শুরু করে দেয়। উত্তরবঙ্গে আরও কিছু দিন শীত থাকে।

কিন্তু এ বার পরিস্থিতি অন্য রকম। আবহাওয়ার চরিত্র বিশ্লেষণ করে আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, মার্চের শুরুতেও সোয়েটার পরতে হতে পারে কলকাতাবাসীকে।

এর নেপথ্যে রয়েছে একের পর এক পশ্চিমী ঝঞ্ঝা।

এ বছর জানুয়ারি থেকে একের পর এক পশ্চিমী ঝঞ্ঝা হানা দিচ্ছে উত্তর ভারতে। সব ক’টাই শক্তিশালী। ফেব্রুয়ারিতেও তার বিরাম নেই।

আবহাওয়া দফতরের পরিসংখ্যান বলছে, ফেব্রুয়ারিতে এখনও পর্যন্ত সাতটা ঝঞ্ঝা হানা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিকে কিছুটা অস্বাভাবিক বলে মনে করছে আবহাওয়া দফতর।

আরও পড়ুন পুলওয়ামা হামলা নিয়ে মুখ খুললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যা, একটি পশ্চিমী ঝঞ্ঝা উত্তর ভারতে হানা দিলে উত্তুরে হাওয়ায় সাময়িক বাধা পড়ে। এই মুহূর্তে ঠিক সেটাই হয়েছে এ রাজ্যের ক্ষেত্রে।

পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাবে উত্তর ভারতে ব্যাপক ঝড়বৃষ্টি-তুষারপাত হচ্ছে। সেই কারণে বন্ধ হয়েছে উত্তুরে হাওয়া। সেই সুযোগে বায়ুমণ্ডলে দক্ষিণা বাতাস ঢুকে পড়েছে।

এই ঝঞ্ঝা কেটে গেলে আকাশ পরিষ্কার হয়ে গেলেই প্রবল বেগে হিমশীতল উত্তুরে হাওয়া ঢুকে পড়ে।

আগামী দিনে এ রকমই হবে রাজ্যের ক্ষেত্রে।

পশ্চিমী ঝঞ্ঝার সঙ্গে বঙ্গোপসাগর থেকে বয়ে আসা জলীয় বাষ্পের সংমিশ্রণে আগামী রবিবার থেকে সামনের সপ্তাহের বুধবার পর্যন্ত ভালো বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা গোটা রাজ্যে।

এত দিন পর্যন্ত বেশি বৃষ্টি উত্তরবঙ্গই পেয়েছে। কিন্তু এ বার কলকাতা-সহ সমগ্র দক্ষিণবঙ্গই ভালো বৃষ্টি পেতে পারে। শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনাও থাকছে।

এই বৃষ্টির পরিস্থিতি কেটে গেলেই আবার কিছু দিনের জন্য ঢুকে পড়বে উত্তুরে হাওয়া। ফলে মার্চের শুরুর দিকে কলকাতার পারদ ১৪-১৫ ডিগ্রিতে নেমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ফলে, বসন্তের মাঝামাঝি পর্যন্ত শীত যে চলবে সেই ব্যাপারে এক প্রকার নিশ্চিত আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা।

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন