kalighat child death

কলকাতা: আমরি হাসপাতালে আড়াই বছরের শিশুকন্যা ঐত্রি দের মর্মান্তিক মৃত্যুতে শোকবিহ্বল বাবা-মা সাক্ষাৎ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে। তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর কালীঘাটের বাড়িতে প্রায় দেড় ঘণ্টা ছিলেন। কথা বলে বাইরে এসে মৃত ঐত্রির বাবা জয়ন্ত দে বলেন, তাঁরা সরকারি তদন্তে আস্থা রাখছেন। এবং সুবিচার পাওয়ার আশা রেখেই তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শ মেনেই চলবেন।

জয়ন্তবাবু জানান, মুখ্যমন্ত্রীর কথামতোই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে তাঁরা স্বাস্থ্য কমিশনে অভিযোগ দায়ের করবেন। ইতি মধ্যেই অবশ্য হাসপাতালের আধিকারিক জয়ন্তী চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

জানা গিয়েছে, পুলিশ অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে দিয়েছে। ঘ‌টনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রক্রিয়ার স্বার্থে হাসপাতালের কাছে চেয়ে পাঠানো হয়েছে সিসিটিভি ফুটেজ। এ ছাড়া পুলিশের তরফে ঐত্রির চিকিৎসা সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য চেয়ে পাঠানো হয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে। এমনও শোনা যাচ্ছে খুব শীঘ্রই জয়ন্তী চট্টোপাধ্যায়কে থানায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। অন্য দিকে মৃত ঐত্রিকে সত্যিই কোনো ভুল ইনজেকশন দেওয়া হয়েছিল কি না বা তার হৃদযন্ত্রে আদৌ কোনো সমস্যা ছিল কি না, সে সব বিষয় খতিয়ে দেখতে ময়নাতদন্তকারীরা কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নিচ্ছেন। এ ক্ষেত্রে মৃত শিশুকন্যাটির হৃদযন্ত্রের মাংসপেশির হিস্টোপ্যাথলজিক্যাল ‌টেস্ট করা হবে।

জানা গিয়েছে, শোকস্তব্ধ ঐত্রির বাবা-মায়ের পাশে থাকার আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী সঠিক তদন্তের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন। তিনি যে ওই ঘটনার কথা আগেই জেনেছেন, সে কথা জানান। গত বুধবার যখন শিশু মৃত্যুর ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠেছিল মুকুন্দপুরের ওই হাসপাতাল চত্বর তখন মুখ্যমন্ত্রী ব্যস্ত ছিলেন চতুর্থ বাংলা বিশ্ব বাণিজ্য সম্মেলনে। এ ব্যাপারে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে তির্যক মন্তব্য করতে ছাড়েনি। বৃহস্পতিবার তিনি যে ভাবে ওই শোকস্তব্ধ পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে সহানুভূতি জানালেন, তা সত্যিই প্রয়োজন ছিল বলে মনে করা হচ্ছে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here