কী এই কাটমানি? যার জেরে উত্তাল বাংলা!

0
cut money
ইসলামপুর পুরসভার অভিযুক্ত এক কাউন্সিলরের বাড়ির সামনে কাটমানি ফেরতের দাবিতে দেওয়ালে ‘চোর’ লিখে ক্ষোভ উগরে দিলেন আন্দোলনকারীরা। ছবি: এই সময় থেকে

ওয়েবডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের এখন চলতাফেরতা শব্দবন্ধ ‘কাটমানি’। রাজ্যের শাসক দল তৃণমূলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে শান দিতে জেলায় জেলায় চলছে ‘কাটমানি বিক্ষোভ’। তবে এই ‘কাটমানি-বিপ্লবে’র সূচনা করেছেন তৃণমূলনেত্রী তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং। কী এই ‘কাটমানি’? দুর্নীতির কোন শ্রেণিতে ফেলা যায় এই ‘কাটমানি’কে?

‘কাটমানি’র অভিধানগত অর্থ যাইহোক না কেন, পশ্চিমবঙ্গের সমসাময়িক পরিস্থিতি বলছে, ‘কাটমানি’ হল সেই টাকা যা কোনো সরকারি প্রকল্পের অনুমোদন দিতে/পরিষেবা পাইয়ে দিতে জনপ্রতিনিধি/দাপুটে নেতার হাতে তুলে দিতে হয়। অর্থাৎ, সরকার নির্ধারিত মোট টাকা থেকে যে টাকা ‘কাট’ করে কাজের স্বার্থে প্রভাবশালীর হাতে তুলে দিতে হচ্ছে, সেটাই ‘কাটমানি’।

উদাহরণ হিসাবে বলা যেতে পারে, কোনো সরকারি প্রকল্পে বরাদ্দের পরিমাণ ১০০ টাকা। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি গ্রাহককে জানালেন, ওই টাকা পাওয়ার অনুমোদন পেতে তাঁকে ২৫ টাকা ‘চার্জ’ জিতে হবে। এই টাকা বেশির ভাগ সময়ই নিচু তলার রাজনীতিক থেকে উঁচু তলায় স্তরে স্তরে পৌঁছে যায়।

এই টাকা শুধু আর্থিক বরাদ্দ নয়, প্রকল্প বরাদ্দের জন্যও হতে পারে। পুরো টাকাটাই নগদে লেনদেন হয়। করের আওতায় পড়ে না এই ‘কাটমানি’। এ ভাবে কয়েক কোটি টাকার প্রকল্পে ‘কাটমানি’র পরিমাণ কয়েক লক্ষ টাকায় পৌঁছে যেতে পারে। উদাহরণ হিসাবে বলা যেতে পারে তৃণমূলের বুথ স্তরের নেতা ত্রিলোচন মুখোপাধ্যায়ের ২.২৫ লক্ষ টাকা ফেরত দেওয়ার ঘটনার কথাও। অভিযোগ, ১৪১ জন শ্রমিকের আট মাসের বেতন থেকে তিনি ওই টাকা ‘কাট’ করেছিলেন।

Cutmoney

তবে ঘুষ নেওয়ার বিষয়টি মোটেই পশ্চিমবঙ্গে বা তৃণমূল কংগ্রেসে সীমাবদ্ধ নয়। একটি আন্তর্জাতিক সমীক্ষার রিপোর্ট বলছে, ভারতে এক বছরে ঘুষের পরিমাণ ১১% বৃদ্ধি পেয়েছে। যার সঙ্গে পঞ্জাব, উত্তরপ্রদেশ এবং মধ্যপ্রদেশের সরকারি আধিকারিকরা বেশি মাত্রায় জড়িত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.