মাধ্যমিকে সফল হয়েও ভবিষ্যতের প্রশ্নচিহ্নগুলো পিছু ছাড়ছে না সাঁওতালডিহির দীপ্তির

0

শুভদীপ চৌধুরী, পুরুলিয়া: বাবা সামান্য সবজি বিক্রেতা, সংসারে শেষ নেই অভাবের। নুন আনতে পান্তা ফুরোচ্ছে আর সেই অবস্থাতেই দারিদ্রতাকে হার মানিয়ে মাধ্যমিকে সাফল্য অর্জন করল পুরুলিয়ার সাঁওতালডির বাসিন্দা দীপ্তি সিনহা । এ বছরের মাধ্যমিক পরীক্ষায় মোট ৫৯৮ নম্বর পেয়ে সাঁওতালডি ইছর উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রথম স্থান অর্জন করে দীপ্তি ।

সাঁওতালডি ইছর উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রথম স্থানাধিকারী দীপ্তি সিনহা জানায়, বাড়িতে দীপ্তি ও তার বাবা আলোক সিনহা ছাড়াও রয়েছেন মা অর্চনা সিনহা এবং বড়ো দিদি তৃপ্তি সিনহা । পারিবারিক অসচ্ছলতা সত্ত্বেও বাবা-মায়ের উৎসাহে দীপ্তি ও তার দিদির পড়াশোনায় কোনোদিনই প্রভাব পড়তে দেননি আলোকবাবু । জীবনের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় সে পেল সাফল্য, এ জন্য খুশি পরিবারের সমস্ত সদস্য ।

দীপ্তি আরও জানায়, “এই সাফল্যের পিছনে যেমন গুরুত্বপূর্ণ আমার কাছে আমার বাবা-মা, তেমনই গুরুত্বপূর্ণ আমার শিক্ষক-শিক্ষিকা । দারিদ্রতার কারণে ছিলেন না কোনো গৃহশিক্ষক। কিন্তু আশা করেছিলাম মাধ্যমিকে ভালো ফল করে পরিবারের পাশে হয়তো ভবিষ্যতে দাঁড়াব”।

দীপ্তি বলেন, উচ্চমাধ্যমিকে সায়েন্স নিয়ে পড়ার ইচ্ছা রয়েছে তার । কিন্তু পারিবারিক অভাব স্বপ্নপূরণে বাধা সৃষ্টি করবে না তো, এই দুশ্চিন্তাতেই কাটছে এখন প্রত্যেক মুহূর্ত, আদৌ কি উচ্চতর পড়াশোনার সুযোগ পাবে সে, এটাই এখন সবচেয়ে বড়ো প্রশ্ন তার কাছে ।

[ পাশে আছি, সঙ্গে থাকুন ]

বাবা আলোক সিনহা জানান, “মেয়ের মাধ্যমিকের ফল জেনে খুশি সকলেই, কিন্ত জানি না কতদূর পড়াতে পারব ওকে, দারিদ্রতাই যে বড়ো সমস্যা আমাদের পরিবারে । আর্থিক ও শিক্ষামূলক সাহায্য পেলে হয়তো আবার পড়াশোনা করে দীপ্তি ওর স্বপ্ন পূরণ করতে পারবে”।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here