election

কলকাতা: শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চে বিচারপতি সুব্রত তালুকদারের রায় ঘোষণার পরই রাজ্য রাজনীতিতে তুমুল শোরগোল। পাশাপাশি সৃষ্টি হয়েছে মাত্রাহীন ঔৎসুক্য। সবারই একটিই জি়জ্ঞাস্য-পঞ্চায়েত ভোট তা হলে কবে?

হাইকোর্টের নির্দেশে রাজ্য নির্বাচন কমিশনই নতুন নির্ঘণ্ট প্রকাশের এক মাত্র দাবিদার হলেও নতুন তালিকা প্রকাশে দ্বিতীয় পক্ষের সিদ্ধান্ত আরোপের সম্ভাবনা থেকেই যায়। শাসক দল তৃণমূলের তরফে অবশ্য এ বিষয়ে কোনো সংযোজন করা হয়নি। সরকারি আইনজীবী বা তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, ‘উন্নয়ন আটকে দেওয়ার জন্যই ষড়যন্ত্র করে নির্বাচন বন্ধ করার চেষ্টা চলছে’। কিন্তু হাইকোর্ট তো বলেছে, নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়া হল, তা হলে বন্ধ করার প্রশ্ন আসছে কোথা থেকে?

একটি বিষয়ে দ্বিমত নেই শাসক-বিরোধী কোনো পক্ষেরই। পূর্ব নির্ধারিত ১,৩, ৫ মে ভোট না হলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ভোট করানো শুধু কঠিনই নয়, অনিশ্চিত। কারণ সংখ্যালঘু কয়েকটি সংগঠন আগে থেকেই আওয়াজ তুলে রেখেছে, রমজান মাসের মধ্যে যেন ভোটগ্রহণ না করা হয়। ক্যালেন্ডার অনুযায়ী এ বছরের রমজান মাস শুরু হচ্ছে ইংরাজির ১৫ মে, শেষ ১৪ জুন। স্বাভাবিক ভাবে সংখ্যালঘু আবেগে আঘাত দিয়ে রাজ্য সরকার ভোট করাতে রাজি হবে কি না, সেটা দেখার।

অন্য দিকে আগামী আগস্ট মাসের মধ্যে শেষ হচ্ছে বর্তমান পঞ্চায়েতগুলির মেয়াদ। অর্থাৎ জুলাইয়ের মধ্যে ভোট করাতে পারলে নিশ্চিন্ত হতে পারে সরকার। কিন্তু বাদ সাধছে আরও একটি বিষয়। তা হল বর্ষা। বিভিন্ন বেসরকারি আবহাওয়া পূর্বাভাস জ্ঞাপক সংস্থা তো আছেই খোদ কেন্দ্রের আবহাওয়া দফতরও জানিয়ে রেখেছে, এ বছর বর্ষা আসবে অন্যান্য বারের থেকে একটু আগেই। পাশাপাশি বৃষ্টির পরিমাণ এ বার বাড়বে। ফলে বর্ষা এসে গেলে কী ভাবে গ্রামে-গঞ্জে নির্বাচনের কাজ পরিচালনা করা সম্ভব, সেটাও মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অন্য উল্লেখযোগ্য কারণ, নির্বাচন কর্মীদের নিয়ে। ভোটের কাজে শিক্ষকদের ব্যবহার করার জন্য এ বার মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিকের ফল ঘোষণা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু ভোট পিছিয়ে গেলে শিক্ষকরা তো সেই খাতা দেখাতেই সময় দিতে পারবেন না। তাঁদের আবার নি্র্বাচনী প্রশিক্ষণের জন্য বাড়তি সময়ও দিতে হবে। যা কমিশন বাতিল করেছে আদালতের স্থগিতাদেশের পরে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছিল, হাইকোর্ট মনোনয়ন জমা করার জন্য বাড়তি এক দিন ঘোষণার নির্দেশ দিলে আগামী শনিবারই তা গ্রহণ করা হতে পারে। কিন্তু শুক্রবারের রায় সমস্ত পরিকল্পনাকেই নতুন করে সাজানোর দিকে ঠেলে দেওয়ায় কমিশনও সময় নেবে।

সব দিকে নজর রেখে একটি মহল থেকে দাবি করা হচ্ছে মে মাসের ১৩ তারিখ হবে ভোট। তবে এতে সরকারি স্বীকৃতি এখনও মেলেনি। কারণ, এ ব্যাপারে হয়তো দ্বিতীয় পক্ষের পরামর্শের প্রয়োজন রয়েছে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here