ওয়েবডেস্ক: নির্ধারিত সময়ের তিন দিন আগেই মঙ্গলবার কেরলে প্রবেশ করেছে বর্ষা। পরিস্থিতি যা তাতে বৃহস্পতিবার কর্নাটকে ঢুকে যেতে পারে বর্ষা। ইতিমধ্যেই প্রবল বৃষ্টি হচ্ছে কর্নাটকের বিভিন্ন অংশে। তৈরি হয়েছে বন্যা পরিস্থিতিও। এক দিকে কেরল এবং কর্নাটক যখন বৃষ্টিতে নাজেহাল তখন ঠিক উলটো ছবি পশ্চিমবঙ্গে।

উত্তরবঙ্গে আবহাওয়া মনোরম হলেও, কলকাতা-সহ সমগ্র দক্ষিণবঙ্গে ত্রাহি ত্রাহি রব। চাতকপাখির মতো বৃষ্টির অপেক্ষা করছেন সাধারণ মানুষ। এই পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গে কবে বর্ষা পৌঁছোতে পারে সে ব্যাপারে কিছু ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে।

কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দফতর, বেসরকারি আবহাওয়া সংস্থা স্কাইমেট এবং ওয়েদার আল্টিমা নিজেদের মতো করে রাজ্যে বর্ষা আগমনের দিন ধার্য করেছেন।

সাধারণত উত্তরপূর্ব ভারত হয়ে উত্তরবঙ্গেই প্রথম পা রাখে বর্ষা। স্বাভাবিক নিয়ম মেনে চললে উত্তরবঙ্গে বর্ষার আগমনের দিন ৫ জুন। এর তিন দিন পর কলকাতা-সহ সমগ্র দক্ষিণবঙ্গে পা রাখে বর্ষা। এ বার দক্ষিণবঙ্গে বর্ষা পৌঁছোতে পারে ১০ জুন। এমনই মনে করছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। তবে তার বেশ কিছু দিন আগেই উত্তরবঙ্গে বর্ষার বৃষ্টি শুরু হয়ে যাবে বলে মনে করছেন আবহাওয়া দফতরের ডিরেক্টর গণেশ দাস।

তিনি বলেন, “যা পরিস্থিতি তাতে মনে হচ্ছে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই উত্তরপূর্বের চার রাজ্য ত্রিপুরা, মণিপুর, মিজোরাম এবং নাগাল্যান্ডে বর্ষা পৌঁছচ্ছে। তার পরেই অসম, মেঘালয় হয়ে উত্তরবঙ্গে পৌঁছোবে বর্ষা। উত্তরবঙ্গে বর্ষা পৌঁছোলে আমরা আশা করছি কলকাতা-সহ সমগ্র দক্ষিণবঙ্গে ১০ জুন বর্ষা পা রাখবে।”

অন্য দিকে ওয়েদার আল্টিমার কর্ণধার রবীন্দ্র গোয়েঙ্কা মনে করেন, দক্ষিণবঙ্গে বর্ষা পৌঁছোবে আরও দু’দিন পরে, অর্থাৎ ১২ জুন। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, “বর্তমানে বর্ষা বঙ্গোপসাগরে যে গতিতে এগোচ্ছে তার পেছনে রয়েছে একটি নিম্নচাপ। সেই নিম্নচাপ দুর্বল হয়ে গেলেই ফের থমকে যাবে বর্ষার গতি। নতুন কোনো নিম্নচাপের সৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত বর্ষার বিশেষ এগোনোর সম্ভাবনা নেই।” তবে উত্তরবঙ্গে বর্ষা ৬ জুন পৌঁছোতে পারে বলে জানিয়েছেন রবীন্দ্রবাবু।

অন্য দিকে স্কাইমেট এই ব্যাপারে স্পষ্ট করে কিছু না বললেও জানিয়েছে রাজ্যে বর্ষা আসবে ১০ জুনের আগে। তবে উত্তরবঙ্গ বা দক্ষিণবঙ্গের ব্যাপারে তারা আলাদা করে কিছু বলেনি। সুতরাং বর্ষার জন্য উত্তরবঙ্গের মানুষকে আরও এক সপ্তাহ এবং দক্ষিণবঙ্গের মানুষকে আরও অন্তত দশ দিন মতো অপেক্ষা করতে হবে।

তবে বর্ষা আসতে কিছুটা দেরি হলেও, বৃহস্পতিবার থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় প্রাকবর্ষার বৃষ্টি শুরু হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন রবীন্দ্রবাবু। বিক্ষিপ্ত ভাবে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় এই বৃষ্টি চলবে বলে জানিয়েছেন তিনি। এর প্রভাবে প্রবল আর্দ্রতা থেকে সাময়িক মুক্তি পেতে পারেন সাধারণ মানুষ।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here