samantamara village
টিউবওয়েলের বেহাল দশা। নিজস্ব চিত্র।
ইন্দ্রাণী সেন

বাঁকুড়া: লাল মাটির দেশ বাঁকুড়া। এখানকার বড়জোড়া ব্লকের বেলিয়াতোড় গ্রাম পঞ্চায়েতে শাল গাছের জঙ্গল ঘেরা এলাকাতেই অবস্থিত আদিবাসী প্রধান গ্রাম সামন্তমারা। মাত্র পঁচিশটি আদিবাসী পরিবার এখানে বাস করেন। অন্যান্য আর পাঁচটা গ্রামের সঙ্গে এই গ্রামের পার্থক্য একটাই। আধুনিক সভ্যতার কোনো আলো এখনও সে ভাবে এই গ্রামে আজও পৌঁছোয়নি।

শিশু অধিকার সপ্তাহে এই গ্রামের শিশুরাই বঞ্চিত হচ্ছে তাদের প্রাপ্য অধিকার থেকে। এই গ্রামের শিশুদের পড়াশোনার জন্য নেই কোনো প্রাথমিক বিদ্যালয়। নেই আইসিডিএস কেন্দ্র।  জঙ্গলের ভেতর দিয়ে আড়াই কিমি পথ পেরিয়ে পড়তে যেতে হয় পাশের গ্রামের এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। হাতির আক্রমণের ভয় দিনরাত তাড়া করে বেড়ায় এই গ্রামের মানুষদের। এই বেলিয়াতোড় রেঞ্জ এলাকায় গত কয়েক বছর ধরে রয়েছে কয়েকটি ‘রেসিডেন্সিয়াল’ হাতি।  এক প্রকার ঝুঁকি নিয়েই দীর্ঘ জঙ্গলপথ পেরিয়ে স্কুলে যেতে বাধ্য সামন্তমারা গ্রামের শিশু পড়ুযারা।  স্বাস্থ্য পরিষেবার অবস্থাও অবর্ণনীয়। সমস্যার সমাধানে পঞ্চায়েত এবং ব্লকসত্রে একাধিকবার আবেদন জানানো হয়েছে।

 

the well at samantamara village
জলের জন্য একমাত্র ভরসা এই পাতকুয়ো। নিজস্ব চিত্র।

গ্রামবাসীদের অভিযোগ, গ্রামে না আছে পরিশ্রুত পানীয় জলের ব্যবস্থা, প্রাথমিক বিদ্যালয় তো দূরের কথা। সুলভ শৌচাগারেরও কোনো ব্যবস্থা হয়নি গ্রামে, এমনই অক্ষেপ গ্রামবাসীদের। খাবার জলের জন্য একমাত্র ভরসা ১৯৯৭ সালে পঞ্চায়েতের সৌজন্যে তৈরি হওয়া একটি মাত্র পাতকুয়ো।

আরও পড়ুন খোলা জায়গায় শৌচকর্ম করা গ্রামবাসীদের কেন মিষ্টি খাওয়াতে গেলেন ইন্দাসের বিডিও?

স্থানীয় গ্রামবাসী শিবদাস হাঁসদা বলেন, “বনভূমির জন্য পাওয়া পাট্টাতেও ভুল। কাঠ কুড়িয়ে দিনমজুর খেটে দিন কাটাই।” দারিদ্র সীমার নীচে বসবাস করা সত্ত্বেও এখনও কেউ সরকারি গৃহ নির্মাণ প্রকল্পে বাড়ি পায়নি বলে অভিযোগ। স্থানীয় বাসিন্দা সরস্বতী হাঁসদা বলেন, “পাতকুয়ার জল খেয়ে শরীর খারাপ হয়। কিন্তু বাধ্য হয়েই ওই জলই খেতে হয়।”

যদিও গ্রামবাসীদের অভিযোগ অস্বীকার করে জেলাপ্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, গত তিন বছরে ওই গ্রামে চার জন গীতাঞ্জলি প্রকল্পে বাড়ি পেয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার কাজও চলছে।

নবনির্বাচিত বাঁকুড়ার সভাধিপতি মৃতুঞ্জয় মুর্মুর কাছে এই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “সবে মাত্র দায়িত্বভার গ্রহণ করেছি। বিষয়টি জানা ছিল না। দ্রুত সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করব। বর্তমান সরকার সমাজের সমস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ।”

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here