bjp
Samir mahat
সমীর মাহাত

‘আতঙ্কমুক্তি’ ঘটেছে কয়েক বছর আগেই। ফলে এ বারের পঞ্চায়েত ভোটে গোটা জঙ্গলমহলে শাসক-বিরোধী হাড্ডাহাড্ডি লড়াই জমে উঠেছে প্রচার পর্বেই। কিন্তু এলাকার অতিপরিচিত এবং প্রভাবশালী আঞ্চলিক ঝাড়খণ্ডি দলগুলির উপস্থিতি নিতান্তই কম। কোথায় গেল তারা?

এ কথা নতুন নয়, ২০০৮-‘১১ সাল পর্যন্ত জঙ্গলমহল চরম আতঙ্কের ঘেরাটোপে ছিল। তার ফাঁকেই সরকারে আসে পরিবর্তনপন্থী তৃনমমূল। গত পঞ্চায়েত পর্যন্ত, ছাপোষা ভোটব্যাঙ্ক পুরোপুরি আতঙ্ক কাটিয়ে উঠতে পারেনি। দলমত নির্বিশেষে বেশির ভাগ চাইছিলেন এলাকায় অন্তত শান্তি জারি থাক। এই পাঁচ বছরের মধ্যে এলাকার রাজনৈতির পরিবেশের বদল ঘটে গিয়েছে। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে কন্যাশ্রী, যুবশ্রী, আমারবাড়ি, জল ধরো জল ভরো-সহ একাধিক প্রকল্পের মাধ্যমে ছেয়ে ফেলা হয়েছে জঙ্গলমহলকে।

পাশাপাশি, কেন্দ্রে বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর বিরোধী প্লাটফর্ম হিসাবে জঙ্গলমহলের বিভিন্ন দলের কর্মীরা সেখানে একত্রিত হতে শুরু করে। এই পঞ্চায়েতে যার বহিপ্রকাশ প্রত্যক্ষ করছেন এলাকার মানুষ। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরাও বলছেন, এই পঞ্চায়েতে সবকটি ব্লকেই জোরদার লড়াই হবে। কিন্তু এত দিন এলাকায় আঞ্চলিক ঝাড়খণ্ডি দলগুলি বাম আমলে বিরোধিতার ময়দানে থাকলেও বর্তমানে প্রায় অস্তিত্ব হারাতে বসেছে। সিপিএম ও কংগ্রেস বিক্ষিপ্ত ভাবে এলাকায় প্রার্থী দিয়েছে। কিন্তু এলাকায় এককালে প্রভাবশালী সেই সমস্ত ঝাড়খণ্ডি দলগুলি বিচ্ছিন্ন ভাবে কোথাও কোথাও প্রার্থী দিলেও হারিয়েছে সেই জৌলুস।

আরও পড়ুন: মহেশতলা উপনির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর নাম চুড়ান্ত করে ফেলল রাজ্য বিজেপি

ঝাড়গ্রামের বর্ষীয়ান এক রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ বলেন,বিক্ষুব্ধ তৃণমূল, “একনিষ্ঠ ঝাড়খণ্ডিদের একাংশ, সিপিএমের একটা বড় অংশ ও অন্যান্য বিরোধীরা বিজেপির শিবির শক্ত করেছে। উন্নয়নের বহু অংশ যে কেন্দ্রীয় সরকারের, তা তারা প্রচারের হাতিয়ার করেছে। কতটা কাজে লাগাতে পারবে, সেটাই দেখার”।

এ ব্যপারে ঝাড়খণ্ড আজসু পার্টির মনোনীত বিনপুর-২ ব্লকের জেলা পরিষদ প্রার্থী গুণধর মাহাত জানান, “এ বার সবাই স্বতস্ফূর্ত ভোটের লাইনে দাঁড়াবে, যে যার জায়গা থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে এটাই বড় কথা। সব স্তরেই কিছু রদবদলের সম্ভাবনা এ বারের ভোটে হতে পারে”।  ঝাড়গ্রামের এক তৃণমূল নেতা বলেন, ” শুধু উন্নয়ন নয়, সারা বছর ধরে নীচুতলার মানুষের কাজে ব্যস্ত আমাদের কর্মীরা। ভোটের সময় ভুল বোঝালে কেউ তাদের কথা শুনবে না, সিপিএমের কিছু লোক ঢুকে তাদের সঙ্গে অপপ্রচার চালাচ্ছে।” বিজেপির জেলা নেতা সঞ্জিত মাহাত বলেন,”অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আমরা ভালই ফল পাব।” আবার জামবনি ও বিনপুর-২ ব্লকে আদিবাসীদের সামাজিক সংগঠন নির্দল হিসেবে ভোটে লড়ছে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here