ফের পাহাড় রাজনীতির শিরোনামে তিনি, কে এই বিমল গুরুং

0
1449

দার্জিলিং: ১৯৮৬ সালে গোর্খা ভলান্টিয়ার্স সেল (জিভিসি)-এর সঙ্গে যুক্ত না হলে আর পাঁচটা সাধারণ মানুষই থাকতেন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা প্রধান বিমল গুরুং। গরিব চা বাগান কর্মীর ঘরে জন্মগ্রহণ করা বিমল, ৮৬-তে সুবাস ঘিসিং-এর গোর্খাল্যান্ড আন্দোলনে যোগ দেন।

কিন্তু দু’বছর পরই জিভিসি ছাড়েন তিনি। বলা যায় ঘিসিং-এর সঙ্গ ত্যাগ করেন তিনি। কারণ গোর্খ্যাল্যান্ড আন্দোলন প্রত্যাহার করে কেন্দ্র এবং রাজ্যের সঙ্গে চুক্তি করেন ঘিসিং, যার থেকে তৈরি হয় তৎকালীন দার্জিলিং গোর্খা হিল কাউন্সিল (ডিজিএইচসি)। ১৯৯২ সালে পাহাড়ের বেকার যুবকদের নিয়ে একটি সংগঠন তৈরি করে ফের জনসমক্ষে আসেন গুরুং।

গুরুং-এর একটা সুনাম রয়েছে যে, তিনি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে সখ্য বজায় রেখে চলেন। এই সুনামটি ঘিসিং-এর ছিল না। কিছুদিন আগে এই দৈনিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “গোর্খাল্যান্ডের জন্যই বিমল গুরুং জন্মেছে। আমি এখানকার মানুষকে ঠকাতে পারি না। যদি গোর্খাল্যান্ড না অর্জন করতে পারি, মানুষ আমাকে ছাড়বে না।”

ছোটোবেলায় খুব কষ্ট করে জীবনযাপন করতেন গুরুং। তাঁকে উচ্চশিক্ষা দেওয়ার ক্ষমতা তাঁর পরিবারের ছিল না। প্রাথমিকের পর আর পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেননি তিনি। প্রাথমিকের সময়েই ছোটোখাটো কাজ করতে হত তাঁকে।

১৯৯৯ সালে নির্দল প্রার্থী হিসেবে তুকভার কেন্দ্র থেকে ডিজিএইচসি-এর নির্বাচনে জেতেন গুরুং। তাঁর জনপ্রিয়তা দেখে নিজের দল গোর্খা ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্ট (জিএনএলএফ)-এ তাঁকে নিয়ে আসেন ঘিসিং।

আট বছর পর ফের সংবাদ শিরোনামে গুরুং। ২০০৭-এর ৭ অক্টোবর জিএনএলএফ ছেড়ে নিজের দল গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা (জিজেএম) তৈরি করেন তিনি। শুরুতেই তাঁর চ্যালেঞ্জ ছিল ইন্ডিয়ান আইডলের প্রতিযোগী প্রশান্ত তামাং-কে বিজয়ী করা। প্রশান্তকে জেতানোর জন্য গুরুং-এর ভূমিকার কথা এখনও দার্জিলিং-এর লোকমুখে শোনা যায়।

এরই মধ্যে ক্রমশ জনপ্রিয়তা হারাতে শুরু করেন ঘিসিং। অনেকেই মনে করেন আলাদা রাজ্যের দাবি থেকে পিছিয়ে এসেছেন ঘিসিং, এখানেই উত্থান শুরু গুরুং-এর। ফের শুরু হয় গোর্খাল্যান্ড আন্দোলন। যার সামনে থাকেন গুরুং।

২০১১-তে তৈরি হয়, আরও একটি স্বশাসিত সংগঠন গোর্খাল্যান্ড টেরিটরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (জিটিএ)। জিটিএ গঠন হওয়ার পর গোর্খাল্যান্ডের ব্যাপারে কিছুটা সুর নরম করলেও পাহাড় রাজনীতির সর্বেসর্বা ছিলেন গুরুং-ই।

কিন্তু কয়েকমাস হল পাহাড়ে কমেছে গুরুং-এর জনপ্রিয়তা। একদিকে জিটিএ-এর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ, তার ওপর ২০১০-এ মদন তামাং হত্যা মামলায় নিজের নাম জড়িয়ে যাওয়া, সব মিলিয়ে কোণঠাসাই হয়েছেন তিনি। এরইমধ্যে পাহাড়ে ক্রমশ থাবা বসাতে শুরু করে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস।

তাঁর ওপর থেকে পাহাড়বাসীর সমর্থন কিছুটা সরছে, সেটা প্রমাণিত হয়ে যায় গত মাসের পুরভোটে, যেখানে মিরিক পুরসভায় ক্ষমতা দখল করে তৃণমূল। পাশাপাশি দার্জিলিং, কালিম্পং এবং কার্শিয়াং-এও কয়েকটি ওয়ার্ড জেতে শাসক দল। এককালে ঘিসিং এবং পরে গুরুং, পাহাড়ি রাজনীতিতে ছড়ি ঘুরিয়েছেন এই দু’জনেই, সেখানে সমতলের দল থাবা বসানোয় তিনি যে চাপে ছিলেন তা বলাই যায়। তৃণমূল থাবা বসানোয়, পাশাপাশি একদা মোর্চা নেতা হরকা বাহাদুর ছেত্রী নতুন দল জন আন্দোলন পার্টি তৈরি করায়, মোর্চার ভোট ব্যাঙ্কে প্রভাব পড়ছিল। হারিয়ে যাচ্ছিলেন গুরুং-ও।

এই মাসের জিটিএ নির্বাচন। তার আগে ‘চমকপ্রদ’ কিছু করার দরকার ছিল তাঁর তথা তাঁর দল মোর্চার। সেখানে অনেকটাই তিনি ‘সফল’ হয়েছেন বলাই যায়। দীর্ঘদিন পর আবার পাহাড় রাজনীতির শিরোনামে চলে এসেছেন তিনি।

গুরুং-এর দুই সন্তান। তাঁর ছেলে কয়েকটি নেপালি সিনেমায় অভিনয় করেছেন, তাঁর মেয়ে আইন নিয়ে পড়াশোনা করছেন। তাঁর স্ত্রী আশা গুরুং জিটিএ-এর নির্বাচিত সদস্য।

আন্দোলনে ওঠানামা থাকলেও শরীরচর্চায় কিন্তু গুরুং অসম্ভব একনিষ্ঠ। স্বাস্থ্য নিয়ে প্রচণ্ড খুঁতখুঁতে। রোজ সকালে ফ্রি হ্যান্ড এবং অন্যান্য ব্যায়াম না করলে তাঁর চলে না। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিকেল-সন্ধ্যার জোর কদমে হাঁটার মতোই।

 

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here