নিজস্ব সংবাদদাতা, জয়নগর: বৃহস্পতিবার জয়নগরের পেট্রোল পাম্পে দুষ্কৃতীদের ছোড়া এলোপাথাড়ি গুলি ও বোমায় নিহত হয়েছেন তিন জন। এঁদের মধ্যে এক জন সারফুদ্দিন খান (৩২), যিনি স্থানীয় জয়নগর-মজিলপুর টাউন জয়হিন্দ বাহিনীর সভাপতির পদে ছিলেন। আর একজন সেলিম খান (২৪) ওরফে বাবু (যাঁকে গাড়ির চালক হিসাবে বলা হচ্ছে), অন্য জনের নাম আমিন গাজি (৩২) ওরফে তোতন বলে দাবি করা হয়েছে পুলিশের তরফে। স্থানীয় বিধায়ক বিশ্বনাথ দাস দাবি করেছেন, ওই গাড়িটি সারা দিনই তিনি নিজের কাজে ব্যবহার করেছিলেন। ফলে তিনিই ছিলেন দুষ্কৃতীদের টার্গেট। তবে স্থানীয় মানুষ বলছেন অন্য কথা!

জয়নগর-মজিলপুর পুরসভার ৬নম্বর ওয়ার্ডের হাসানপুরের বাসিন্দা সারফুদ্দিন। তাঁর পরিবারের গেঞ্জি প্রিন্টিংয়ের ব্যবসা রয়েছে। তবে দীর্ঘ দিনের পুরনো এসইউসি কর্মী হিসাবেই তাঁকে চিনতেন বলে দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁরা জানাচ্ছেন, গত ২০১৬ বিধানসভা নির্বাচনের পর তিনি শিবির বদল করে তৃণমূলে যোগ দেন। তবে সে সময় তিনি যে তৃণমূল নেতার হাত ধরে শিবির বদল করেছিলেন, বর্তমানে তিনি আর সেই শিবিরে ছিলেন না বলেও দাবি করেছে তৃণমূলেরই একাংশ। তিনি গত ২ জুন জয়নগর-মজিলপুর টাউন জয়হিন্দ বাহিনীর সভাপতি হিসাবে মনোনীত হন।

ঘটনার পরই তৃণমূল বিধায়ক বিশ্বনাথ দাস সংবাদ মাধ্যমের কাছে দাবি করেন, তাঁর উপর হামলা টালাতেই এসেছিল দুষ্কৃতীরা। এর পিছনে বিরোধীরা রয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর। কিন্তু স্থানীয় সূত্রে খবর, ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে শাসক দলের গোষ্ঠীকোন্দল। তবে দলের জেলা সভাপতি শুভাশিস চক্রবর্তী এ ধরনের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর দাবি, এর পিছনে বিরোধীদের হাত রয়েছে।

অন্য দিকে স্থানীয় সূত্রে খবর, কয়েক বছর আগে একটি খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত হয়ে জেল খেটেছিলেন সারফুদ্দিন।

ছবি: ফেসবুক থেকে

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here