mahestala-election

কলকাতা: মহেশতলায় কে হবে ‘সেকেন্ড বয়’, সেটাই লক্ষ্য রাখছে তৃণমূল!

হাতে মেরেকেটে চারটে দিন, আগামী ২৮ মে মহেশতলা বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচন। ওই কেন্দ্রের তৃণমূল বিধায়ক কস্তুরী দাসের মৃত্যুর পর উপনির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন তাঁর স্বামী দুলাল দাস। তবে শুধু মাত্র সহানুভূতির ভোটে নয়, এই কেন্দ্রের জয়ের ব্যাপারে তৃণমূলকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে বহুবিধ কারণ। ফলে নিজেদের জয় নিশ্চিত করে শাসক দলের কাছে এখন আলোচ্য বিষয়, কে পেতে পারে দ্বিতীয় স্থান?

রাজ্যের সাম্প্রতিক কয়েকটি বিধানসভা এবং লোকসভার উপনির্বাচনে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বিজেপির ভোট। সদ্য শেষ হওয়া রাজ্যের প়ঞ্চায়েত নির্বাচনে ত্রিস্তরীয় ভাবে আসন দখলের নিরিখে সিপিএম-কংগ্রেসকে পিছনে ফেলেছে বিজেপি। স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠছে, মহেশতলাতেও কি দ্বিতীয় স্থান দখল করতে সক্ষম হবে গেরুয়া শিবির?

সিপিএম এ বার মহেশতলায় প্রার্থী করেছে বামপন্থী যুব ও শ্রমিক আন্দোলনের নেতা প্রভাত চৌধুরীকে। প্রভাতবাবু এলাকারই বাসিন্দা। ফলে ব্যক্তিপরিচিতির একটা প্রভাব থাকবেই। এমনকী জাতীয় কংগ্রেস সিপিএম প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে পৃথক ভাবে লড়ছে না। অন্য দিকে বিজেপি প্রার্থী করেছে, অবসরপ্রাপ্ত আইপিএস সুজিত ঘোষকে। কিন্তু এলাকায় পরিচিতির দিক থেকে তিনি দঢ় নন।

গত ২০১৬ বিধানসভা নির্বাচনে মহেশতলায় বিজেপি ভোট পেয়েছিল মাত্র ৭.৭ শতাংশ। সংখ্যার বিচারে ১৪,৯০৯টি। গত বছর সবং বিধানসভার উপনির্বাচনে বিজেপি তাক লাগানো ফলাফল করেছিল। ২০১৬-য় সবংয়ে বিজেপি প্রার্থী কাশীনাথ বসু ভোট পেয়েছিলেন মাত্র ২.৬ শতাংশ। দেড় বছরে সেই ভোট বেড়েছে অনেকটাই। ২০১৭-র ভোটে বিজেপি প্রার্থী অন্তরা ভট্টাচার্য পেয়েছেন ১৮.০৮ শতাংশ। অর্থাৎ বিজেপির ভোট বেড়েছে সাড়ে ১৫ শতাংশের কাছাকাছি।

স্বাভাবিক ভাবেই গতবারে প্রাপ্ত ৭.৭ শতাংশ ভোটকে বিজেপি সর্বোচ্চ কতটা বাড়াতে পারে সে দিকেই তাকিয়ে রয়েছে তৃণমূল। কারণ তাদের প্রাপ্ত ৫১.২১ শতাংশ ভোট যে অটুট থাকছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত দুলালবাবু। তবে তৃণমূল নেতৃত্ব মনে করেন, আগামী ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটের আগে এটাই সম্ভবত বিজেপি এবং সিপিএমের কাছে গুরুত্বপূর্ণ একটি ভোট। প্রায় ৩৮ শতাংশ সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এই বিধানসভা থেকেই স্পষ্ট হয়ে যেতে পারে, সিপিএম কতটা জমি ধরে রাখতে পারল, উল্টো দিকে কতটা কাড়তে পারল বিজেপি?

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here