তৃণমূল বিধায়ক খুনে ঘুরেফিরে অভিযোগের তির কেন মুকুল রায়ের দিকে?

নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জের বিধায়ক সত্যজিৎ বিশ্বাসকে গুলি করে খুনের পরও মুকুল রায়-সহ চার জনের নামে দায়ের হয়েছে এফআরআই। এই খুনের সঙ্গে তাঁর কী সম্পর্ক?

0
Mukul Roy And Satyajit Biswas
মুকুল রায় এবং সত্যজিৎ বিশ্বাস। গ্রাফিক্স ছবি

ওয়েবডেস্ক: আবার একটা নতুন আইনি জটিলতায় জড়িয়ে গেলেন বিজেপি নেতা মুকুল রায়। গত ২০১৭ সালের নভেম্বরে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর থেকে তিনি জড়িয়েছেন একাধিক মামলায়। গত শনিবার নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জের বিধায়ক সত্যজিৎ বিশ্বাসকে গুলি করে খুনের পরও তাঁর নামে দায়ের হয়েছে এফআরআই। এই খুনের সঙ্গে তাঁর কী সম্পর্ক?

Satyajit Biswas
সত্যজিৎ বিশ্বাস। ফাইল ছবি

নিজের বিরুদ্ধে এফআরআই দায়ের হলেও মোটে দমে যাননি মুকুলবাবু। তিনি উল্টে নদিয়া জেলার তৃণমূল সভাপতি গৌরীশঙ্কর দত্তকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন। ঘটনার পর কোনো রকমের তদন্ত ব্যতিরেকেই যে ভাবে গৌরীবাবু তাঁর নাম ধরে সংবাদ মাধ্যমের কাছে দোষী সাব্যস্ত করেছেন, সে কারণেই ওই আইনি নোটিশ।

রবিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েও মুকুলবাবু দাবি করেছেন, “গৌরীশঙ্কর দত্ত বুকে হাত দিয়ে বলবেন কে খুনটা করেছিলেন”। একই সঙ্গে তিনি শনিবার নদিয়ার ফুলবাড়িতে ঘটে যাওয়া ওই মর্মান্তিক ঘটনার জন্য দায়ী করেছেন তৃণমূলরে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বকেই।

Gun
ঘটনাস্থলের অদূরে উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্র

তবে মূলত ২-৩টি বিষয়কে প্রাধান্য দিয়েই তৃণমূলের তরফে এই ঘটনার সঙ্গে মুকুলবাবুর যোগসূত্রকে প্রমাণ করার চেষ্টা হচ্ছে। তৃণমূল সূত্রে খবর, গত ২০১৫ সালে মুকুলবাবু যখন তৃণমূলে ছিলেন, সে সময়ও না কি সত্যজিতের সঙ্গে তাঁর ঠান্ডা লড়াইয়ের উদাহরণ রয়েছে।

একই ভাবে তৃণমূলের তরফে তুলে ধরা হচ্ছে মতুয়া সম্প্রদায়কে ঘিরে আবর্তিত হওয়া রাজনীতির কথাও। তৃণমূলের দাবি, মতুয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে যথেষ্ট জনপ্রিয়তা ছিল সত্যজিতের। জানা গিয়েছে, তাঁর খুনের ঘটনায় প্রতিবাদে পথে নামছে মতুয়া মহা সঙ্ঘ। একাধিক জায়গায় তারা প্রতিবাদ সভা করবে বলে জানা গিয়েছে।

এমনিতে নদিয়ার বিস্তৃর্ণ এলাকা জুড়ে মতুয়া সম্প্রদায়ের সংখ্যাধিক্য রয়েছে। ফলে তেমন ভোট ব্যাঙ্কের কথা ভেবে বর্তমানে বিজেপি যে ভাবে মতুয়াদের নিয়ে রাজনীতি করছে, তারও একটা প্রভাব থাকলেও থাকতে পারে।

Satyajit Biswas
কান্নায় ভেঙে পড়েছে সত্যজিৎবাবুর স্ত্রী

যে দাবি প্রায় একই সঙ্গে তুলেছেন রাজ্যের দুই মন্ত্রীও। শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক দাবি করেছেন, পথের কাঁটা উপড়ে ফেলতেই সরিয়ে দেওয়া হয়েছে সত্যজিৎকে।

এ দিন মুকুলবাবু তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগকেই নস্যাৎ করেন। পাশাপাশি তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গ সরকার যে ভাবে আমাকে বিভিন্ন ঘটনায় জড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে, তাতে প্রমাণ হয় যে তারা আমাকে ভয় পাচ্ছে”।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.