আচমকা কেন ‘উত্তরবঙ্গকে পৃথক রাজ্য ঘোষণা’র দাবিতে সরব গেরুয়া শিবির

    আরও পড়ুন

    নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: বিধানসভা ভোটে পরাজয় হলেও রাজ্য সরকারকে চাপে রাখার কৌশল হিসেবেই কি উত্তরবঙ্গ নিয়ে ক্রমশ সুর চড়াচ্ছে গেরুয়া শিবির? সাম্প্রতিক ঘটনাক্রম থেকে তেমনই প্রশ্ন মাথাচাড়া দিচ্ছে রাজ্য-রাজনীতিতে।

    কী ভাবে চাপে রাখা যায়?

    কেউ সরাসরি বলছেন ৷ আবার কেউ ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে নানা কথা বলে বুঝিয়ে দিচ্ছেন পৃথক রাজ্য, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হোক উত্তরবঙ্গ। মঙ্গলবার রাতেই উত্তরবঙ্গের এক ঝাঁক বিজেপি বিধায়ক  উত্তরবঙ্গকে পৃথক রাজ্য ঘোষণার দাবি অথবা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল করার দাবিতে কলকাতার উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয় হলেও এখন গেরুয়া শিবিরের লক্ষ্য ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচন। ফলে রাজ্য সরকারকে কী ভাবে চাপে রাখা যায়, এখন সেই পরিকল্পনা নিতে পারেন গেরুয়া শিবিরের কেন্দ্রীয় এবং রাজ্য নেতৃত্ব।

    Loading videos...

    কার্শিয়াংয়ের বিধায়ক বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মা জানালেন, “আমরা প্রথম থেকেই বিজেপির কাছে পাহাড়ের স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান এবং এগারোটি জনজাতিকে ষষ্ঠ তফসিলি জাতির অন্তর্ভুক্ত করার দাবি রেখেছিলাম। আর এখন যে পৃথক রাজ্যের দাবি উঠেছে, সেটা মানুষের চাপে । তবে সমস্ত সমস্যার সমাধান সংবিধানে রয়েছে। স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান যে রূপেই আসুক না কেন, আমরা তাকে স্বাগত জানাব”।

    - Advertisement -

    শিলিগুড়ির বিধায়ক শংকর ঘোষের দাবি, “উত্তরবঙ্গকে বঞ্চনার কারণে আজকে পৃথক রাজ্যের দাবি উঠেছে। এই বিষয়ে নেতৃত্ব এখনও পর্যন্ত কোনো আলোচনা করেননি। ফলে এখনই কোনো মন্তব্য করব না । তবে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে দক্ষিণবঙ্গের যে পার্থক্য রয়েছে, সেটা দীর্ঘদিনের”।

    ফাঁসিদেওয়ার বিধায়ক দুর্গা মুর্মু বলেন, “উত্তরবঙ্গ প্রথম থেকেই সমস্ত সুবিধা থেকে বঞ্চিত। আমরা চাই উত্তরবঙ্গ ও পশ্চিমবঙ্গ দু’টি পৃথক রাজ্য হোক। উত্তরবঙ্গকে যে আলাদা রাজ্য করার দাবি উঠেছে সেটাকে সমর্থন করছি”।

    অশান্ত করার গভীর চক্রান্ত?

    [উত্তরবঙ্গকে অশান্ত করার গভীর চক্রান্তের অভিযোগ তৃণমূলের]

    “মমতা বন্দোপাধ্যায় রাজ্যের ক্ষমতায় আশার আগে অশান্ত ছিল উত্তরবঙ্গ। সেই উত্তরবঙ্গকে ১০ বছরে অনেকটা শান্ত করে নিয়ে এসেছেন তিনি, শান্ত উত্তরবঙ্গকে আলাদা রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল করার নামে অশান্ত করার গভীর চক্রান্ত করছেন বিজেপির সাংসদ ও বিধায়করা”, এমনটাই বললেন শিলিগুড়ি পুর নিগমের প্রশাসক মণ্ডলীর চেয়ারম্যান গৌতম দেব।

    শিলিগুড়ি পুর নিগমে এক সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি বলেন, “এক দিকে উত্তরবঙ্গকে অশান্ত করছে বিজেপি, অন্যদিকে দার্জিলিংয়ের রাজভবনকে বিজেপির দলীয় কার্যালয়ে রূপান্তর করছেন রাজ্যপাল। বিজেপির সাংসদ ও বিধায়করা উত্তরবঙ্গকে বঞ্চনা করা হচ্ছে বলে দাবি করছেন। কিন্তু গত ১০ বছরে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ঢেলে সাজিয়েছেন উত্তরবঙ্গকে। কেন্দ্রের হাজারো বঞ্চনা সত্বেও উত্তরবঙ্গকে সাজাতে কোনো কার্পণ্য করেননি তিনি”।

    যদিও এই ইস্যুতে দলের অবস্থান একাধিক বার স্পষ্ট করে দিয়েছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠক করে দিলীপ জানিয়েছেন, “আলাদা রাজ্যের মত একান্ত ব্যক্তিগত। পশ্চিমবঙ্গ ভাগ হবে না, এটা দলের মত”। রবিবারেও তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন, “বাংলা ভাগ চায় না বিজেপি। সাংসদ জন বার্লার মন্তব্যকে সমর্থন করে না দল”।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here

    This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

    - Advertisement -

    আপডেট খবর