নন্দীগ্রাম মামলার শুনানিতে কেন অনুপস্থিত মামলাকারী

0
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
মামলা করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফাইল ছবি

খবর অনলাইন ডেস্ক: নন্দীগ্রাম বিধানসভার ভোট গণনাকে চ্যালেঞ্জ করে বৃহস্পতিবারই হাইকোর্টে মামলা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিচারপতি কৌশিক চন্দের সিঙ্গল বেঞ্চে শুক্রবার সেই মামলা উঠলে শুরু হয় বিতর্ক। জানা যায়, শুনানিতে অনুপস্থিত ছিলেন মামলাকারী মমতা। যার জেরে এক সপ্তাহ পিছিয়ে গেল নন্দীগ্রাম মামলার শুনানি। শুনানিতে কেন অনুপস্থিত মামলাকারী?

শুক্রবার বেলা ১১টা নাগাদ কলকাতা হাইকোর্টে বিচারপতি কৌশিক চন্দের বেঞ্চে এই মামলার শুনানি শুরু হয়েছিল। জন প্রতিনিধি আইন অনুযায়ী নির্বাচনী মামলার আবেদনকারীকে আদালতে উপস্থিত থাকতে হবে বলে জানান বিচারপতি। জবাবে, মমতার আইনজীবী জানান, যা নিয়ম আছে তা মানা হবে।

বিক্ষোভে আইনজীবীদের একাংশ

মামলাকারীর অনুপস্থিতির জন্যই যে মামলার শুনানি পিছিয়ে যায়, তা একপ্রকাশ নিশ্চিত। এরই মধ্যে কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবীদের একাংশের দাবি, বিচারপতি কৌশিক চন্দ বিজেপির ‘সক্রিয় সদস্য’ ছিলেন। তাই তাঁর এজলাসে মামলা ওঠা নিয়ে শুক্রবার হাইকোর্ট চত্বরে বিক্ষোভ দেখান আইনজীবীদের একাংশ। মুখে কালো মাস্ক এবং হাতে পোস্টার নিয়ে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ দেখান আইনজীবীরা। পোস্টারে লেখা ছিল, ‘বিচারব্যবস্থার সঙ্গে রাজনীতি করবেন না’।

কুণাল ঘোষের ব্যাখ্যা

এ দিনের ঘটনা প্রসঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, “যে বিষয়টা সামনে আসছে, তা নিরপেক্ষতার প্রশ্নে অত্যন্ত উদ্বেগজনক। নন্দীগ্রাম বিধানসভার ফল সংক্রান্ত মামলাটি বিচারপতি কৌশিক চন্দের বেঞ্চে উঠেছে। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, বিজেপির লিগ্যাল সেলে তিনি উপস্থিত রয়েছেন। সেখানে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ এবং বিজেপিরই এক নেত্রী উপস্থিত রয়েছেন। ফলে যিনি বিজেপির এক জন সমর্থক, বিজেপির লিগ্য়াল সেলের অনুষ্ঠানে উপস্থিত হচ্ছেন…”।

বিচার ব্যবস্থার প্রতি সম্পূর্ণ আস্থা এবং সম্মান জানিয়ে কুণাল ঘোষ বলেন, “আমি মানছি, বিচারপতি হিসেবে কৌশিক চন্দ যোগ্য। কিন্তু যেহেতু তাঁর মনে এটা সম্পর্কে একটা দুর্বলতা রয়েছে, ফলে তাঁর অবচেতন মনে তাঁর যে অনুভূতি, সেটা তাঁর নিরপেক্ষতাকে প্রভাবিত করতে পারে বলে যদি প্রশ্ন ওঠে, তার অবকাশ কিন্তু থাকছে”।

একই সঙ্গে তিনি আরও বলেন, “ফলে যে বিচারপতি বিজেপির লিগ্যাল সেলের কর্মসূচিতে উপস্থিত রয়েছেন, বলে ছবি উঠে আসছে এবং তিনি প্রত্যক্ষ ভাবে বিজেপির সঙ্গে যুক্ত, তাঁর এজলাসে নন্দীগ্রামের মতো স্পর্শকাতর রাজনৈতিক মামলা উঠলে, নিরপেক্ষতা বজায় থাকবে কি, সেই প্রশ্নটা থাকছেই। ফলে আমরা মনে করি, বিচারপতি কৌশিক চন্দর উচিত, এই মামলাটা ছেড়ে দেওয়া”।

আরও পড়তে পারেন: ভোট-পরবর্তী হিংসার অভিযোগ নিয়ে রাজ্য সরকারকে বিশেষ নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন