mukul roy
মুকুল রায়। ছবি: আইএএনএস-এর সৌজন্যে

খবরঅনলাইন ডেস্ক: সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে বিজেপি ছেড়ে ‘ঘর ওয়াপসি’ ঘটছে মুকুল রায়ের (Mukul Roy)। সাড়ে তিন বছরের ব্যবধানে শুক্রবার তিনি ফিরছেন ঘাসফুল শিবিরে।

২০১৭ সালের ৩ নভেম্বর তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে গিয়েছিলেন মুকুল রায়। সেখানে গিয়ে সর্বভারতীয় সহ-সভাপতির মতো পদও পেয়েছেন। তা সত্ত্বেও কেন তিনি গেরুয়া শিবিরের সঙ্গে সম্পর্ক ছেদ করলেন?

Loading videos...

ক্রমশ ফিকে হচ্ছিল মুকুলের গুরুত্ব

মমতা, মুকুল। ফাইল ছবি

গত কয়েক দিন ধরেই মুকুল বিজেপির থেকে দূরত্ব বাড়াচ্ছিলেন। দলের বৈঠকেও যাননি। বিধানসভা ভোটে প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছে না থাকলেও কার্যত কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নির্দেশে ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। মুকুল-ঘনিষ্ঠদের অভিযোগ, ভোটের আগে এবং পরে তাঁকে কোনো সাংগঠনিক ভূমিকায় কাজে লাগায়নি গেরুয়া শিবির। ভোটে জিতে বিধায়ক হলেও শপথ নেওয়া ছাড়াও আর কোনো ভূমিকাও নেই তাঁর। শিবির বদল করার পর তাঁর প্রতি তৎকালীন বিজেপি সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ যে আস্থা দেখিয়েছিলেন, সেটাও ক্ষয় পেয়েছে সময়ের স্রোতে।

২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যে বিজেপি ১৮টি আসনে যখন জয় পায়, তখন তাঁর ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। তার আগে রাজ্যের পঞ্চায়েত ভোটর রণাঙ্গনেও বিজেপির হয়ে কার্যত ‘সেনাপতি’র ভূমিকা নিয়েছিলেন তিনি। লোকসভা ভোটের পরে এবং বিধানসভার আগে তৃণমূল থেকে একে একে অনেকেই নাম লেখান বিজেপিতে। ক্রমশ ফিকে হতে শুরু করে মুকুলের গুরুত্ব। পাশাপাশি দলের রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের সঙ্গে মুকুলের ‘সংঘাত’ বারবার উঠে এসেছে সংবাদ মাধ্যমের শিরোনামে। এরই মধ্যে বিধানসভা ভোটের আগে এবং পরে তৃণমূলত্যাগী শুভেন্দু অধিকারীকে বিজেপির মাথায় তুলে রাখার কৌশল মোটেই মেনে নিতে পারেননি মুকুল-অনুগামীরা।

২০০-র স্বপ্নে মুকুল অমিল

Mukul Roy and Amit Shah
অমিত, মুকুল। ফাইল ছবি

২০২১ বিধানসভা ভোটের অনেক আগে থেকেই রাজ্যে ২০০-র বেশি আসন জেতার লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিয়েছিলেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। কিন্তু সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে মুকুলের মতো পোড়খাওয়া নেতাকে গেরুয়া শিবির কতটা কাজিয়ে লাগিয়েছে, সেটাও গবেষণার বিষয়। মুকুল-ঘনিষ্ঠরা সাম্প্রতিক অতীতে দাবি করে এসেছেন, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর আসন থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরানোই এক মাত্র লক্ষ্য এক সময়ে তৃণমূলের ‘জেনারেল’ হিসেবে অভিহিত নেতার। কিন্তু ভোটের প্রচারে নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহের মতো কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বাদে যে গুটিকয় স্থানীয় নেতৃত্বকে কাজে লাগানো হল, তাতে মুকুলের অনুপস্থিতি ক্রমশ স্পষ্ট হয়েছে। রাজ্য সংগঠনের দায়িত্ব না দিয়ে তাঁকে দিল্লিতে চালান করে দেওয়ার কৌশলেই যার সূচনা ঘটে গিয়েছিল। শেষের দিকে বয়স এবং রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার দিক থেকে পিছনে থাকা রাজ্য নেতার সঙ্গে বৈঠক করছেন প্রধানমন্ত্রী থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, অথচ ব্রাত্য রয়েছেন মুকুল। এটা বোধহয় মেনে নেওয়া সম্ভব নয় তাঁর পক্ষে।

ভোট-পর্ব সাঙ্গ হতেই মুকুলের স্ত্রীর অসুস্থতাকে সামনে রেখেও এক প্রস্থ রাজনৈতিক নাটকে অবতীর্ণ হল তৃণমূল-বিজেপি। তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সটান হাসপাতালে গিয়ে মুকুল-পুত্র শুভ্রাংশুর সঙ্গে কথা বলে আসার পরে হাসপাতাল-দর্শনের প্রতিযোগিতায় নামলেন বিজেপি নেতৃত্ব। এমনকি দিল্লি থেকে ফোন করে খবর পর্যন্ত নিলেন প্রধানমন্ত্রী। এ ভাবেই ক্রমাগত ঘটে চলা ঘটনা পরম্পরা মুকুলের ‘বোধের উদয়’ ঘটিয়ে দিল। পিছনে পড়ে রইল সারদা-নারদার জুজু।

আরও পড়তে পারেন: কালীঘাটে মমতা-সাক্ষাৎ সেরে তৃণমূলে ফিরছেন মুকুল রায়

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.