মুকুল রায় কেন বিজেপি ছাড়লেন? ৭টি কারণ

0
বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয় এবং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে মুকুল রায়।

খবর অনলাইন ডেস্ক: “বিজেপিতে থাকতে না পেরেই ফিরে এসেছি। বিজেপি করব না বলেই পুরনো দলে ফিরেছি”। শুক্রবার তৃণমূলে ফিরে এমনটাই মন্তব্য করেছেন মুকুল রায়। পাশাপাশি জানিয়েছেন এ ব্যাপারে বিস্তারিত বিবৃতি তিনি লিখিত ভাবে জানিয়ে দেবেন। তবে গত সাড়ে তিন বছরের ঘটনাবলি থেকে তাঁর দলবদল নিয়ে উঠে আসছে অন্যতম সাতটি কারণ।

১. আত্মসম্মান

আত্মসম্মান মুকুল রায়ের কাছে একটা বড়ো কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এক সময় তৃণমূলের ‘চাণক্য’, ‘নম্বর-টু’, ‘জেনারেল’ ইত্যাদি তকমা বহন করতেন তিনি। এখনও পর্যন্ত তৃণমূল ছেড়ে যে ক’জন হেভিওয়েট নেতা বিজেপিতে গিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে সাংগঠনিক ক্ষমতায় মুকুল সবার শীর্ষে। এখন সেই পোড়খাওয়া নেতার গলাতেই হতাশা এবং যন্ত্রণার সুর শোনা যাচ্ছিল। এ বারের ভোটে দল তাঁকে প্রার্থী করে, এ ব্যাপারেও অনীহা ছিল মুকুলের।

২. দলে অগ্রাধিকার

২০১৭ সালের ৩ নভেম্বর বিজেপিতে যোগ দেন মুকুল। পরের বছরের পঞ্চায়েত ভোট থেকে শুরু করে ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে তাঁর উপরেই আস্থা দেখিয়েছিলেন অমিত শাহের মতো তাবড় কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। কিন্তু ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে উলটপুরাণ। মুকুল-ঘনিষ্ঠদের দাবি, তাঁর পরামর্শ উপেক্ষা করেছেন বিজেপি নেতৃত্ব। স্বাভাবিক ভাবেই বিজেপি থেকে সরে আসার একটা বড়ো কারণ এটাও।

৩. ঠোকাঠুকি

মুকুল বিজেপিতে নাম লেখানোর পরই রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ অথবা প্রাক্তন সভাপতি রাহুল সিনহার সঙ্গে তাঁর মতানৈক্যর বিষয়টি সর্বজনবিদিত। সেই কবে, গত লোকসভা ভোটের সময় বিজেপি প্রার্থী ভারতী ঘোষের কাছ থেকে হিসেবের বেশি টাকা উদ্ধার নিয়ে বিজেপির রাজ্য দুই নেতা দিলীপ ঘোষ এবং মুকুল রায়ের দ্বিমত স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। আবার গত মঙ্গলবার বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের ডাকা বৈঠকে তিনি আমন্ত্রণ-ই পাননি।

Shyamsundar

৪. শুভেন্দুর কদর

তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই দলে লাফিয়ে কদর বেড়েছে শুভেন্দু অধিকারীর। তিনি এখন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা। মুকুলও বিধায়ক। কিন্তু ভোটের পর প্রধানমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, বিজেপি সর্বভারতীয় সভাপতি বৈঠক করছেন শুভেন্দুর সঙ্গে। মুকুল যেন থেকেও নেই।

৫. তৃণমূলের সহানুভূতি

তৃতীয়বার বিপুল জনসমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় ফেরার পরেও মুকুলের সঙ্গে সহানুভূতি দেখিয়েছে তৃণমূল। মুকুলের অসুস্থ স্ত্রীকে হাসপাতালে দেখতে গিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মজার কথা, অভিষেকের এই পদক্ষেপের পরই বিজেপি নেতৃত্বের টনক নড়ে। প্রধানমন্ত্রী ফোন করে মুকুলের কাছ থেকে তাঁর স্ত্রীর খবর নেন। শোনা যায়, অভিষেক পৌঁছানোর আগে পর্যন্ত কোনো বিজেপি নেতা মুকুলের স্ত্রীকে দেখতে হাসপাতালে যাননি।

৬. পুত্রের ভবিষ্যৎ

মুকুল যে নিজের ছেলে শুভ্রাংশুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে সব সময়ই যথেষ্ট সচেতন, তার প্রমাণ অতীতে বেশ কয়েক বার মিলেছে। নিজে কৃষ্ণনগর উত্তর থেকে পদ্মপ্রতীকে জয়ী হলেও বীজপুরে হেরেছেন শুভ্রাংশু। স্বাভাবিক ভাবেই, শুভ্রাংশুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা থাকাটাই স্বাভাবিক। আবার ক’দিন আগে শুভ্রাংশুর ফেসবুক পোস্টে রাজনৈতিক দিশাহীনতার কথাও ফুটে উঠেছিল আকারে-ইঙ্গিতে।

৭. পাকা আসন

রাজনৈতিক ভাবে কট্টর বিরোধী হওয়া সত্ত্বেও তিনি কখনোই সরাসরি মমতাকে আক্রমণ করেননি। কোথাও কোনো সভায় রাজনৈতিক বিরোধিতা উঠে এলেও মমতাকে ব্যক্তিগত আক্রমণ থেকে বরাবরই বিরত থেকেছেন মুকুল। ধারণা করা হচ্ছে, দীনেশ ত্রিবেদীর ছেড়ে যাওয়া রাজ্যসভা আসনে মুকুল রায়কে সংসদের উচ্চকক্ষে পাঠাতে পারে তৃণমূল।

আরও পড়তে পারেন: ‘আমাদের নেত্রী, ভারতের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়’, ঘরে ফিরে আপ্লুত মুকুল রায়

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন