Jute farmers is west bengal

কলকাতা: কেন্দ্র ও রাজ্য উভয় সরকারই বরাবর নিজেদের বাজেটে অগ্রাধিকার দিয়ে চলেছে কৃষি ক্ষেত্রকে। তবুও পাটচাষিদের অবস্থার পরিবর্তন আতসকাচে ধরতে হচ্ছে। উৎপাদন যথেষ্ট হলেও পশ্চিমবঙ্গের পাটচাষিরা যথাযথ মূল্য না পেয়ে দুরবস্থার  শিকার হয়ে চলেছেন বছরের পর বছর। কেন্দ্রের তরফে পাটচাষিদের উৎসাহদানে ন্যূনতম সহায়ক মূল্যে উৎপাদিত পাট কেনার প্রকল্প চালু রয়েছে। কিন্তু সরকারি ক্রয়ের পরিমাণ আর উৎপাদিত পাটের পরিমাণে রয়ে যাচ্ছে বিস্তর ফারাক। বাজারে প্লাস্টিক-সহ অন্যান্য কৃ্ত্রিম পণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ করার পরেও পাটজাত দ্রব্যের চাহিদা রয়ে গিয়েছে তলানিতেই। কেন?

শেষ বছরে পশ্চিমবঙ্গ থেকে কেন্দ্র পাটের গাঁট (১৭০ কেজির বেল) কিনেছিল ৫৬ হাজার। উলটো দিকে উৎপাদন হয়েছিল ৮৫ লক্ষ। চলতি বছরেও সেই ছবি মোটেই বদলায়নি। এ বছর ৬৫ লক্ষ গাঁট পাট উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। বছরের প্রথমার্ধে কেন্দ্র কিনছে মাত্র ২৮ হাজার গাঁট পাট। বাকি ছয় মাসে তা কোথায় গিয়ে ঠেকবে, তা সহজেই অনুমান করা যাচ্ছে। এই পরিসংখ্যান থেকেই বোঝা যাচ্ছে, আগের বছরের তুলনায় চলতি বছরে রাজ্যে পাটের উৎপাদন কমছে। পাট চাষে লাভ না পেয়ে আগ্রহও কমছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত যাঁরা এই চাষের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন তাঁদের দুর্দশা কাটবে কী ভাবে?

কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলায় যে প্রজাতির পাট বেশি চাষ হয়, তা বর্তমান বাজারের নিরিখে অতি নিম্ন মানের। সাধারণ চটের বস্তা ছাড়া ওই পাট দিয়ে আর অন্য কোনো শৌখিন পণ্য তৈরি করা সম্ভব নয়। বিশ্বের প্রতিটি দেশেই প্লাস্টিক বর্জন করে পাটের ব্যবহার বাড়াতে যে ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, ভারতও তার বাইরে নয়। কিন্তু আধুনিক চাহিদা অনুযায়ী সূক্ষ্ম পাটের চাষ এ রাজ্যে তুলনামূলক কম। মূলত টিডি-৬ গ্রেডের পাটের চাষ করার কারণেই উৎপাদিত পণ্য ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের থেকেও অনেক কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন নিরুপায় চাষিরা।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন