Mukul Roy

কলকাতা: গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে ‘পাপ’ করেছিলেন, এ বারের পঞ্চায়েত ভোটের আগেই তার স্খলন করে ফেললেন বিজেপি নেতা মুকুল রায়।

তিনি যে ২০১৩ পঞ্চায়েতে ‘পাপ’ করেছিলেন, সে কথা প্রকাশ্যেই ঘোষণা করলেন নদিয়ার কৃষ্ণনগরের একটি সভায়। তিনি জনগণের কাছে সেই পাপের জন্য ক্ষমা চেয়ে নেওয়ার পরই তেহট্টের বিধায়ক গোরীশঙ্কর দত্ত তাঁকে ‘ঘর মোছা ন্যাতা’ এবং ‘কাঁচরাপাড়ার স্ক্র্যাপ বিক্রেতা’ ইত্যাদি বিশেষণে ভূষিত করেছেন। স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠছে কী সেই পাপ? অথবা কেনই বা তাঁকে চরম ভাবে তিরস্কৃত হতে হচ্ছে তেহট্টের বিধায়কের কাছে?

গতবার পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমূলের প্রার্থী মনোনয়ন থেকে শুরু সমস্ত কর্মসূচির তদারকি নিজে হাতেই করেছিলেন মুকুলবাবু। বিশেষ করে উত্তর ২৪ পরগনা এবং নদিয়া জেলায় তাঁর রণকৌশল তৃণমূলকে উল্লেখযোগ্য ফল করতে সাহায্য করে। নদিয়া জেলার তৎকালীন রাজনৈতিক চরিত্র অনুযায়ী, হয়তো সিপিএমের দখলে চলে যেতে বসেছিল জেলা পরিষদ। কিন্তু মুকুলবাবুর সেই রণকৌশলের কাছে উল্টে যায় সব ছবিই। ৪৭ আসনের নদিয়া জেলা পরিষদের সিংহভাগ দখল করে তৃণমূল। কিন্তু বেশ কিছু জায়গায় সেই জয়ের মার্জিন এতটাই কম যে কারও কারও মনে প্রশ্ন তোলে। বিশেষ করে সিপিএম দাবি করে, ভোটগ্রহণ তো বটেই ভোট গণনাতেও কারচুপি করেছেন মুকুলবাবুর সৈন্যরা।

এক সিপিএম নেতা বলেন, “গত যে হারে সাধারণ মানুষ আমাদের ভোট দিয়েছিল তাতে আমরাই পরিষদ দখল করতে পারতাম। কিন্তু কারচুপির কাছে হার মানে মানুষের মতাধিকার। আর একটি হলে তো হরিণঘাটা-৪৫ও আমাদের হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছিল। মাত্র তিনশো ভোটের ফারাক থাকায় তৃণমূল পুনর্গণনার দাবি তুলেছিল। কিন্তু আমরা তা আটকে দিই। না হলে আমাদের আবদুর রেজ্জাক সর্দার হয়তো ওদের নারায়ণ দাসের কাছে শেষমেশ হেরেই যেত দ্বিতীয়বারের ‘গণনায়’।”

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here