উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়, জয়নগর: সারা রাজ্যে যখন শাসক দলের শক্তির কাছে বিরোধীরা পরাজিত, ঠিক তেমনই পরিস্থিতিতে উলটো চিত্র ধরা পড়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলতলিতে। প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ ভাবে তৃণমূলের পেশিশক্তির সঙ্গে সমানে টক্কর দিল সিপিএম ও এসইউসি। দু’দলের মধ্যে সরাসরি একাধিক সংঘর্ষ হয়েছে এই এলাকায়। নিহত হয়েছে শাসক দলেরই দুই কর্মী। এঁরা হলেন সুবিদ আলি এবং আরিফ আলি গাজী।

এই এলাকায় তৃণমূলের প্রতি মানুষের এত ক্ষোভ কেন? এক সময় জয়নগর ও কুলতলিতে এসইউসি ছিল প্রধান শক্তি। সিপিএমের সঙ্গেই ছিল তাদের মূল লড়াই। গত পঞ্চায়েত ভোটে জয়নগর ও কুলতলিতে সিপিএম পঞ্চায়েত সমিতি দখল করে। তৃণমূলের শক্তি এখানে ভালো ছিল না। ২০১৬ সালের বিধানসভার পর থেকে এই সব এলাকা জুড়ে তৃণমূলের শক্তি বাড়ে। কুলতলি পঞ্চায়েত সমিতি সহ ৯টি গ্রাম পঞ্চায়েতের ৮টিই তাদের দখলে চলে যায়। তৃণমূল জয়নগর ১ ও ২ নম্বর ব্লক চেষ্টা করেও দখলে আনতে পারেনি।

গত ৬-৭ মাস ধরে এই সব এলাকা জুড়ে তৃণমূলকে আটকাতে সিপিএম ও এসইউসি এক হয়। যে কারণে সারা রাজ্যে মনোনয়নে অশান্তির সৃষ্টি হলেও তুলনামূলক ভাবে এখানে তা হয়নি বললেই চলে। এই সব এলাকা জুড়ে তাই এদের জোটের নির্দল প্রার্থীর সংখ্যা অনেক বেশি। অর্থাৎ আলাদা ভাবে দলীয় প্রার্থীর থেকে ভরসা করা হয়েছে নির্দলদের উপরেই। দু’দলের শক্তি এক হয়ে যাওয়ায় তৃণমূল কমজোরি হয়ে পড়ে বেশ কিছু জায়গায়। কিছু এলাকায় বিজেপির সঙ্গেও অলিখিত জোট হয়ে যায়। তাই ভোটের দিন দু’জন তৃণমূল কর্মী খুনের ঘটনাও ঘটে কুলতলিতে।

kultali vote 1

এ ব্যাপারে কুলতলির সিপিএম বিধায়ক রামশংকর হালদার বলেন, “এখানকার মানুষ তৃণমূলের জোরজুলুমে অতিষ্ট হয়ে গিয়েছিল, তাই তারা আমাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে।” কুলতলির প্রাক্তন বিধায়ক এসইউসির জয়কৃষ্ণ হালদার বলেন, “তৃণমূলের অত্যাচার মানুষ আর সহ্য করতে না পেরে আমাদের সঙ্গে এসেছে।” ‌

কুলতলির তৃণমূল ব্লক সভাপতি গোপাল মাঝি বলেন, “ওরা এলাকা জুড়ে সন্ত্রাস চালাবে বলে এক হয়েছে।”

বিজেপির জেলা নেতা সুনীপ দাস বলেন, “জয়নগর কুলতলিতে তৃণমূলের অত্যাচার দিন দিন বেড়ে চলেছে। মানুষ শান্তি চাইছে।”

স্বভাবতই স্পষ্ট, বিরোধীদের মধ্য তৈরি হওয়া জোটের কাছে প্রায় নিরুপায় অবস্থা তৃণমূলের।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন