panchayet west bengal

কলকাতা: এ বার আর বিলম্ব নয়, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পঞ্চায়েত নির্বাচনের পাট চুকিয়ে ফেলতে চাইছে রাজ্য সরকার।  বিজেপির ক্রমবর্ধমান আস্ফালন থেকে শুরু করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একের পর এক জেলা সফর, সেই ইঙ্গিতকেই জোরালো করছে। নবান্নের আধিকারিকরাও বলছেন, তাঁদের কাছেও এ বিষয়ে ‘বিশেষ’ নির্দেশ চলে এসেছে।

গত বার পঞ্চায়েত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজ্য নির্বাচন কমিশনার মীরা পাণ্ডের সঙ্গে রাজ্য সরকারের চরম বিতণ্ডা সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছিল। ওই রাজ্য বনাম রাজ্যের লড়াইয়ে শাসক বা বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি যে একেবারে হাত গুটিয়ে বসে ছিল, তা নয়। উলটে আদালতের ভিতরে সরকারি সংস্থার সঙ্গে সরকারের লড়াই যতটা না জমে উঠেছিল তার থেকেও কয়েক গুণ উত্তেজনার সৃষ্টি করেছিল সিপিএম-কংগ্রেসের সমালোচনার জবাব দিতে তৃণমূলের অতি ব্যস্ততা। কারণ তখনও পর্যন্ত এ রাজ্যে বিজেপি নিয়ে তেমন একটা মাথাব্যথা ছিল না।

গত বার সরকার ২৭ মে, ২০১৩ জারি করা নির্দেশে বলে, ২,৬ এবং ৯ জুলাই তিনটি পর্বে রাজ্যের ১৭টি জেলায় ভোটগ্রহণ করা হবে। এর আগে থেকেই অবশ্য পঞ্চায়েত ভোটের দিনক্ষণ নিয়ে গড়িমসি করছিল রাজ্য। যা নিয়ে বিরোধী দলগুলি সরব হচ্ছিল। তাদের মতোই বেঁকে বসেন মীরাদেবী। আলাপ-আলোচনা-মামলা, সব কিছুর শেষে নতুন করে নির্বাচনী নির্ঘণ্ট প্রকাশিত হয়। তিন দফায় নয়, পাঁচ দফায় ভোট হয়। ২ জুলাইয়ের পরিবর্তে ১১ জুলাই থেকে ভোটগ্রহণ শুরুর নির্দেশ দেয় সর্বোচ্চ আদালত।

এ বারে অবশ্য পঞ্চায়েত ভোট নিয়ে রাজ্য সরকার একটু ভিন্ন অবস্থান নিতে চলেছে। নবান্ন সূত্রে খবর, সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বলা হয়েছে, যত দ্রুত সম্ভব পঞ্চায়েত নির্বাচনের ব্যবস্থা নিতে হবে। গত নির্বাচনে যে সব ফাঁকফোকর রয়ে গিয়েছিল, এ বার সে সব আগেভাগেই বন্ধ করতে হবে। রাজ্য কমিশনের সঙ্গে আগে থেকে কথা বলে, পাঁচ দফায় ভোট গ্রহণ থেকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার আয়োজন করতে হবে। এমন ভাবে এই বন্দোবস্ত করা হবে যাতে নির্বাচন কমিশন কেন, কোনো বিরোধী দল এ ব্যাপারে তেমন কোনো জোরালো অভিযোগ যেন না তুলতে পারে।

তৃণমূল সূত্রে খবর, কংগ্রেস-সিপিএমের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে এ রাজ্যে বিজেপি পায়ের তলায় মাটি খুঁজে পাচ্ছে। ফলে যত দিন যাবে ততই ওদের সংগঠন বাড়তে পারে। বিশেষ করে বিজেপিতে মুকুল রায়ের অন্তর্ভুক্তিও একটা ফ্যাক্টর। অন্তত পঞ্চায়েত ভোটে তো বটেই। সব মিলিয়ে দলনেত্রী চাইছিলেন আগামী মার্চ-এপ্রিলের মধ্যেই ভোট সেরে ফেলতে। কিন্তু ওই সময় উচ্চমাধ্যমিক, জয়েন্ট এন্ট্রাস এবং স্নাতক স্তরের পরীক্ষা রয়েছে। তার উপর রয়েছে গ্রীষ্মের প্রখর দাবদাহ।

জানা গিয়েছে, সব দিক ঠিকঠাক এগোলে আগামী মে মাসের প্রথম দিকেই জারি করা হতে পারে পঞ্চায়েত নির্বাচনের নোটিশ। তবে জুলাই নয়, জুন মাসেই সেরে ফেলা হবে নির্বাচনের কাজ।

1 মন্তব্য

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here