নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: স্বামীর রহস্য মৃত্যু। গ্রেফতার হলেন ট্রেজারি কর্তার স্ত্রী রাখি শাহ।তার বয়ানে রয়েছে প্রচুর অসঙ্গতি।জলপাইগুড়ির পুলিশ সুপার অমিতাভ মাইতি জানিয়েছেন ঘটনার পর থেকেই সন্দেহের ঘেরাটোপে ছিলেন রাখি শাহ।দিনভর জেরার পর বৃহস্পতিবার রাতে তাকে গ্রেফতারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

জলপাইগুড়ির অতিরিক্ত ট্রেজারি আধিকারিক ছিলেন নাদির শাহ।তার বাড়ি কলকাতার বড়োবাজারে।

বছরদেড়েক আগেই মুর্শিদাবাদের রাখির সঙ্গে বিয়ে হয় তাঁর ।গত জানুয়ারি মাসে বহরমপুর থেকে তিনি বদলি হয়ে জলপাইগুড়ি ট্রেজারি অফিসে কাজে যোগ দেন।স্ত্রী রাখিকে নিয়ে রাজবাড়ি পাড়ার কম্পোজিট কমপ্লেক্সের সরকারি আবাসনে থাকতেন।

গত ১৩ ডিসেম্বর মধ্যরাতে সেই আবাসনের নিজের ফ্ল্যাটে অস্বাভাবিক মৃত্যু হয় তার।স্ত্রী রাখি শাহ পুলিশের কাছে দাবি করেন ওড়না দিয়ে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ফাস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছেন নাদির।কিন্তু ময়নাতদন্তের সময় জলপাইগুড়ি হাসপাতালের চিকিৎসকের সন্দেহ হওয়ায় দেহ উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।এরপরেই জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানায় ছেলেকে খুনের অভিযোগ দায়ের করেন নাদিরের বাবা নাসির শাহ।

বুধবার উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ থেকে ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞের দল আসে ওই আবাসনে।ঘটনার পর পুলিশের কাছে নাদিরের স্ত্রী জানিয়েছিলেন, গোঙানি শুনে পাশের ঘর থেকে এসে স্বামীর ঘরের দরজা কিছুটা ভেঙ্গে ভেতরে ঢুকে স্বামীর ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান।এরপরে বটি-দাঁ দিয়ে ওড়না কেটে নামিয়ে আনেন স্বামীর দেহ।এই বিবরণের সঙ্গে ফ্ল্যাটের পারিপার্শ্বিক অবস্থা মিলিয়ে দেখেন বিশেষজ্ঞরা।ওড়না এবং বটি-দাটিও সংগ্রহ করেন।পাশাপাশি নাদিরের তিনটি এবং রাখির একটি মোবাইল বাজেয়াপ্ত করে পুলিশ।এরপর গতকাল থেকেই দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় তাকে।কারণ ঘটনার পর থেকেই অনেক অসঙ্গতি ধরা পড়েছিল রাখির কথায়।

নাদির শাহ ও রাখি শাহ

একা মহিলার পক্ষে ঘরের দরজা ভেঙ্গে ওড়না কেটে মৃতদেহ নামিয়ে আনা কতটা সম্ভব তা নিয়ে প্রশ্ন জাগে পুলিশ আধিকারিকদের মধ্যে।সেক্ষেত্রে কোনো তৃতীয় ব্যাক্তি সেখানে ছিলেন কি না উঠছে সে প্রশ্নও।

স্বামীর আগের স্ত্রী থাকা স্বত্তেও লুকিয়ে তাকে বিয়ে করা এবং একাধিক মহিলার সঙ্গে বিবাহ বভির্ভূত সম্পর্ক নিয়ে নিত্য অশান্তি ছিল দুজনের মধ্যে।এছাড়া নাদিরও স্ত্রীকে সন্দেহ করতেন।এই নিয়ে দুজনের প্রায়দিনই বচসা চলত,পুলিশকে এমনটাই জানিয়েছিলেন আবাসনের অন্যান্য বাসিন্দারা।ঘটনার দিনও তাদের বচসার আওয়াজ পেয়েছিলেন তারা।

এইসব নিয়েই দফায় দফায় জেরা করা হয় রাখিকে।কিন্তু তার জবাবে সন্তুস্ট হননি পুলিশ আধিকারিকরা।জেরার করা বহু প্রশ্নের উত্তর অমীমাংসিত থেকে গিয়েছে।ঠিক কী নিয়ে দুজনের মধ্যে অশান্তি ছিল তা যেমন পরিস্কার হয়নি তেমনি এটা আত্মহত্যা না খুন তাও এখন ধোঁয়াশা। পুলিশ সুপার অমিতাভ মাইতি জানিয়েছেন, খুন হোক বা আত্মহত্যা, স্বামীর অস্বাভাবিক মৃত্যুর পেছনে রাখির ভূমিকা রয়েছে তা নিশ্চিত। ঘটনাস্থলে তৃতীয় ব্যাক্তি থাকার সম্ভবনাও এখনি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না,জানিয়েছেন পুলিশ সুপার।

আপাতত ভারতীয় দন্দ্ববিধির ৩০২নং ধারাতেই অভিযোগ আনা হয়েছে।শুক্রবার তাকে জলপাইগুড়ি আদালতে তুলে নিজেদের হেফাজতে নেওয়া হবে জানিয়েছেন কোতোয়ালির আইসি বিশ্বাশ্রয় সরকার।পুলিশ আধিকারিকরা মনে করছেন এই মৃত্যুর রহস্যের জট খুলতে হলে টানা জেরা করা দরকার রাখি শাহকে।কারণ পুরো ঘটনার সময় সেই ছিল অকুস্থলে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here