এখনও বাকি! তৃণমূলকে ধাক্কা দিতে ফের মন্ত্রী হচ্ছেন মুকুল রায়?

0
mukul Roy
ফাইল ছবি

ওয়েবডেস্ক: খগেন মুর্মু, নিশীথ প্রামাণিক অথবা সৌমিত্র খাঁ। লোকসভা ভোটে বিজেপির প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয় হাসিলের পথে। অথচ কয়েক মাস আগেও বিজেপির সঙ্গে কোনো সম্পর্ক থাকা দূরের কথা, উঠতে-বসতে বিজেপির সমালোচনা করাই ছিল তাঁদের কাজ। ট্রেন্ড বজায় থাকলে এ বারের লোকসভা ভোটে পদ্মপ্রতীকে জিতে এঁরাই যেতে চলেছেন সংসদে। এই অসাধ্য সাধনের নেপথ্যে মূল কারিগর মুকুল রায়। এক কালে তৃণমূলের ‘নম্বর-টু’ নেতা বর্তমান বিজেপির পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী পর্যবেক্ষক মুকুলবাবুকে নরেন্দ্র মোদী মন্ত্রিসভায় দেখা যেতে পারে বলে জল্পনা ছড়িয়েছে।

এখনও পর্যন্ত যা খবর, মুকুলবাবুর হাত ধরে বিজেপিতে এসে লোকসভার টিকিট পাওয়া প্রায় হাফডজন প্রার্থীর মধ্যে চার জনই জিতে গিয়েছেন। ব্যারাকপুরে টানটান উত্তেজনার পর জিতেছেন অর্জুন সিং। যাদবপুরে অনুপম হাজরার মতো তাঁর ‘অনুগামী’ জয়ের কাছাকাছি গিয়েও থমকে গিয়েছেন দ্বিতীয় স্থানে। অন্য দিকে কোচবিহার নিশীথ প্রামাণিক, বিষ্ণুপুরে সৌমিত্র খাঁ অথবা মালদহ উত্তরে খগেন মুর্মুদের জয় হয়েছে। তবে শুধু এই প্রার্থী তালিকায় সীমাবদ্ধ না থেকে সারা বাংলায় বিজেপির সাংগঠনিক শক্তিবৃদ্ধির নেপথ্যে রয়েছে মুকুলবাবুর অনস্বীকার্য অবদান। এক দিকে মোদী-ঝড় এবং বিজেপির হিন্দুত্ব ইস্যু অন্য দিকে তৃণমূলের হাঁড়ির হাল জানা মুকুলবাবুর ক্ষুরধার রাজনৈতিক চাল, দুইয়ের কাছে মুষড়ে পড়েছে শাসক শিবির।

গত ২০১৮ সালের পঞ্চায়েক নির্বাচনের সময় থেকেই উত্তর থেকে দক্ষিণ, পশ্চিমবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় মুকুলবাবুর ঘাম ঝরানোর ফসল এ বার ঘরে তুলছে বিজেপি। সেই নিরিখেই আসন্ন নরেন্দ্র মোদী সরকারের নতুন মন্ত্রিসভায় মুকুলবাবুকে অন্তর্ভুক্তির তোড়জোড় চলছে বলেই জানা গিয়েছে। তবে বর্তমানে বিজেপির জাতীয় কর্মসমিতির সদস্য মুকুলবাবুকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী করার নেপথ্যে রয়েছে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ।

দলীয় সূত্রে খবর, ২০১৯-এর সামগ্রিক চিত্র স্পষ্ট হতেই আগামী ২০২১ রাজ্য বিধানসভা ভোটে ঝাঁপাবে বিজেপি। সেই লক্ষ্যেই ২০১৯-এর সাফল্যের পুরস্কার এবং ২০২১-এর জন্য রাজ্য রাজনীতিতে তাঁর ‘প্রভাব’ প্রসারণের কথা মাথায় রেখেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিত্ব তুলে দেওয়া হতে পারে তাঁর হাতে। সে ক্ষেত্রে রেল মন্ত্রক পরিচালনার আগাম অভিজ্ঞতা থাকায় তাঁকে পুরনো মন্ত্রকেই ফিরিয়ে নিয়ে যেতে পারে বিজেপি। তবে এ ধরনের সিদ্ধান্ত এক মাত্র কেন্দ্রীয় নেতৃত্বই নিতে পারেন বলে মুখে কুলুপ আঁটছেন রাজ্য নেতৃত্ব।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here