TMC MP in parliament against FRDI
কলকাতা: গুজরাত ও হিমাচলপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল বাংলার রাজনীতিতেও গাঢ় প্রভাব ফেলে দিয়েছে। এমনিতে বছর ঘুরলেই এ রাজ্যে পঞ্চায়েত নির্বাচন। তার উপর আগামী ২০১৯-এ সাধারণ নির্বাচনের নির্ঘণ্টের কথা মাথায় রেখে শাসক-বিরোধী, উভয় দলের ঘর গোছানোর তোড়জোড়। দুইয়ে মিলে বাংলার রাজনীতি এখন যে কোনো সময় যে কোনো চমকপ্রদ ঘটনার সাক্ষী হয়ে চলেছে।
সদ্য বিজেপিতে যাওয়া প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ মুকুল রায় প্রথম থেকেই বলে এসেছেন, তৃণমূলের একাধিক হেভিওয়েট নেতা-নেত্রী বিজেপিতে যাওয়ার জন্য পা বাড়িয়ে আছেন। সবং ভোটের পাট চুকে গেলেই তাঁরা আনুষ্ঠানিক ভাবে তৃণমূল ত্যাগ করবেন। এক সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছায়াসঙ্গী প্রাক্তন আমলা এবং বিধায়ক দীপকও ঘোষও এ সপ্তাহে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। তাছাড়া স্থানীয় স্তরে এ ধরনের দলবদল তো লেগেই রয়েছে।
অন্য দিকে তৃণমূলের দাবি, রীতি মতো ভয় দেখিয়ে বেশ কয়েক জন দলীয় নেতা-নেত্রীকে দল থেকে বাগানোর চেষ্টা চলতে পারে। এর জন্য কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার নামও ব্যবহার করা হতে পারে। এ ক্ষেত্রে তাঁরা স্বয়ং মুকুলবাবুকেই উদাহরণ হিসাবে তুলে ধরছেন। তিনি যে ঠিক কী কারণে দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়াতে বাড়াতে অবশেষে দলত্যাগ করলেন, তা আজ আর কারো অজানা নয়। একই ভাবে দুর্নীতির অভিযোগ থাক বা না থাক, কিছু নেতাকে সিবিআই-ইডির ভীতি প্রদর্শন করা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছে তৃণমূল। এক তৃণমূল নেতার দাবি, কতকটা একই ভাবে গত বিধানসভা নির্বাচনের আগে-পরে এই সব সংস্থাকে কাজে লাগিয়ে তৃণমূলকে জব্দ করার চেষ্টা করেছিল বিজেপি। ওই সময় দলের নেতা মদন মিত্রের শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে সন্দেহের বশে সিবিআই ফৌজদারি বিধির ৫৩ নম্বর ধারায় আচমকা ব্যাঙ্কশাল কোর্টে অভিযোগ দায়ের করে। এসএসকেএম-এর মতো বৃহৎ সরকারি হাসপাতালে প্রতি আশ্বস্ত না হয়ে সিবিআই আদালতকে জানায়, দিল্লির এইমস-এ গিয়ে তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে হবে। তবে এত কিছুর পরেও তাদের স্বার্থ সিদ্ধি হয়নি। তবুও আগামী দিনে শুধু মাত্র তৃণমূলকে বিপাকে ফেলতে সারদা-নারদা তদন্ত  নিয়ে বিজেপি বেশ তাক লাগানো কিছু পদক্ষেপ নিতে পারে বলে অনুমান ওই নেতার।
তা যাই হোক, রাজ্যের বিজেপি নেতৃত্ব অবশ্য তৃণমূলের এই দাবির সঙ্গে কোনো ভাবেই এক মত নন। খোদ রাজ্য সভাপতি বলেছেন, রাজ্য়ের তৃমমূল সরকার যে অপশাসন চালাচ্ছে, তার বিরুদ্ধেই মানুষ বিজেপিকে চাইছে।
গত সপ্তাহের শেষ প্রান্তে সুপ্রিম কোর্টে উঠেছিল সারদা মামলার শুনানি। যেখানে সিবিআই আদালতকে স্পষ্ট ভাবেই জানায়, রাজ্য সরকারের পুলিশ তাদের কোনো মতেই সহযোগিতা করছে না। সুপ্রিম কোর্টর নির্দেশে কেন্দ্রীয় সরকারের ওই জদন্তকারী সংস্থা সারদা মামলা হাতে নেওয়ার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে বেশ কিছু তথ্য চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছে রাজ্য পুলিশের কাছে। কিন্তু কোনোটিরই জবাব মেলেনি।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here