‘অতি-গভীর’ হতে পারে নিম্নচাপ, দক্ষিণবঙ্গে জোর বৃষ্টি কি এ বার হবে?

0

ওয়েবডেস্ক: বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ যে শক্তি বাড়িয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হবে, সেটা আগাম আভাস দিতে পারেনি কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দফতর। তবে বেসরকারি কিছু আবহাওয়া সংস্থা বলছিল, নিম্নচাপটি গভীর হয়ে আরও শক্তি বাড়াতে পারে। মঙ্গলবার নিম্নচাপটি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হলেও কলকাতার বৃষ্টি-ভাগ্য খোলেনি বললেই চলে। যদিও পূর্বাভাসমতো কিছুটা বেশি বৃষ্টি পাচ্ছে পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলি।

ফলে মানুষের মধ্যে স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠছে, নিম্নচাপ তৈরি হওয়ার পরেও কেন সে ভাবে বৃষ্টি হচ্ছে না কলকাতায়। আসলে এই সময়ে বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপগুলির বেশি প্রভাব থাকে তাদের দক্ষিণপশ্চিম দিকে পড়ে যাওয়া জায়গাগুলির ওপরে। সে কারণে এক দিকে যখন নিম্নচাপের কেন্দ্র থেকে অনেক দূরে থাকা গোপালপুরে প্রবল বৃষ্টি হচ্ছে, তখন নিম্নচাপের কাছে হয়েও বৃষ্টি নেই শহরে, যে হেতু এই শহর পড়ছে তার উত্তরপূর্ব দিকে।

কলকাতা এবং দক্ষিণবঙ্গের বাকি জেলাগুলিতে বৃষ্টি কেমন হবে, সেটা নির্ভর করছে তার গতিবিধির ওপরে। আপাতত এই নিম্নচাপটি অতি-গভীরে পরিণত হওয়ারও সম্ভাবনা জানিয়ে রেখেছে আবহাওয়া দফতর। কিন্তু সে এগোবে ওড়িশা লাগোয়া পশ্চিমবঙ্গ উপকূল দিয়ে। অর্থাৎ দিঘার কাছাকাছি কোনো এক জায়গা দিয়ে স্থলভাগে ঢুকে এ ঝাড়খণ্ড হয়ে পাড়ি দিতে পারে মধ্য ভারতে। ফলে পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলি, অর্থাৎ বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, বীরভূমে, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামে বেশি বৃষ্টির সম্ভাবনা। ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিও হতে পারে এই সব জায়গায়।

আরও পড়ুন কাশ্মীর ইস্যুতে প্রথম দেশ হিসেবে ভারতকে প্রকাশ্যে সমর্থন জানাল এই মুসলিম রাষ্ট্রটি

তুলনায় কলকাতা এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে বৃষ্টি কিছুটা কম হওয়ার সম্ভাবনা। যদিও বর্তমান পরিস্থিতি বিচার করে বেসরকারি আবহাওয়া সংস্থা ওয়েদার আল্টিমা জানাচ্ছে, মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার সারা দিন দফায় দফায় বেশ কয়েক পশলা বৃষ্টি হতে পারে শহরে। কয়েক পশলা ভারী বৃষ্টিরও সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে নিম্নচাপ দূরে চলে গেলেই যে বৃষ্টি বন্ধ হয়ে যাবে এমনটা নয়। বরং আগামী বৃহস্পতিবারও বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকবে দক্ষিণবঙ্গে। তার কারণ নিম্নচাপটি মধ্য ভারতে চলে গেলেও তার জেরে দক্ষিণবঙ্গের বায়ুমণ্ডলে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প ঢুকতে পারে। তার ফলেও বৃষ্টি চলতে পারে। আগামী ৪৮ ঘণ্টা তাই দক্ষিণবঙ্গের ভালো বৃষ্টিরই সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে দক্ষিণবঙ্গের বৃষ্টির ঘাটতি বেশ কিছুটা কমবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here