কলকাতা: “উপাচার্যের কাজ সমন্বয় সাধন করা। যত দিন সেটা করতে পারব থাকব। না পারলে চলে যাব” — যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে উপাচার্য সুরঞ্জন দাসের এই উক্তি জন্ম দিল এক নতুন বিতর্কের।   

শনিবার, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হল ৬১তম সমাবর্তন উৎসব। রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠী ও অল ইন্ডিয়া কাউন্সিল ফর টেকনিক্যাল এডুকেশনের (এআইসিটিই) চেয়ারম্যান অধ্যাপক অনিল সহস্রবুদ্ধির উপস্থিতিতে সম্মানিত করা হয় এ বছর বিভিন্ন বিষয়ে স্নাতক হওয়া ছাত্রছাত্রীদের। এ ছাড়া সাম্মানিক ডি লিট উপাধি দেওয়া হয় পাঁচজনকে। দেশে কলেজ আর বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা বাড়লেও ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে সে ভাবে যে উৎকর্ষ বৃদ্ধি পাচ্ছে না, সে ব্যাপারে আক্ষেপ করেন অধ্যাপক সহস্রবুদ্ধি। কিন্তু এ দিন সব কিছুকেই ছাপিয়ে যায় সুরঞ্জনবাবুর এই উক্তি।

গত বছর যখন সুরঞ্জনবাবু বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের দায়িত্ব নেন, তার কিছু দিন আগেই উপাচার্য অভিজিৎ চক্রবর্তীকে নিয়ে উত্তাল ছিল বিশ্ববিদ্যালয়। সুরঞ্জনবাবু দায়িত্ব নিয়েই ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনেন। তাঁর কার্যকালে বৃহত্তর কোনো ছাত্র আন্দোলন না হলেও একবার ছাত্রছাত্রীদের হাতে ৪৯ ঘণ্টা ঘেরাও হয়ে ছিলেন সুরঞ্জনবাবু। কিন্তু তাতেও ছাত্রছাত্রীদের পাশেই দাঁড়াতে দেখা গিয়েছে তাঁকে।

ডিন নিয়োগ বা অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপকদের পুনর্নিয়োগ বিতর্কে রাজ্য সরকারের বিরাগভাজন হলেও তাঁর ওপরে আস্থা রেখেছিল সরকার। এমনকি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী উপাচার্য নিয়োগ সংক্রান্ত সরকারি কমিটিতে তাঁর নাম থাকলেও পরে আইনি জটিলতায় নিজের নাম প্রত্যাহার করে নেন তিনি।

সুরঞ্জনবাবু এ দিন বলেন, “পরিস্থিতি সব সময় এক থাকে না, পালটায়।” এখানেই শিক্ষা মহলের ধারণা, সুরঞ্জনবাবু সব সময় সমন্বয়ের কথা বলেন, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠনের সরকারবিরোধী আন্দোলন এবং পুনর্নিয়োগ স্থগিত নিয়ে সরকারি চাপ, সব কিছু মিলিয়ে সমন্বয় ঘটাতে পারছেন না তিনি। তাই সরে যাওয়ার ইঙ্গিত দিলেন। তবে সুরঞ্জনবাবুর আশা, তিনি যে ভাবে সরকার, অধ্যাপক এবং অভিভাবকদের সমর্থন পেয়ে এসেছেন, সেই সমর্থন ভবিষ্যতেও পাবেন তিনি।

অন্য দিকে শিক্ষক সংগঠন জুটা ও আবুটা এ দিনই পুনর্নিয়োগ এবং সরকারের বিল স্থগিত নিয়ে নীরব বিক্ষোভ দেখায়।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here