purulia

শুভদীপ চৌধুরী, পুরুলিয়া: মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর দিন থেকেই বেশ ফুরফুরে মেজাজে নতুন উদ্যমে নতুন শ্রেণিতে পড়াশোনার প্রস্তুতি শুরু হচ্ছে মাধ্যমিক পাস পড়ুয়াদের। এক দিকে যেমন রয়েছে এই পড়ুয়ারা, অন্য দিকে তেমনই রয়েছে এমন কিছু পড়ুয়া, যাদের পড়ার ইচ্ছে থাকলেও হয়তো আর কখনো তা করে ওঠা সম্ভব হবে না। মনে অদম্য ইচ্ছে থাকলেও তাঁদের আর্থিক অভাব পড়াশোনার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে ।

purulia2

পুরুলিয়া জেলার রেল শহর আদ্রার পলাশকোলা অঞ্চলে বসবাস করে এমনই এক মাধ্যমিক উত্তীর্ণ ছাত্রী বর্ণালী দাস, এ বছর মাধ্যমিক পরীক্ষায় সে পেয়েছে ৬১.১৭ শতাংশ নম্বর। বর্ণালীর বাবা দেবাশিস দাস মারা যান সাত বছর আগে। এর পর পরিবারে বর্তমানে আছেন বর্ণালী-সহ তাঁর অষ্টম শ্রেণিতে পড়া বোন এবং মা ববিতা দাস ।

ববিতাদেবী জানান, তিনি ঘুঁটে বিক্রি করেন। এ ছাড়া কয়েকটা বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করে তাঁর দুই মেয়েকে গড়ে তোলার স্বপ্ন পূরণের দিকে এগোচ্ছেন। বর্ণালী ঘরের কাজেও তাঁকে সাহায্য করেন। বড়ো মেয়ে বর্ণালী এ বছর মাধ্যমিকে ভালো ফল করায় তিনি আজ অত্যন্ত আনন্দিত। তিনি আশা করেন, তাঁর মেয়ে ভবিষ্যতে আরো ভালো ভাবে পড়াশোনা করে ভালো ফল করবে। কিন্তু আর্থিক অসহায়তার জন্য আদৌ তাঁর মেয়ের শিক্ষিকা হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হবে কিনা, সে দিকেই তাকিয়ে মা ববিতাদেবী ।

অন্য দিকে বর্ণালী বলে, তার স্বপ্ন শিক্ষিকা হওয়ার।এখনও পর্যন্ত সে কোনো রকম আর্থিক সাহায্য পায়নি কারো কাছ থেকে। আদ্রা বিদ্যাসাগর বিদ্যাপীঠের এই ছাত্রীর কোনো গৃহশিক্ষক না থাকায় সমস্যা হয়েছিল অনেক, কিন্তু ভালো ফল করার পর তার কষ্টের মূল্য সে পেয়েছে অনেকটাই।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here