কলকাতা: মধ্য মার্চে শীতের ছোঁয়া। আকাশ পরিস্কার হতেই ফের নেমে গেল পারদ। কিন্তু এই পারদ-পতন ক্ষণস্থায়ী। বৃহস্পতিবার থেকে কিছু বাড়বে তাপমাত্রা। কিন্তু চিন্তা করবেন না। তাপমাত্রা বাড়লেও, শনিবার নাগাদ ফের বৃষ্টির ছোঁয়া পেতে পারে কলকাতা তথা দক্ষিণবঙ্গ।

গত বুধবার থেকে শনিবার পর্যন্ত প্রায় দেড়শো মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে কলকাতায়। গত দশ বছরে মার্চে বৃষ্টির ক্ষেত্রে যা রেকর্ড। মূলত ঝাড়খণ্ড এবং বাংলাদেশের ওপর থাকা দু’টি ঘূর্ণাবর্ত এবং একটি নিম্নচাপ অক্ষরেখার প্রভাবেই এই বৃষ্টি হয়েছিল। শনিবার বিকেলে ঝড়বৃষ্টির পরেই ঘূর্ণাবর্ত এবং নিম্নচাপ অক্ষরেখাগুলি চলে যায়। পরিষ্কার হয় আকাশ।

পরিষ্কার আকাশ এবং সদ্য হিমাচলে হওয়া তুষারপাত। এই দুইয়ের প্রভাবে ফের এক বার উত্তুরে হাওয়া ঢুকতে শুরু করে দক্ষিণবঙ্গে। উত্তুরে হাওয়াকে সঙ্গী করে সোমবার থেকে ফের কমে যায় পারদ। সোমবার কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস, স্বাভাবিকের থেকে তিন ডিগ্রি কম। মঙ্গলবার তাপমাত্রা আরও এক ডিগ্রি কমে রেকর্ড করা হয়েছে ১৭.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস বুধবার এ রকমই থাকবে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। 

হঠাৎ এই শীত কিন্তু গোটা রাজ্যেই পড়েছে। দক্ষিণবঙ্গে এ দিন সব থেকে বেশি ‘শীত’ ছিল শান্তিনিকেতনে। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল স্বাভাবিকের থেকে ছ’ ডিগ্রি কম ১২.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি, কোচবিহারে তাপমাত্রা তো আরও কম। সেখানে এগারো থেকে বারো ডিগ্রির কাছাকাছি রেকর্ড করা হয়েছে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।

শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, শীত ফিরে গোটা উত্তর ভারতে। দিল্লিতে এ দিন সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। স্বাভাবিকের থেকে যা সাত ডিগ্রি কম। লখনউ এবং চণ্ডীগড়ে তাপমাত্রা ছিল যথাক্রমে আট এবং নয় ডিগ্রি।

তবে বৃহস্পতিবার থেকে ফের বাড়তে শুরু করবে তাপমাত্রা। উত্তুরে হাওয়ার বদলে ঢুকবে জলীয় বাষ্পে ভরা দখিনা বাতাস। এই জলীয় বাষ্পের প্রভাবেই শনিবার বিকেলে ফের ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা দক্ষিণবঙ্গে।    

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here