ওয়েবডেস্ক: ঝঞ্ঝার মেঘ কেটে যেতেই গোটা রাজ্যে নামতে শুরু করেছে পারদ। তবে উত্তরবঙ্গের তুলনায় দক্ষিণবঙ্গের পারদ পতন বেশি লক্ষণীয়। এরই মধ্যে অবশ্য হুংকার দিচ্ছে আরও একটি পশ্চিমী ঝঞ্ঝা। ফলে শীতের স্থায়িত্ব নিয়ে সংশয় থাকছে।

রবিবার সারা দিন গোটা রাজ্যে বইছে ফুরফুরে উত্তুরে হাওয়া। যার প্রভাব দেখা গিয়েছে সোমবার সকালেই। কলকাতায় ১৩-এর ঘরে নেমেছে পারদ। তবে দক্ষিণবঙ্গের বেশ কিছু অঞ্চলে দশের নীচে নেমে গিয়েছে তাপমাত্রা।

দক্ষিণবঙ্গে এ দিন শীতলতম স্থান ছিল পানাগড়। সেখানে পারদ ছিল ৯.৩। মাত্র ০.১ ডিগ্রি বেশি থেকে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে পুরুলিয়া। তবে উপকূলবর্তী অঞ্চলেও শীতের দাপট কম কিছু নয়। ক্যানিং-এ এ দিন সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯.৮ ডিগ্রি।

আরও পড়ুন  এ ভাবেও ফিরে আসা যায়! চার বছরে শীতলতম ফেব্রুয়ারি কলকাতায়

বাঁকুড়া, বোলপুর, বর্ধমান, আসানসোলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ঘোরাফেরা করেছে ১০-১১ ডিগ্রির মধ্যে।

অন্য দিকে দক্ষিণবঙ্গের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যাবে উত্তরবঙ্গের তাপমাত্রা কিছুটা বেশি। কারণ এক দিকে যখন দক্ষিণবঙ্গের পারদ স্বাভাবিকের থেকে ৩-৪ ডিগ্রি করে নেমে গিয়েছে, তখন উত্তরবঙ্গের পারদ স্বাভাবিকের কাছাকাছি ঘোরাঘুরি করছে।

দার্জিলিংয়ে এ দিন সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটি স্বাভাবিকের থেকে দু’ডিগ্রি বেশি।

তবে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা আরও কিছুটা কমতে পারে গোটা রাজ্যে। পুরুলিয়া-পানাগড়ে পারদ ৮-এর ঘরে নামতে পারে। উত্তরবঙ্গের সমতলের শহরগুলিতে ৭-৮ ডিগ্রিতে থাকতে পারে পারদ।

কিন্তু সব থেকে বড়ো প্রশ্ন হল শীতের স্থায়িত্ব নিয়ে। কারণ পর্যবেক্ষণে দেখা গিয়েছে, কিছু দিনের মধ্যেই উত্তর ভারতে হানা দিতে চলেছে আরও একটি শক্তিশালী পশ্চিমী ঝঞ্ঝা। যার ফলে ফের বাড়তে শুরু করবে তাপমাত্রা।

এ বারের ঝঞ্ঝাগুলি যথেষ্ট শক্তিশালী হচ্ছে এবং তার প্রভাব উত্তরবঙ্গ এবং সিকিমে ভালো রকমই পড়ছে। আগামী ঝঞ্ঝাটিও সে রকমই কিছু হতে পারে।

মনে করা হচ্ছে আগামী শুক্রবার-শনিবার ফের একদফা বৃষ্টি পেতে পারে গোটা রাজ্য। স্বাভাবিক ভাবেই বৃষ্টির পরিমাণ উত্তরবঙ্গে কিছুটা বেশিই থাকবে।

ফলে শীতের খামখেয়ালি আচরণ যে এখনই থামবে না, সেটা কার্যত নিশ্চিত করেই বলে দেওয়া যায়।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here