Connect with us

রাজ্য

মেঘ-বৃষ্টির পর্বের পর সরস্বতী পুজো থেকে আবার ঘুরে দাঁড়াবে শীত

rain in kolkata

ওয়েবডেস্ক: বাড়ন্ত তাপমাত্রা দেখে কি ভাবতে শুরু করে দিয়েছেন যে শীত অবশেষে বিদায়ের মুখে? তা হলে এক্কেবারেই ভুল ভাবছেন।

সরস্বতী পুজোর পরেই রাজ্যে আবার ঘুরে দাঁড়াবে শীত। তবে তার আগে শুক্র এবং শনিবার মেঘবৃষ্টির খেলা চলতে পারে রাজ্য জুড়ে।

এই মুহূর্তে উত্তর ভারতে একটি প্রবল শক্তিশালী পশ্চিমী ঝঞ্ঝা হানা দিয়েছে। এই ঝঞ্ঝাটির ফলে কাশ্মীর, হিমাচল এবং উত্তরাখণ্ডে অতি প্রবল তুষারপাত এবং সমতলের রাজ্যগুলিতে প্রবল বৃষ্টি হচ্ছে।

এই ঝঞ্ঝাটির ফলেই রাজ্যে বেড়ে রয়েছে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। বৃহস্পতিবার কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা উঠে গিয়েছে ১৬ ডিগ্রিতে। পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতেও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বেশ বেশি।

শীত কমেছে উত্তরবঙ্গেও। বৃহস্পতিবার দার্জিলিংয়ের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৫ ডিগ্রি, স্বাভাবিকের থেকে যা দু’ডিগ্রি বেশি।

এই বেড়ে যাওয়া তাপমাত্রার পেছনেই রয়েছে বৃষ্টির আগমন। বেসরকারি আবহাওয়া সংস্থা ওয়েদার আল্টিমা জানিয়েছে, ঝঞ্ঝাটি এ বার ক্রমশ পূর্ব ভারতের দিকে সরবে।

আরও পড়ুন অফিস টাইমে ফের বিগড়ল মেট্রো, দুর্ভোগে যাত্রীরা

পূর্বে সরলেও, তার দুর্বল হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। বরং আরব সাগর থেকে জলীয় বাস্পের টানে সে যথেষ্টই শক্তিশালী থাকবে। এর প্রভাবে বৃহস্পতিবার রাত থেকেই মেঘ ঢুকবে রাজ্যের বায়ুমণ্ডলে।

বৃহস্পতিবার রাত থেকে উত্তরবঙ্গে বৃষ্টি শুরু হবে বলে জানানো হয়েছে। অন্য দিকে শুক্রবার দুপুর থেকে বৃষ্টির ছোঁয়া পেতে পারে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গ। দক্ষিণবঙ্গে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও, ভারী বৃষ্টি হতে পারে উত্তরবঙ্গে।

শনিবার বিকেলের পর থেকে গোটা রাজ্যেই আকাশ পরিষ্কার হয়ে যাবে। সরস্বতী পুজোর দিন থেকে ফের মিলবে শীতল উত্তুরে হাওয়ার ছোঁয়া।

সোমবার থেকে পরের ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা, রাজ্যের পারদে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা যেতে পারে। কলকাতায় পারদ নেমে যেতে পারে ১২ ডিগ্রির কাছাকাছি। পশ্চিমাঞ্চলে নামতে পারে দশের নীচে।

অন্য দিকে ফের এক শীতে কাঁপবে উত্তরবঙ্গও।

সব মিলিয়ে বিদায় বেলায় দ্বিতীয় বার প্রত্যাবর্তন ঘটবে শীতের।

রাজ্য

মৃত্যুহারকে তিন শতাংশের নীচে নামিয়ে রাজ্যে আরও কমল নতুন আক্রান্তের সংখ্যা

খবরঅনলাইন ডেস্ক: মৃত্যুহার কমে গেল তিন শতাংশেরও নীচে। আর অন্য দিকে নতুন আক্রান্তের সংখ্যাও সোমবারের থেকে বেশি কিছুটা কমল রাজ্যে। পাশাপাশি করোনায় সব থেকে ক্ষতিগ্রস্ত রাজ্যগুলির তালিকায় অষ্টম স্থান থেকে নবম স্থানে নামল পশ্চিমবঙ্গ। সব মিলিয়ে মঙ্গলবার রাজ্যের করোনা-তথ্য কিছুটা স্বস্তি দিল রাজ্যবাসীকে।

রাজ্যের করোনা-তথ্য

গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে নতুন করে ১৩৯০ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এর ফলে এই রাজ্যে এখন মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৩২,৪৮৪। গত ২৪ ঘণ্টায় ২৪ জনের মৃত্যু হওয়ায় মৃত্যুহার এখন কমে ২.৯৮ শতাংশ হয়েছে।

তবে রাজ্য একদিনে করোনামুক্তির সংখ্যায় এ দিন রেকর্ড তৈরি হয়েছে ছাড়া পেয়েছেন ৭১৮ জন। ফলে, এ রাজ্যে এখনও পর্যন্ত মোট ১৯,৯৩১ জন করোনামুক্ত হলেন। রাজ্যে সুস্থতার হার যদিও আরও কিছুটা কমে ৬০.৬৯ শতাংশে এসেছে। রাজ্যে বর্তমানে সক্রিয় রোগী রয়েছে ১১,৯২৭।

করোনায় সব থেকে ক্ষতিগ্রস্ত রাজ্যগুলির তালিকায় পশ্চিমবঙ্গ নবম স্থানে নেমে গিয়েছে। এ দিনই আক্রান্তের নিরিখে এ রাজ্যকে টপকে অষ্টম স্থানে উঠেছে অন্ধ্রপ্রদেশ।

কলকাতায় রেকর্ড, পার্শ্ববর্তী জেলায় স্বস্তি

করোনায় নতুন আক্রান্তের সংখ্যায় রেকর্ড হল কলকাতায়। এক দিনে আক্রান্ত হলেন ৫২৪ জন। ফলে শহরে এখন মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১০,৫৫০। এখন শহরে সুস্থ হয়েছেন ৫,৯২১ জন। সক্রিয় রোগী রয়েছেন ৪,১১৩ জন।

উত্তর ২৪ পরগণায় অবশ্য নতুন আক্রান্তের সংখ্যা কিছুটা কম (২৯৩)। এই জেলায় এক দিনেই সুস্থ হয়েছেন ১৯৫ জন। দক্ষিণ ২৪ পরগণায় আক্রান্ত হয়েছেন ১৪৩ জন। হাওড়া আর হুগলিতে আক্রান্ত হয়েছেন ১১৯ আর ৩১ জন।

দুই মেদিনীপুরে আক্রান্তের সংখ্যায় বড়োরকমের বৃদ্ধি

পশ্চিম মেদিনীপুর আর পূর্ব মেদিনীপুরে গত ২৪ ঘণ্টায় যথাক্রমে ৬৭ আর ৪০ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এর বাইরে বাকি জেলাগুলিতে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।

ঝাড়গ্রামের পাশাপাশি, গত ২৪ ঘণ্টায় পুরুলিয়ায় নতুন করে কোনো করোনা-আক্রান্তের সন্ধান মেলেনি। বাকি জেলাগুলিতে নতুন আক্রান্তের সংখ্যা দশের কম। সক্রিয় রোগী কমেছে পুরুলিয়া আর বাঁকুড়ায়।

স্বস্তি দিল শিলিগুড়ি

দার্জিলিং আর জলপাইগুড়ি জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছেন মাত্র ১০ জন। অর্থাৎ, শিলিগুড়ি শহর থেকে কিছুটা স্বস্তির খবর পাওয়া যাচ্ছে। গত দু’ দিন ধরে এই শহরে উদ্বেগজনক ভাবে বাড়ছিল করোনা-আক্রান্তের সংখ্যা। তবে মালদায় নতুন করে ৫২ জনের পাশাপাশি, দক্ষিণ দিনাজপুরে নতুন করে ৪২ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

উল্লেখ্য, দক্ষিণ দিনাজপুরের করোনা-পরিস্থিতি নিয়ে রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর কিছুটা উদ্বিগ্ন। বালুরঘাট শহরের একটি বাজারের জমায়েত থেকে করোনাভাইরাস ছড়িয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এ দিন দক্ষিণ দিনাজপুরে একজনের মৃত্যুও হয়েছে।

নমুনা-পরীক্ষার তথ্য

গত ২৪ ঘণ্টায় ১১,১০২টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। এর ফলে এখনও পর্যন্ত রাজ্যে মোট ৬ লক্ষ ৩৮ হাজার ৫৪০টি নমুনার পরীক্ষা হল। রাজ্যে প্রতি দশ লক্ষ মানুষে ৭,০৯৫ জনের নমুনা পরীক্ষা হচ্ছে।

Continue Reading

উঃ দিনাজপুর

ময়নাতদন্তে বিধায়কের আত্মঘাতী হওয়ারই ইঙ্গিত, জানালেন স্বরাষ্ট্রসচিব

সোমবার রাতে রায়গঞ্জ মেডিক্যাল কলেজে ময়নাতদন্ত হয় ৬৫ বছরের বিধায়কের।

খবরঅনলাইন ডেস্ক: হেমতাবাদের বিধায়ক দেবেন্দ্রনাথ রায় (Debendranath Roy) আত্মহত্যাই করেছেন। প্রাথমিক ভাবে এমনই ইঙ্গিত দিয়েছে ময়ানাতদন্ত। মঙ্গলবার এমনই জানিয়েছেন রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় (Alapan Banerjee)।

সোমবার রাতে রায়গঞ্জ মেডিক্যাল কলেজে ময়নাতদন্ত হয় ৬৫ বছরের বিধায়কের। ময়নাতদন্ত করেন সেখানকার ফরেনসিক সায়েন্স বিভাগের চিকিৎসক জয়দীপ খান।

সেই রিপোর্ট উদ্ধৃত করে এ দিন আলাপনবাবু বলেন, ‘‘ময়নাতদন্তের রিপোর্ট দেখে রাজ্য পুলিশ মনে করছে ঘটনাটি একটি সম্ভাব্য আত্মহত্যার ঘটনা।’’ 

ফলে বিজেপি (BJP) বা দেবেন্দ্রনাথ বাবুর পরিবারের সদস্যরা যে তাঁর খুন হওয়ার অভিযোগ করেছেন, সেটা খারিজ করে দিল রাজ্য। ময়নাতদন্তের আগেই অবশ্য সোমবার রাজ্য পুলিশ দাবি করেছিল যে দেবেন্দ্রনাথবাবুর পকেট থেকে মিলেছে সুইসাইড নোট যেখানে তিনি দু’জনকে দায়ী করে গিয়েছেন মৃত্যুর জন্য।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, বিধায়কের শরীরে কোথাও কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই। গলায় ১৫ ইঞ্চি লম্বা এবং আধ ইঞ্চি চওড়া ‘লিগেচার মার্ক’  অর্থাৎ ফাঁসের দাগ পাওয়া গিয়েছে।

আলাপনবাবু এ দিন জানিয়েছেন, সুইসাইড নোট যে দু’ জনের নাম দেবেন্দ্রনাথবাবু লিখে রেখে গিয়েছেন, তারা ধার দেওয়া এবং মিনি ব্যাঙ্কিংয়ের সঙ্গে যুক্ত।

এ দিকে দেবেন্দ্রনাথবাবুর মৃত্যুর প্রতিবাদে ডাকা বন্‌ধে এ দিন মিশ্র সাড়া পড়েছে উত্তরবঙ্গে। কোচবিহারে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ ছাড়া কোথাও কোনো অশান্তির ঘটনা ঘটেনি।

Continue Reading

রাজ্য

আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে, প্রশ্ন উঠছে চিকিৎসা পরিষেবা নিয়েও

শুরুর দিকে যে ভাবে আক্রান্তদের চিকিৎসায় গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছিল, এখন আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় কি তাতে কোনো খামতি দেখা দিচ্ছে?

ওয়েবডেস্ক: জেলা তো বটেই, রাজধানী কলকাতার বড়ো হাসপাতালগুলিতেও রোগীদের পর্যাপ্ত চিকিৎসা পরিষেবা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে। করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের (Coronavirus outbreak) শুরুর দিকে যে ভাবে আক্রান্তদের চিকিৎসায় গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছিল, এখন আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় কি তাতে কোনো খামতি দেখা দিচ্ছে?

শেষ কয়েক দিনে কোথাও সন্দেহভাজন কোভিড-১৯ (Covid-19) রোগীর ভরতি নিয়ে দীর্ঘ টালবাহানা, পাশাপাশি অন্য রোগে আক্রান্তের পর্যাপ্ত চিকিৎসা পরিষেবা পেতেও ‘হেনস্থা’র অভিযোগ উঠছে।

একটি মৃত্যু এবং ভাইরাল ভিডিও

গত সোমবার সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। ওই ভিডিয়োয় দেখা যায়, জয়নগরের ২৬ বছরের যুবক অশোক রুইদাসের বাবা ছেলেকে হারিয়ে হাহাকার করছেন। তাঁর কথায়, “আমার ছেলের করোনা হয়নি, টাইফয়েড হয়েছিল। সব কাগজপত্র আমার কাছে রয়েছে”। মৃতের মামাতো ভাই আনন্দবাজার পত্রিকার কাছে জানান, সপ্তাহখানেক ধরে দক্ষিণ বারাসতের একটি নার্সিংহোম ভরতি ছিলেন অশোক। রক্তপরীক্ষায় তাঁর টাইফয়েড ধরা পড়ে। সোমবার তাঁকে এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। সেখানে উপসর্গের কথা শুনে তাঁকে শম্ভুনাথ পণ্ডিত হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানেও জ্বর এবং শ্বাসকষ্টের উপসর্গ শুনে তাঁকে ১০২ অ্যাম্বুলেন্সে করে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

মেডিক্যালে দ্রুত ভরতির পরামর্শ দেওয়ার পর কাগজপত্র তৈরি করতে করতেই জরুরি বিভাগের বাইরে স্ট্রেচারে শোওয়ানো অশোকের মৃত্যু হয়।

তবে এসএসকেএম-শম্ভুনাথ পণ্ডিত হাসপাতালে ঘোরার পর মেডিক্যালে ভরতির আগেই মৃত্যু হলেও প্রশ্ন উঠছে দক্ষিণ বারাসতের ওই নার্সিংহোমের ভূমিকা নিয়েও। প্রায় সপ্তাহখানেক ফেলে রাখার পর কেন রোগীকে কলকাতায় পাঠানো হল?

একই দিনে মেডিক্যাল চত্বরে আরও একটি মৃত্যু

ওই দিনই কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ চত্বরে মৃত্যু হয় লক্ষ্মী সাই নামে এক বৃদ্ধার। ঠনঠনিয়ার বাসিন্দা ওই ৬৫ বছরের বৃদ্ধার মেয়ে শুক্লা দাবি করেন, গত কয়েক দিন ধরেই জ্বরে ভুগছিলেন মা। সঙ্গে ছিল ক্লান্তিভাব, বমি, গায়ে ব্যথা এবং অল্প শ্বাসকষ্ট।

ওই দিন শারীরিক অবস্থা খারাপ হলে বৃদ্ধাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার তোড়জোড় শুরু করে পরিবার। কিন্তু জ্বর হয়েছে শুনে অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে যেতে রাজি হয়নি। শেষমেশ একটি ভ্যানরিকশা জোগাড় করে তাঁকে মেডিক্যালে নিয়ে আসা হয়। দাবি করা হয়, গেট পেরনোর সময়ও তিনি জীবিত ছিলেন। কিন্তু জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আসার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়।

অভিযোগ অন্য রোগেও

কলকাতা মেডিক্যাল কলেজকে কোভিড-১৯ হাসপাতাল ঘোষণা করা হলেও সম্প্রতি রাজ্য সরকার জুনিয়র চিকিৎসকদের দাবি মেনে নিয়ে অন্য রোগের চিকিৎসারও অনুমোদন দিয়েছে। কিন্তু সেখানেও নন-কোভিড রোগীরা পর্যাপ্ত চিকিৎসা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠছে।

এশিয়ানেট নিউজ বাংলায় প্রকাশিত একটি খবর থেকে জানা যায়, সম্প্রতি অ্যাবডোমিনাল ডিস্টেনশন (পেট ফাঁপা) সমস্যায় আক্রান্ত মালদহের কালিয়াচকের বাসিন্দা শ্যামাদেবীকে নিয়ে কখনও অটোয়, কখনও বা ভ্যানে শহরের এক হাসপাতাল থেকে আর এক হাসপাতালে ছুটে বেড়িয়েছেন তাঁর দিদি। হাতে টাকা শেষ, এখন আশ্রয় নিয়েছেন মেডিক্যাল কলেজের চত্ত্বরেই। দিদির দাবি, “কোথাও ভরতি নিচ্ছে না। এই হাসপাতাল বলছে, করোনা না হলে ভরতি নেব না। কোথায় যাব”?

এমনটাও অভিযোগ, এ রকমই শ’য়ে শ’য়ে রোগী প্রতিদিন হয়রানির শিকার হচ্ছেন। বহির্বিভাগ খোলা হলেও করোনা নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ না হলে ভরতি নেওয়া হচ্ছে না।

সমন্বয়ের খামতি?

আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, বছর বাইশের মনীষা দাস সন্তানসম্ভবা অবস্থায় মেটিয়াবুরুজের একটি হাসপাতালে ভরতি হন। দিন তিনেক আগে সন্তানপ্রসবের পর তাঁর শ্বাসকষ্ট শুরু হলে এসএসকেএম হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে তাঁকে সন্দেহভাজন করোনা আক্রান্ত হিসেবে পাঠানো হয় কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে। কিন্তু জরুরি বিভাগে যাওয়ার পর রোগিণীকে ভরতি করা নিয়ে টালবাহানা শুরু হয়।

পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছোয় যে, জরুরি বিভাগের পাশে স্ট্রেচারে শোওয়ানো অবস্থায় তাঁকে অক্সিজেন দেওয়া হয়। নাকে নল গোঁজা অবস্থায় ঘণ্টা দুয়েক এ ভাবে পড়ে থাকার পর স্বাস্থ্য ভবনের হস্তক্ষেপের পর তাঁকে ভরতি নেওয়া হয়।

কতকটা একই ধরনের পরিস্থিতির শিকার হতে হয় হাওড়ার নলপুরের বাসিন্দা ৩৬ বছরের এক যুবককেও। হৃদরোগের সমস্যা নিয়ে তিনি এনআরএস হাসপাতালে ভরতি হয়েছিলেন। সেখানে অস্ত্রোপচারের আগে নমুনা পরীক্ষায় তিনি কোভিড-১৯ পজিটিভ হন।

জানা যায়, এর পরই এনআরএস কর্তৃপক্ষ মেডিক্যাল কলেজে তাঁর জন্য বেড নিশ্চিত করার পর সেখানে পাঠিয়ে দেন। কিন্তু মেডিক্যালে আসার পর অ্যাম্বুলেন্সের চালককে জানানো হয়, স্বাস্থ্য দফতরের ফোন না পেলে রোগীকে ভরতি করা যাবে। এ ভাবেই ঘণ্টাখানেক কেটে যাওয়ার পর দুই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আলোচনার পর তাঁকে ভরতি নেওয়া হয়।

জানা যায়, দিন তিনেক আগেও চারটে হাসপাতাল ঘুরে ভরতি হতে না পারায় ইছাপুরের ১৮ বছরের এক তরুণের মৃত্যু হয়। তাঁর পরিবার আত্মহত্যার হুমকি দেওয়ার পর মেডিক্যাল কলেজে ভরতি নেওয়া হলেও শেষমেশ মারা যায় ওই তরুণ।

মেডিক্যাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

মেটিয়াবুরুজের মনীষা দাসের হয়রানির প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে মেডিক্যাল কলেজের উপাধ্যক্ষ তথা সুপার ইন্দ্রনীল বিশ্বাস আনন্দবাজারের কাছে বলেন, “করোনা রোগী ছাড়া করোনা সন্দেহভাজন যে সমস্ত রোগী মৃতপ্রায়, তাঁদেরই এখানে ভর্তির নির্দেশ রয়েছে। ওই প্রসূতির এখানে ভর্তি হওয়ার কথা নয়। কিন্তু মানবিকতার খাতিরে তাঁকে ভর্তি নেওয়া হয়েছে”।

এখান থেকেই প্রশ্ন উঠছে, তা হলে অন্য হাসপাতাল থেকে কেন মেডিক্যালে পাঠানো হচ্ছে করোনা সন্দেহভাজনদের? এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সব রোগীকে ভর্তি নিলে কোভিড পজিটিভ রোগীদেরই শয্যা দেওয়া মুশকিল হয়ে যাবে। সবাই সব কিছু জানেন”। একই প্রসঙ্গে এসএসকেএম হাসপাতালের উপাধ্যক্ষ রঘুনাথ মিশ্র বলেন, “জ্বর, শ্বাসকষ্ট হলে আমাদের সে সব রোগীকে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজেই পাঠানোর কথা”।

অব্যবস্থার অভিযোগ জেলাতেও

ক্যানিং কোভিড হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা নিয়ে অভিযোগ তুলছে চিকিৎসাধীন রোগীদের একাংশ। করোনা প্রাদুর্ভাবের প্রথম দিকেই ৫১ শয্যাবিশিষ্ট এই হাসপাতাল তৈরি হয়েছে ক্যানিং স্টেডিয়ামে। কিন্তু হাসপাতালের অব্যবস্থা নিয়ে অভিযোগ উঠছে।

চিকিৎসাধীন রোগীদের একাংশের অভিযোগ, হাসপাতালে পর্যাপ্ত স্নানের জল নেই। এমনকী পানীয় জলও পাওয়া যাচ্ছে না প্রয়োজন মতো। চিকিৎসক অথবা নার্সরা ঠিক মতো চিকিৎসাও করছেন না। কয়েক জন অভিযোগ করেছেন, জানলা দিয়ে ওষুধ ছুড়ে দেওয়া হচ্ছে। সময় মতো মিলছে না খাবার। করোনা রোগীদের বারবার গরম জল খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হলেও, সেটাও পাওয়া যাচ্ছে না।

সম্প্রতি এই হাসপাতালের ‘অব্যবস্থা’ নিয়ে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন রোগীরা। সেই ভিডিয়োয় একাধিক অভিযোগ করা হয়েছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, যে অভিযোগগুলি তোলা হয়েছে, সেগুলি সঠিক নয়। রোগীদের পর্যাপ্ত চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে। পাম্প খারাপ থাকায় কয়েক দিন জল নিয়ে সমস্যা হচ্ছিল। তবে সেই সমস্যা এখন আর নেই!

ছবি: বিজনেস টুডে থেকে

এসএফআই-এর স্বাস্থ্যভবন অভিযান ঘিরে ধন্ধুমার

তরুণ শুভ্রজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের মৃত্যুর প্রতিবাদে এসএফআই সল্টলেকের স্বাস্থ্য ভবন অভিযানের ডাক দিয়েছিল । সামজিক দূরত্ব বজায় না রেখে বিক্ষোভ দেখানো হচ্ছে অভিযোগ পুলিশের। এরপর সেখান থেকে বিক্ষোভকারীদের হঠিয়ে দিতে শুরু করে পুলিশ। শুরু হয় বচসা। বিভোক্ষকারীরা পুলিশের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ তোলে।

Posted by Khaboronline on Tuesday, July 14, 2020
Continue Reading
Advertisement
রাজ্য9 mins ago

মৃত্যুহারকে তিন শতাংশের নীচে নামিয়ে রাজ্যে আরও কমল নতুন আক্রান্তের সংখ্যা

দেশ1 hour ago

সুপ্রিম কোর্ট কোভিড-১৯ চিকিৎসার খরচ বেঁধে দিতে পারে না: প্রধান বিচারপতি

দেশ2 hours ago

ফুঁসছে কোশী, বিহারে হুড়মুড়িয়ে নদীগর্ভে তলিয়ে গেল স্কুল বাড়ি

উঃ দিনাজপুর2 hours ago

ময়নাতদন্তে বিধায়কের আত্মঘাতী হওয়ারই ইঙ্গিত, জানালেন স্বরাষ্ট্রসচিব

রাজ্য3 hours ago

আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে, প্রশ্ন উঠছে চিকিৎসা পরিষেবা নিয়েও

দেশ3 hours ago

করোনায় স্বস্তির খবর, ১.১৩ থেকে আর নম্বর কমে এখন ১.১১

শিক্ষা ও কেরিয়ার4 hours ago

কাল মাধ্যমিক ও সিবিএসই দশম শ্রেণির ফলপ্রকাশ

বাংলাদেশ5 hours ago

উভয় দেশে পণ্যবাহী ট্রেন চালুর সিদ্ধান্তের পর প্রথম ভারতীয় ট্রেন বাংলাদেশে

কেনাকাটা

কেনাকাটা2 days ago

হ্যান্ডওয়াশ কিনবেন? নামী ব্র্যান্ডগুলিতে ৩৮% ছাড় দিচ্ছে অ্যামাজন

খবরঅনলাইন ডেস্ক : করোনাভাইরাস বা কোভিড ১৯ এর সঙ্গে লড়াই এখনও জারি আছে। তাই অবশ্যই চাই মাস্ক, স্যানিটাইজার ও হ্যান্ডওয়াশ।...

কেনাকাটা5 days ago

ঘরের একঘেয়েমি আর ভালো লাগছে না? ঘরে বসেই ঘরের দেওয়ালকে বানান অন্য রকম

খবরঅনলাইন ডেস্ক : একে লকডাউন তার ওপর ঘরে থাকার একঘেয়েমি। মনটাকে বিষাদে ভরিয়ে দিচ্ছে। ঘরের রদবদল করুন। জিনিসপত্র এ-দিক থেকে...

কেনাকাটা1 week ago

বাচ্চার জন্য মাস্ক খুঁজছেন? এগুলোর মধ্যে একটা আপনার পছন্দ হবেই

খবরঅনলাইন ডেস্ক : নিউ নর্মালে মাস্ক পরাটাই দস্তুর। তা সে ছোটো হোক বা বড়ো। বিরক্ত লাগলেও বড়োরা নিজেরাই নিজেদেরকে বোঝায়।...

কেনাকাটা1 week ago

রান্নাঘরের টুকিটাকি প্রয়োজনে এই ১০টি সামগ্রী খুবই কাজের

খবরঅনলাইন ডেস্ক : লকডাউনের মধ্যে আনলক হলেও খুব দরকার ছাড়া বাইরে না বেরোনোই ভালো। আর বাইরে বেরোলেও নিউ নর্মালের সব...

নজরে