jalpaiguri market
জলপাইগুড়ি বাজারে শীতকালীন সবজি। নিজস্ব চিত্র।

রাজা বন্দ্যোপাধ্যায়, জলপাইগুড়ি: শীত আসব আসব করলেও শীতের সবজি বাজারে ওঠার সময় এখন নয়। কিন্তু ইতিমধ্যেই ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুন, মুলো এবং ধনেপাতায় জলপাইগুড়ির বাজার ভরে গিয়েছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় দামও কম। পাশাপাশি গ্রীষ্মকালীন সবজিও পাওয়া যাচ্ছে। সাধারণত নভেম্বর মাসের শেষ থেকে শীতের সবজি বাজারে উঠতে থাকে। এই সময় তেমন ওঠে না। উঠলেও বেশি দামে বিক্রি হয়।

এ বছর জলপাইগুড়ির দিনবাজারের চিত্রটা অন্য রকম। অক্টোবর মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকেই বাজারে ফুলকপি ওঠা শুরু হয়েছে। এখন বাজার ফুলকপিতে ভরে গিয়েছে। অন্যান্য বার এই সময় ৭০ থেকে ৮০ টাকা প্রতি কিলোগ্রামের দাম থাকে। এ বছর শনিবার সকালে দিনবাজারে ফুলকপির খুচরো দাম ছিল প্রতি কিলোগ্রাম ৩০ টাকা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দাম প্রতি কিলোগ্রাম ২৫ টাকায় নেমে এসেছিল। শনিবার পাইকারি দাম ছিল প্রতি কিলোগ্রাম ১৫ টাকা।

বাঁধাকপি ভুটান থেকে এবং পাহাড় থেকে সারা বছর আমদানি হয়। এ বার বরাবর দাম ছিল প্রতি কিলোগ্রাম ৪০ টাকা। শনিবার জলপাইগুড়ির বাজারে বাঁধাকপির খুচরো দাম ছিল প্রতি কিলোগ্রাম ২৫ টাকা। অন্যান্য বছর এই সময় কমপক্ষে দাম থাকে ৪০ টাকা।

শুধু এই দু’টি সবজিই না, শীতের বেগুনও বাজারে উঠেছে। খুচরো দাম প্রতি কিলোগ্রাম ২৫ থেকে ৩০ টাকা। পাইকারি দাম ১৫ টাকা। মুলোর খুচরো দাম প্রতি কিলোগ্রাম ২০/২৫ টাকা। পাইকারি দাম ১৫ টাকা। স্থানীয় টম্যাটো এখনও ওঠেনি। নাসিকের টম্যাটো বিক্রি হচ্ছে প্রতি কিলোগ্রাম ৩০ টাকা দরে। চালানির পাশাপাশি স্থানীয় ধনেপাতাও উঠেছে। দাম ১০ টাকায় ৫ আঁটি। এই সময় শীতকালীন সবজির পাশাপাশি গরমের সবজিও পাওয়া যাচ্ছে। যেমন পটল এবং স্কোয়াস। শনিবার দিনবাজারে পটলের প্রতি কিলোগ্রাম দাম ছিল ৩০ টাকা এবং স্কোয়াসের দাম ছিল প্রতি কিলোগ্রাম ১৫ টাকা।

দিনবাজারের সবজি ব্যবসায়ী নারায়ণ দত্ত এবং স্টেশনবাজারের সবজি ব্যবসায়ী খোকন পাল জানান, অন্যান্য বছর এই সময় বাজারে শীতকালীন সবজির এত আমদানি হয় না। দিনবাজারের পাইকারি সবজি ব্যবসায়ীদের মুখপাত্র উত্তম সাহা বলেন, “বিহার এবং অন্যান্য জায়গায় বৃষ্টি কম হওয়ায় এ বছর সময়ের আগেই সেই জায়গাগুলো থেকে ফুলকপি এসেছে। এখন আমদানির পাশাপাশি স্থানীয় শীতকালীন সবজি বাজারে এসে যাওয়ায় সুলভ দামে সব কিছু বিক্রি হচ্ছে।”

দিনবাজার সবজি ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক হরিবলা সাহা আশা করেন শীতকালীন সবজির দাম আরও কমবে। তিনি বলেন, “এখনও স্থানীয় সবজি পুরোপুরি ওঠেনি। উঠে গেলে দাম আরও কমবে।”

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here