যে চারজনের জন্য উপনির্বাচনে বাজিমাত করল তৃণমূল

0

ওয়েবডেস্ক: মাত্র ছ’ মাসের মধ্যে গোটা ছবিটা বদলে গেল। বিজেপিকে কার্যত তিন গোল দিয়ে বাজিমাত করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। করিমপুরে জয়ের পাশাপাশি ২১ বছরে এই প্রথম কালিয়াগঞ্জ আর খড়গপুর সদরেও জিতল তৃণমূল।

মূলত চার স্ট্রাইকারের ভরসাতেই এই কঠিন ম্যাচ জিতল তৃণমূল। কালিয়াগঞ্জ, করিমপুর ও খড়্গপুর জয়ে তৃণমূলের তিন মুখ শুভেন্দু অধিকারী, রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় ও মহুয়া মৈত্র। পাশাপাশি এই তিন কেন্দ্রেই রাজনৈতিক লড়াইয়ের পথ সুগম করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে রাজনৈতিক কৌশলী প্রশান্ত কিশোর, সৌজন্যে তাঁর সংস্থা ‘আই-প্যাক’।           

খড়্গপুর ও কালিয়াগঞ্জের মাঠে লোকসভা ভোটে এগিয়ে গিয়েছিল বিজেপি। কালিয়াগঞ্জে ৫৭ হাজার ভোটে পিছিয়ে ছিল তৃণমূল। খড়গপুরে বিজেপি এগিয়ে ছিল ৪৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে। ফলে উপনির্বাচনে তৃণমূল জিততে পারে, সেই আশা কার্যত কেউ করেনি।

জুন মাসে কালিয়াগঞ্জ ও খড়্গপুরের দায়িত্ব পান শুভেন্দু অধিকারী। তখন থেকেই শুরু হয়ে যায় তাঁর ঘুঁটি সাজানো। খারাপ ফলের কারণ নিয়ে স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে চলে প্রাথমিক বিশ্লেষণ। শুরু হয়ে যায় বাড়ি বাড়ি জনসংযোগ।

আরও পড়ুন ৩ কেন্দ্রের উপনির্বাচনের বিস্তারিত ফলাফল

প্রতি ২০টা বাড়ি পিছু দায়িত্ব দেওয়া হয় একজন করে কর্মীকে। নামানো হয় ৫০ জনের দলকে। বিধায়কদের দেওয়া হয়েছিল ব্লকের দায়িত্ব। নির্দেশ ছিল, ব্লক ছেড়ে কোথাও যাওয়া চলবে না।  

সংসদে পা রেখেই ঝোড়ো ঝকঝকে ভাষণে চমক দিয়েছিলেন মহুয়া মৈত্র। তবে উপনির্বাচনের সময়কালে করিমপুরকেই কার্যত ধ্যানজ্ঞান করেছিলেন মহুয়া। করিমপুরে গত দেড় মাস মাটি কামড়ে পড়েছিলেন তিনি।

ফলও পেয়ে গেলেন হাতেনাতে। ২০১৬-এর বিধানসভা ও ২০১৯-এর লোকসভা ভোটের থেকেও ব্যবধান বাড়িয়েছে তৃণমূল।

অন্য দিকে, কালিয়াগঞ্জ এবং খড়গপুরের দায়িত্ব পেয়েছিলেন দলের মধ্যে উজ্জ্বল ভাবমূর্তি থাকা রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। কালিয়াগঞ্জে পঞ্চায়েত ভোটে নিজেদের ভুল স্বীকার করে মানুষের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। আবেদন করেছেন, একটা সুযোগ দিন। নদিয়ায় গিয়েও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব মিটিয়েছেন। করিমপুর ও কালিয়াগঞ্জ দুই জায়গাতেই সফল রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়।

তিনটি কেন্দ্রেই জয়ের নেপথ্যে উঠে এসেছে প্রশান্ত কিশোরের সংস্থার ভূমিকা। ভোটের আগেই প্রশ্ন উঠেছিল, দিদিকে বলো কর্মসূচির প্রভাব পড়বে তো উপনির্বাচনে? খড়গপুর সদর থেকে করিমপুরে টিম আই-প্যাক যে ভাবে এই রাজনৈতিক লড়াইয়ে সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে ভোটারদের প্রভাবিত করেছে, সেটাও এই জয়ের নেপথ্যে ফেলনা নয়।

গত মে মাসে লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের প্রত্যাশা মতো ফলাফল না হওয়ার প্রায় দু’মাস পরে, “দিদি কে বলো”র প্রচার শুরু হয়েছিল চলতি বছরের ২৯ জুলাই। লোকসভায় কালিয়াগঞ্জ এবং খড়গপুর সদরে পিছিয়ে থেকেও বিপুল ব্যবধান ঘুচিয়ে জয়, একই সঙ্গে করিমপুরে তৃণমূল প্রার্থীর জয়ের ব্যবধান বাড়ানোয় এই কর্মসূচির প্রভাব রয়েছে বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের।   

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন