injured by elephant

নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি: দুর্ঘটনা ঘটে। আলোচনা হয়। কিন্তু মানুষের হুঁশ ফেরে না। শুক্রবার ডুয়ার্সে ফের হাতির হামলায় নির্মল দাস নামে এক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনা তা-ই প্রমাণ করল।

আরও পড়ুন: ছবি তোলার খেসারত, বুনো দাঁতাল পিষে মারল নিরাপত্তারক্ষীকে

গত সপ্তাহে হাতির ছবি তুলতে গিয়ে গজরাজের কোপে পড়েছিলেন সিদ্দিক রহমান নামে জলপাইগুড়ির একটি ব্যাংকের এক নিরাপত্তারক্ষী। স্যালুট ঠুকেও শেষরক্ষা হয়নি তাঁর। গোরুমারা জাতীয় উদ্যান সংলগ্ন ৩১ নং জাতীয় সড়কে হাজারো মানুষের সামনে তাঁকে শুঁড়ে তুলে আছাড় মেরেছিল ক্ষিপ্ত দাঁতাল। আজও প্রায় সেই ঘটনাই ঘটল মালবাজারের রাঙামাটি সংলগ্ন সেনাছাউনি এলাকায়।

শুক্রবার ভুট্টাবাড়ির জঙ্গল থেকে ৮টি হাতির একটি দল সেনাছাউনির পেছনের জঙ্গলে ঢুকে পড়ে। তবে তারা কোনো উৎপাত করেনি। গাছের ডালপালা চিবোতেই ব্যস্ত ছিল তারা। কিন্তু খবর পেয়েই ভিড় জমতে থাকে মানুষের। শুরু হয়ে যায় ছবি তোলা। তার সঙ্গে হাতির দলকে লক্ষ করে চিৎকার আর ঢিল ছোড়া। বিরক্ত, ক্ষিপ্ত হাতির দল মাঝেমাঝেই তাড়া করে যাচ্ছিল। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন মালবাজার ওয়াইল্ডলাইফ স্কোয়াডের বনকর্মীরা। কিন্তু তাঁরাও মানুষের ভিড় বা হাতির দল কাউকেই বাগে আনতে পারছিলেন না। এর মাঝেই নিউ মালের বাসিন্দা নির্মল দাস হাতির দলের কাছে এগিয়ে যান।

elephants in rangamatiপ্রত্যক্ষদর্শীরা জানাচ্ছেন, অত্যুৎসাহী ওই ব্যক্তি একেবারে হাতির নাগালে গিয়ে পড়েন। যদিও তাঁর হাতে মোবাইল বা ক্যামেরা ছিল না। সেই সময় একটি দাঁতাল তাঁকে শুঁড়ে তুলে আছাড় মারে। তাঁর কোমর এবং পা ভেঙে যায়। কোনো রকমে তাঁকে উদ্ধার করে মালবাজার হাসপাতালে পাঠান বনকর্মীরা। কিন্তু অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে শিলিগুড়ির উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজে স্থানান্তরিত করা হয়। যদিও সেখানে নিয়ে যাওয়ার পর তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। আগামী কাল ময়নাতদন্তের পর তাঁর দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে, জানিয়েছেন গোরুমারার বিভাগীয় বনাধিকারিক নিশা গোস্বামী।

কিন্তু বারবার বন্যপ্রাণীদের উত্যক্ত করে প্রাণহানির ঘটনার পরও কেন সাধারণ মানুষের হুঁশ ফিরছে না তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। জলপাইগুড়ির পরিবেশকর্মী রাজা রাউত জানিয়েছেন, এই ধরনের ঘটনায় বন দফতরকেই কড়া পদক্ষেপ নিতে হবে। হুঁশ ফেরাতে অত্যুৎসাহীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়া উপায় নেই, মত পরিবেশকর্মীদের।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here