asansol imam

ওয়েবডেস্ক: মানবতার আরও এক নজির সৃষ্টি করলেন সদ্য দুষ্কৃতীদের হাতে নিজের ছেলেকে হারানো আসানসোলের সেই ইমাম। সন্দেহভাজন হিসেবে কারও নামই করলেন না তিনি।

শান্তির বার্তাবাহক হয়ে গত সপ্তাহে নাম কুড়িয়েছিলেন আসানসোলের নুরানি মসজিদের ইমাম মৌলানা ইমদাদুল রশিদি। গত বুধবার উদ্ধার হয়েছিল তাঁর ছেলে শিবতুল্লার দেহ।

হিন্দুস্তান টাইমসকে ইমাম বলেন, “আমি আমার ছেলের খুনের প্রত্যক্ষদর্শী নই। আসানসোলে গোষ্ঠী সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পরেই আমার ছেলে নিখোঁজ হয়ে যায়। আমি পুলিশে নিখোঁজ ডায়েরি করেছিলাম। পুলিশ আমার ছেলের দেহ উদ্ধার করার পরে নিজের থেকেই খুনের মামলা দায়ের করেছে।”

কোনো সন্দেহভাজনের নাম যে তিনি করবেন না সে কথাও সাফ করে বলে দেন ইমাম। তিনি বলেন, “আমি আমার ছেলের খুন দেখিনি। কে তাকে খুন করেছে আমি কী করে বলব। আমার অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো নিরপরাধ মানুষের হেনস্থা হোক, আমি চাই না। কে দোষী সেটা পুলিশ তদন্ত করে বের করুক।”

তিনি যে কোনো সন্দেহভাজনের নাম করছেন না, সেটা আবার অনেকেই পুলিশের সঙ্গে অসহযোগিতার চোখে দেখছে। অবিচল ইমাম বলেন, “যে যা ভাবে ভাবুক। আমি যেটা ঠিক মনে করেছি সেটাই করছি।”

শিবতুল্লাহর দেহ উদ্ধারের পরে চরম সাহসিকতার উদাহরণ দেখিয়ে মুসলিম সম্প্রদায়ের ক্ষুব্ধ মানুষকে শান্ত করিয়েছিলেন ইমাম। বলে দিয়েছিলেন এই খুনের বদলা যদি নেওয়া হয় তা হলে আসানসোল ছেড়ে চলে যাবেন তিনি। এর পরেই হঠাৎ করে শান্ত হয়ে যায় বাতাবরণ। তিনি বলেন, “আমি আমার ছেলেকে হারিয়েছি। কিন্তু এটা বদলার কোনো কারণ হতে পারে না। এই অঞ্চলে শান্তি কোনো ভাবেই বিঘ্নিত হতে পারবে না। এক সম্প্রদায়ের মানুষ, অন্য সম্প্রদায়ের মানুষকে মারবে এটা আমি দেখতে পারব না। ইসলাম আমাদের ক্ষমা করতে শিখিয়েছে।”

রবিবার বিজেপির প্রতিনিধিদল আসানসোল ঘুরে যায়। কিন্তু তাঁরা ইমামের সঙ্গে দেখা করেননি। অন্য দিকে আসানসোলের মেয়র জিতেন্দ্র তিওয়ারি ছাড়া তৃণমূলের কোনো নেতানেত্রীও এখন তাঁর কাছে আসেননি। তবুও তাঁর কোনো ক্ষোভ নেই।

তিনি বলেন, “কারও যদি ইচ্ছে করে সে এখানে আসবে। কেউ যদি আসে আমি দেখা করব। কিন্তু কেউ যদি রাজনৈতিক ফায়দা তোলার জন্য আমার সঙ্গে দেখা করতে চায় আমি সেটা হতে দেব না।”

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here